ইতিহাস গড়লেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিদেশে ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন থেকে দেশে ফেরার অর্ধশত দিন যেতে না যেতেই জাতীয় নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় নিয়ে সরকার গঠন করলেন। শুধু তাই নয়, বিএনপির পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব গ্রহণের দেড় মাসের মাথায় প্রথম নির্বাচনেই তিনি বাজিমাত করলেন। নিজে দুটি আসনে জয়ী হওয়ার পাশাপাশি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দলকে নিয়ে গেলেন রাষ্ট্রক্ষমতায়। গ্রহণ করলেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ বিদেশে থেকে ফিরে এসে ৫০ দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার রেকর্ড ইতিহাসে নেই। গতকাল মঙ্গলবার শপথ নেয়ার পর থেকেই বাংলাদেশে শুরু হলো তারেক যুগ। ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর সমন্বয়ে ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভাও গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১০ জনকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কিছুদিন আগে মায়ের (বেগম খালেদা জিয়া) মৃত্যুর পর দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান। নির্বাচনে দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর ভালোবাসা এবং জনসমর্থন নিয়ে বাবা–মায়ের মতো দেশের হাল ধরলেন। দলের ভূমিধস বিজয়ের পরও দাম্ভিকতার পরিবর্তে দিলেন ঐক্যের ডাক। দেশে ফিরেই ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান, ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি’-ঘোষণা দেয়া তারেক রহমানের নতুন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে সামনের দিনগুলোতে পথচলা কেমন হবেÑ সেটিই এখন দেখার বিষয়। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান তারেক রহমানের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় চলার পথ মোটেই কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। বন্ধুর পথ অতিক্রম করেই তাকে এতদূর আসতে হয়েছে।
মামলার বোঝা নিয়ে দেশান্তরি হওয়া, রিমান্ড, কারাগার ও নির্বাসনে থেকে দেশ পরিচালনা সব মিলিয়ে এক কঠিন পথ পাড়ি দিয়েই রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে আরোহণ করে প্রধানমন্ত্রী হলেন। তারেক রহমান ১৭ বছর পর গত ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরে আসেন। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন ও গণভোটের পর দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন। এর মধ্য দিয়ে দুই দশক পর আবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এলো বিএনপি। আর তিন যুগ পর নতুন একজন পুরুষ রাজনীতিবিদকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেলো বাংলাদেশ। রেওয়াজ ভেঙে বঙ্গভবনের বদলে এবারের শপথ অনুষ্ঠান হয় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। সাদা জামা ও কোট–প্যান্ট পরিহিত তারেক রহমানকে এ সময় অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী এবং প্রাণবন্ত দেখাচ্ছিল। তিনি স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রবেশ করলে দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়। এর কয়েক মিনিট পরে প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন বিকেল ৪টা ৪ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরল বিএনপি। প্রথমবার সরকার পরিচালনার দায়িত্বে এসে বেশির ভাগ নতুনদের নিয়ে পথচলার পরিকল্পনা করেছেন তিনি, যা দৃশ্যমান তার মন্ত্রিসভার তালিকাতে। তবে অভিজ্ঞদেরও সঙ্গী হিসেবে রেখেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারের ৪১ জন কখনো কোনো মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেননি। বাকি ৯ জনের বিভিন্ন সংসদে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেয় নতুন সরকার। মায়ের মন্ত্রীদের মধ্যে যাদের নিজের সরকারে নিলেন তারেক রহমান। মন্ত্রী হিসেবে ২৫ জন দায়িত্ব পেয়েছেন, তাদের ১৬ জনই নতুন মুখ। নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করেছেন ৪৯ জন। নির্বাচনী আসন ও জন্মসূত্রে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগের–১৩ জন। বিপরীতে মাত্র দুজন পূর্ণ মন্ত্রী পেয়েছেন সিলেট বিভাগের বাসিন্দারা। সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে চট্টগ্রাম বিভাগ–১১ জন। পাঁচজন করে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী রাজশাহী, রংপুর ও বরিশাল বিভাগের। খুলনা ও ময়মনসিংহে চারজন করে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে এক বার্তায় অভিনন্দন জানান তিনি।
চীনা প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ এবং ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদার প্রতিবেশী। দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অনেক পুরোনো। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় জাতীয় সঙ্গীত এবং তারপর কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী পদে তারেক রহমানের নাম ঘোষণা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। তারেক রহমান নিয়ম অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে প্রথমে সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের এবং তারপর গোপনীয়তার শপথ নেন। সব শেষে শপথের নথিতে স্বাক্ষর করেন তারেক রহমান। নতুন প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন জানানোর পর মন্ত্রিপরিষদে জায়গা পাওয়া নেতাদের নাম ঘোষণা করা হয় এবং শপথ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয়। এরপর নতুন মন্ত্রীদের পর্যায়ক্রমে শপথ এবং গোপনীয়তার শপথবাক্য পাঠ করান প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন। সবশেষে প্রতিমন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করে তাদের শপথ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়ে মঞ্চে ডাকেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। প্রতিমন্ত্রীদের শপথ এবং শপথে স্বাক্ষরের জন্য অনুষ্ঠান শেষ হয়। রাষ্ট্র পরিচালনায় তারেক রহমানেরÑ ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে মন্ত্রিসভায় ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর তারেক তার নতুন সরকার সাজিয়েছেন ৪০ জন নতুন মুখ নিয়ে।
তাদের মধ্যে বিএনপি জোটের শরিক দুই নেতাও রয়েছেন। অনেকেই প্রথমবার এমপি হয়েই সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে গেছেন। তারেক রহমান নিজেও এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে এসেছিলেন তার মেয়ে দীনা আফরোজকে সঙ্গে নিয়ে। উপদেষ্টাদের মধ্যে আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, চৌধুরী রফিকুল আবরারসহ সব উপদেষ্টা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু, ভারতীয় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল, শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যম–বিষয়ক মন্ত্রী নালিন্দা জয়াসিতা, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মাসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার বড় চমক খলিলুর রহমান, যিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং ‘রোহিঙ্গা সমস্যা–বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিদেশি কোম্পানিকে বন্দর ইজারা দেয়া এবং প্রস্তাবিত রোহিঙ্গা করিডোর নিয়ে বিতর্কের মধ্যে বিএনপির অনেকে তার অপসারণও চেয়েছিলেন। পররাষ্ট্র ক্যাডারের সাবেক কর্মকর্তা খলিল এমপি না হলেও দায়িত্ব পালন করবেন টেকনোক্র্যাট হিসেবে। তিনি পেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব। টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন কুমিল্লা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিনও। গত ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদের সদস্য ইয়াছিন এবার কুমিল্লা–৬ (সদর) আসনে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তবে ওই আসনে দলের মনোনয়ন পান দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী। ইয়াছিন তখন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিলেও গত ১৯ জানুয়ারি তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক ও ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক ফুটবলার মো. আমিনুল হকও টেকনোক্র্যাট প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সরকারে জায়গা পেয়েছেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–১৬ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন আমিনুল। তবে তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবদুল বাতেনের কাছে হেরে যান। আমিনুলকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। নতুন মুখের ছড়াছড়ির মধ্যে বিএনপির অভিজ্ঞ ও পুরোনো নেতাদের অনেকেরই সরকারে জায়গা হয়নি। তাদের মধ্যে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পরিষদ স্থায়ী কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টাম–লীর নেতারাও রয়েছেন। বিএনপির চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বাদ পড়া ‘সিনিয়রদের’ মধ্যে কেউ কেউ পরে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেতে পারেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান মন্ত্রিপরিষদের জায়গা পাননি। তাদের চারজনই বিএনপির প্রয়াত নেতা খালেদা জিয়ার কেবিনেটে ছিলেন। স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার, সাবেক প্রতিমন্ত্রী সেলিমা রহমান এবং বিএনপির এবারের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খানও সরকারে আসতে পারেননি। বিএনপির সাবেক মন্ত্রীদের মধ্যে মীর মোহাম্মদ নাসিরুদ্দিন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলুর নাম আলোচনায় থাকলেও তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় তাদের নাম নেই। সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও আমান উল্লাহ আমানকেও তিনি নতুন সরকারে রাখেননি। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল টেকনোক্র্যাট হিসেবে মন্ত্রিসভায় আসতে পারেন বলে শোনা গিয়েছিল, তবে তা বাস্তবে ঘটেনি। শরিক দলের নেতাদের মধ্যে নির্বাচনে জয়ী গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা নয়াদিল্লির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এ ছাড়াও বাংলাদেশ সংসদ কমপ্লেক্সের জমকালো দক্ষিণ প্লাজায় উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনৈতিক কোরের সদস্য, বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে জাইমা রহমান এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
গত ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সরকারে ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। ২০ বছর পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে দলটি। বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় আছেন ৫০ জন। এর মধ্যে ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। টেকনোক্র্যাট তিনজন। এবারের মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ আছে অনেক, যারা আগে কখনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হননি। প্রথমবার নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নেয়া নেতাও আছেন। মন্ত্রীদের ২৫ জনের মধ্যে ১৬ জনই নতুন মুখ। প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে ২৪ জনই নতুন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এবারই প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্যরা হলেন।
পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু), মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট), আবদুল আউয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (টেকনোক্র্যাট), আফরোজা খানম, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, আসাদুল হাবিব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ফকির মাহবুব আনাম ও শেখ রবিউল আলম।
মন্ত্রীদের শপথের পর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মো. শরিফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশীদ, মো. রাজিব আহসান, মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলম, জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক নুর, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ ও আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে চট্টগ্রাম বিভাগ ও ঢাকা বিভাগ থেকে সবচেয়ে বেশি মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এতে দেখা যায়, চট্টগ্রাম থেকে সর্বোচ্চ ১২ জনকে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে ১০ জন এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দুজন আছেন। আর ঢাকা বিভাগ থেকে ১০ জনকে মন্ত্রিপরিষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অপরদিকে, মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে কম দুজনকে নেয়া হয়েছে সিলেট বিভাগ থেকে। প্রথমবার মন্ত্রী হলেন যারা : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট), আব্দুল আওয়াল মিন্টু, মিজানুর রহমান মিনু, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (টেকনোক্র্যাট), আফরোজা খানম রিতা, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের সুমন, দীপেন দেওয়ান, ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এবং শেখ রবিউল আলম।
প্রথমবার
প্রতিমন্ত্রী হলেন
যারা : এম রশিদুজ্জামান
মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম
অমিত, মো. শরিফুল আলম,
শামা ওবায়েদ
ইসলাম, সুলতান সালাউদ্দিন
টুকু, কায়সার কামাল,
ফরহাদ হোসেন
আজাদ, আমিনুল হক
(টেকনোক্র্যাট), মীর মোহাম্মদ
হেলাল উদ্দিন,
হাবিবুর রশীদ,
মো. রাজিব আহসান,
মো. আব্দুল বারী,
মীর শাহে
আলাম, জোনায়েদ সাকি,
ইশরাক হোসেন,
ফারজানা শারমিন,
শেখ ফরিদুল
ইসলাম, নুরুল হক,
ইয়াসের খান
চৌধুরী, ইকবাল হোসেইন,
এম এ
মুহিত, আহমেদ সোহেল
মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ
ও আলী
নেওয়াজ মাহমুদ
খৈয়াম।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
: পাঁচজনকে পূর্ণমন্ত্রী
ও পাঁচজনকে
প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায়
১০ জনকে
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
নিয়োগ দেয়া
হয়। পাঁচ
উপদেষ্টা হচ্ছেন,
বিএনপির স্থায়ী
কমিটির সদস্য
মির্জা আব্বাস,
নজরুল ইসলাম
খান, সিনিয়র যুগ্ম
মহাসচিব রুহুল
কবির রিজভী,
সাবেক সচিব
মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ,
ড. রাশেদ আল
মাহমুদ তিতুমীর।
আর প্রতিমন্ত্রীর মর্যদায় পাঁচ
উপদেষ্টা হচ্ছেন,
বিএনপির যুগ্ম
মহাসচিব হুমায়ুন
কবির, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল
(অব.) শামসুল ইসলাম,
ডা. জাহেদ উর
রহমান, ড. মাহাদি আমিন
এবং রেহান
আসিফ আসাদ।



