এবার নির্বাচনে মোট নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৫। তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭ জন বিজয়ী হয়েছেন। মানিকগঞ্জ–৩ (সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ পৌর ও জেলা সদরের ৮ ইউনিয়ন) আসনে বিএনপি’র প্রার্থী আফরোজা খান রিতা ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ সাইদ নূর (রিকশা) পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২৪২ ভোট।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭ জন নারী জয় পেয়েছেন। বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি থেকে ছয়জন এবং বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
গত বৃহস্পতিবার হওয়া ভোটে বিজয়ী নারী প্রার্থীরা হলেন– মানিকগঞ্জ–৩ আসনে আফরোজা খান রিতা, ঝালকাঠি–২ আসনে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, সিলেট–২ আসনে তাহসিনা রুশদীর লুনা, ফরিদপুর–২ আসনে শামা ওবায়েদ, ফরিদপুর–৩ আসনে নায়ার ইউসুফ কামাল, নাটোর–১ আসনে ফারজানা শারমিন পুতুল এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। ঝালকাঠি–২ (ঝালকাঠি সদর–নলছিটি) আসনের ১৪৭ কেন্দ্রে পোস্টাল ভোটসহ বিএনপি জোটের প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ১০০ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী এস এম নেয়ামুল করিম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৮০৫ ভোট।
সিলেট–২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনে ৭৯ হাজার ৩২১ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন ‘গুম’ হওয়া বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। ধানের শীষের প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৫৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাছির আলী পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৬৩৫ ভোট।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর আংশিক) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা (হাঁস প্রতীক) বড় ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৯৫ ভোট। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ের জুনায়েদ আল হাবিবের চেয়ে ৩৭ হাজার ৫৬৮ ভোট বেশি পেয়েছেন। এ ছাড়া নাটোর–১ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী ফারজানা শারমিন পুতুল, ফরিদপুর–২ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং ফরিদপুর–৩ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী নায়ার ইউসুফ আহমেদ বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ১৭। ২০শে জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনের পর নির্বাচন কমিশন যে তালিকা দিয়েছে, সেই তালিকা অনুসারে, নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৪। অর্থাৎ মোট প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থী মাত্র ৪ শতাংশ। দলের হয়ে প্রার্থী হয়েছেন ৬৬ জন নারী। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ১৯ জন। এর বাইরে ১ জন প্রার্থী হিজড়া জনগোষ্ঠীর।
নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর পর চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ২৯৯টি আসনের মধ্যে বেসরকারি ফলাফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় পেয়েছে বিএনপি।



