বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়েছে, দৃষ্টিও ঝাপসা, তবু নাগরিক অধিকার রক্ষার অদম্য ইচ্ছা সব বাধা দূর করতে পারলো। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে দুই নাতির কোলে উঠে এসে ভোট দিয়েছেন ১২০ বছর বয়সী তৈয়বজান। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় ধারা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই অবিস্মরণীয় দৃশ্য দেখা যায়। ভোট প্রদান শেষে তিনি উচ্ছ্বাসে বলেন, “নিজে চলতে পারি না, তাও আইছি। নিজের হাতে পছন্দের মানুষরে ভোট দিছি, খুব ভালো লাগতাছে।” কেন্দ্রে উপস্থিত অন্যান্য ভোটারদেরও অভিজ্ঞতা ছিল চোখে পড়ার মতো।
পূর্বধারা গ্রামের আকিবুল ইসলাম জানান, প্রায় ১৬–১৭ বছর পর এবার তিনি সরাসরি নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরেছেন। কেন্দ্রটিতে নারী ও পুরুষ ভোটারদের জন্য আলাদা বুথ, প্রতিবন্ধকতাজয়ী ভোটারদের জন্য ক্র্যাচের ব্যবস্থাসহ সব সুবিধা রাখা হয়েছে। ধারা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার ৪,৩০৫ জন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোজাহারুল হক জানান, ভোটের প্রথম এক ঘণ্টায় প্রায় ২০০ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ভোট চলাকালীন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল, নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্স অভিযোগ করেছেন, কিছু ভোটার কেন্দ্রে গিয়ে তালিকায় নাম না থাকার বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া উপজেলার ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকেই চোখে পড়ার মতো উপস্থিতি ছিল, আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। বয়স বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কখনো নাগরিক অধিকার নস্যাৎ করতে পারে না—এই বার্তা দিয়েই দাঁড়িয়ে আছেন তৈয়বজান।



