বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকা তারেক রহমান জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব নাকচ করেছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে তাঁর দল এককভাবে জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। গত শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান নিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালে তিনি বাংলাদেশের আইনের চোখে অপরাধ করেছেন। রায় হয়েছে, তাই তাঁকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’ শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে ফেরার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যে কোনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিকে পরিণাম ভোগ করতে হবে। জনগণ যদি কাউকে গ্রহণ করে, তবে যে কারও রাজনীতি করার অধিকার আছে।’ রয়টার্সের সাংবাদিক তোরা আগরওয়াল, কৃষ্ণ এন দাস ও রুমা পাল সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন। দলীয় কার্যালয়ে বাবা ও মায়ের ছবির নিচে বসে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি আমার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিয়ে কীভাবে সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দলে কে থাকবে?’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানি না তারা কতগুলো আসন পাবে। তবে তারা যদি বিরোধী দলে থাকে, আমি তাদের ভালো প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পাওয়ার আশা করি।’
তাঁর সহযোগীরা জানিয়েছেন, ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপি দুই–তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ের বিষয়ে নিশ্চিত। দলটি ২৯২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে এবং বাকি আসনগুলো তাদের মিত্রদের জন্য ছেড়ে দিয়েছে। তারেক রহমান সংখ্যা উল্লেখ না করে বলেন, ‘সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন আমরা পাব।’
জনমত জরিপগুলোতে বিএনপির জয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে জামায়াত জোটের পক্ষ থেকেও বড় চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত রয়েছে।
বৈশ্বিক সম্পর্ক
শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এর ফলে চীনের বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। জয়ী হলে ভারত থেকে সরে গিয়ে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কিনা– এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অংশীদার প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারে থাকলে তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশে ব্যবসা–বাণিজ্য আনতে হবে, যাতে মানুষের জীবনমান উন্নত হয়। তাই বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যারা আমার দেশের মানুষের জন্য উপযুক্ত প্রস্তাব দেবে, আমরা তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করব; কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে নয়।’
রোহিঙ্গাদের অবস্থান
বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার গত বছর জানিয়েছিল, শরণার্থীদের জন্য বাড়তি সম্পদ বরাদ্দ করার সক্ষমতা তাদের নেই এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে প্রত্যাবাসনে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছিল।
তারেক রহমান বলেন, তিনিও চান রোহিঙ্গারা দেশে ফিরে যাক, তবে সেটি শুধু নিরাপদ পরিবেশে সম্ভব। তিনি বলেন, ‘আমরা এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করব, যাতে তারা তাদের দেশে ফিরে যেতে পারে। সেখানে ফেরার পরিবেশ নিরাপদ হতে হবে। যতক্ষণ নিরাপদ না হচ্ছে, ততক্ষণ তারা এখানে স্বচ্ছন্দে থাকতে পারে।’



