ইরানের জলসীমার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের আগমন একটি ধারণাকে তীব্র করছে– মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একটি বড় সংঘাত আসন্ন। এ রণতরী মোতায়েনের মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, ওয়াশিংটন ও তেহরান এখন সরাসরি সংঘর্ষের অনেকটাই কাছাকাছি। এ উত্তেজনায় কেবল তেহরানেই নয়, পুরো অঞ্চল হতে পারে অস্থিতিশীল। তবে এবার সম্ভাব্য মার্কিন হামলায় ইরানের প্রতিক্রিয়া অতীতে যেভাবে সতর্ক ধরনের ছিল, সেভাবে নাও হতে পারে। গতকাল শুক্রবার বিবিসির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। এতে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা গেছে, হামলার শিকার হওয়ার পর তেহরান বিলম্বিত ও সীমিত প্রতিশোধকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। ২০২৫ সালের ২১ ও ২২ জুন ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে মার্কিন হামলার এক দিন পর ইরান কাতারে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানায়। ইরান হামলার আগাম সতর্কতা দিয়েছিল। ফলে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এটা ইরানের বৃহত্তর যুদ্ধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে ইরানের বর্তমান অবস্থা একেবারেই আলাদা।
পরমাণু উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করো, নয়তো আক্রমণ মোকাবিলা করো: ট্রাম্প
গতকাল শুক্রবার দ্য গার্ডিয়ান অনলাইন জানায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন– যদি মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা বিশাল মার্কিন রণতরীর ব্যবহার বন্ধ রাখতে হয়, তাহলে ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি ও বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করতে হবে। মেলানিয়া ডকুমেন্টারির প্রিমিয়ারে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
তাৎক্ষণিক জবাব দেবে ইরান: পেজেশকিয়ান
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, যে কোনো আগ্রাসনের তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি বলেন, ইরান যে কোনো আগ্রাসনের তাৎক্ষণিক ও সিদ্ধান্তমূলকভাবে জবাব দেবে। তবে তিনি এও বলেন, ইরান যুদ্ধ নয়, সংলাপ চায়। গতকাল ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আক্রামিনিয়া বলেছেন, মার্কিন রণতরীর ‘গুরুতর দুর্বলতা’ রয়েছে। এ ছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সামরিক সম্পদ তাদের মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায়।
সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় ইরানের সামরিক বাহিনী
সেন্টার ফর মিডল ইস্টার্ন স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো আবাস আসলানি আলজাজিরাকে বলেন, সংঘাত এড়াতে সম্মিলিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ইরানের সামরিক বাহিনী ‘সর্বোচ্চ সতর্ক মুডে’ রয়েছে। তারা আসন্ন মার্কিন আক্রমণ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সার্বভৌমত্বকে সম্মান দেখাতে বলেছে তুরস্ক
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত অন্য দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। সেই সঙ্গে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, তারা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবেন।



