নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহের ভালুকায় একই দলের দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় হামলা–পাল্টা হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিকাল থেকে রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলাকালে সড়ক অবরোধ, উভয় প্রার্থীর অফিস, কর্মী–সমর্থকদের ব্যক্তিগত অফিসে হামলা, কয়েকটি গাড়ি, হোন্ডা ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধরা। এই সময় উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। সহিংসতার সংবাদে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সারা ভালুকায়। হামলার ঘটনায় উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, ২৬, ২৭ ও ২৮শে জানুয়ারি ভালুকা মডেল থানায় উভয় প্রার্থীর পক্ষ থেকে দু’টি করে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। দায়েরকৃত মামলায় ধানের শীষের প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ও স্বতন্ত্র হরিণ প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ মোর্শেদ আলমসহ ৪০৯ জনকে শনাক্ত ও ২ হাজার ৩ শত জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে রুহুল আমিন মাসুদ ও রফিক উদ্দিন রফিক বাদী হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম সহ ২১৮ জনকে শনাক্ত ও ৯ শত জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেন। অপরদিকে আতিকুল ইসলাম ও মো. আমান উল্যাহ বাদী হয়ে ধানের শীষের প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুসহ ১৯১ জনকে শনাক্ত ও ১ হাজার ৪ শত জনকে অজ্ঞাত আসামি করে পৃথক অপর দু’টি মামলা দায়ের করেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২৫শে জানুয়ারি বিকালে উপজেলার বাটাজোর বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মোর্শেদ আলমের নির্বাচনী গণসংযোগে বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের কর্মী–সমর্থকদের মধ্যে হামলা–পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। পরে এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় সাধারণ ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দলীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা যায়, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ–১১ ভালুকা আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রার্থী ছিলেন ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ও মোহাম্মদ মোর্শেদ আলমসহ চারজন। এর মধ্যে ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু দলীয় মনোনয়ন পেয়ে “ধানের শীষ” প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অপরদিকে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত মানবিক ভালুকা গঠনের স্লোগান দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে “হরিণ” প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম।



