যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে তীব্র শীত, হিমশীতল বৃষ্টি এবং ভারী তুষারঝড় জনজীবন বিপর্যস্ত করেছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হওয়ায় দেশটির বিমান যোগাযোগব্যবস্থা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। উড়োজাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্যমতে, ওইদিন বিকেল পর্যন্ত নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ১৯ শতাংশ বাতিল হয়েছে। ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ার ডটকম জানিয়েছে, সোমবার ৫ হাজার ২২০টি ফ্লাইট বাতিল এবং সাড়ে ৬ হাজারের বেশি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। এর আগে রোববার ১১ হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছিল, যা করোনা মহামারির পর এক দিনে সর্বোচ্চ। মঙ্গলবার আরও অন্তত ২৮৫টি ফ্লাইট আগাম বাতিল করা হয়েছে। নিউ মেক্সিকো থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় এক ফুট পুরু তুষারের আস্তরণ জমেছে। এই দানবীয় ঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে স্থবিরতা নেমে এসেছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতেও কিছু এলাকায় চরম শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। ফ্লাইট বিপর্যয়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমেরিকান এয়ারলাইনস। গত সোমবার তাদের ১ হাজার ১৮০টি ফ্লাইট বাতিল ও ১ হাজার ১৩০টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়। এর বাইরে রিপাবলিক এয়ারওয়েজ, জেটব্লু ও ডেলটা এয়ারলাইনসও ব্যাপক শিডিউল বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, হিমশীতল বৃষ্টি ও তুষারপাতের কারণে বোস্টন, নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন প্রধান বিমানবন্দর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সোমবার সর্বোচ্চ ৭১ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। আমেরিকান এয়ারলাইনস জানিয়েছে, তাদের ৯টি প্রধান কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি ঝড়ের কবলে পড়েছে। বিশেষ করে ডালাস–ফোর্ট ওয়ার্থ বিমানবন্দরে বরফ জমে যাওয়ায় কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে।
তবে এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কর্মীরা দিনরাত কাজ করছেন। এদিকে বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে যাত্রীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এয়ারলাইনসগুলোর কাছে সাহায্য চেয়ে যাচ্ছেন। ইউনাইটেড এয়ারলাইনস জানিয়েছে, তারা ধীরে ধীরে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। রোববারের তুলনায় সোমবার তাদের বাতিল হওয়া ফ্লাইটের সংখ্যা অনেকটাই কমেছে। আর্থিক ক্ষতির দিক থেকেও এই ঝড় বড় আঘাত হানতে যাচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস ওয়েবসাইট আকুওয়েদার জানিয়েছে, এটি ২০২৫ সালের শুরুতে লস অ্যাঞ্জেলেসের দাবানলের পর সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ধরা হচ্ছে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এই ঝড়ে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১০ হাজার ৫০০ থেকে ১১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের মধ্যে হতে পারে।



