বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের (বাংলাদেশ–ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড বিআইএফপিসিএল) ৯ জন ভারতীয় কর্মকর্তা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই দেশত্যাগ করেছেন। পূর্বানুমতি ছাড়া এভাবে চলে যাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি এরই মধ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। প্ল্যান্ট সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সকালে খাবারের টেবিলে ওই কর্মকর্তাদের না পেয়ে কর্তৃপক্ষ খোঁজখবর নিতে শুরু করে। একপর্যায়ে জানা যায়, তারা কাউকে না জানিয়েই প্ল্যান্ট থেকে বের হয়ে গেছেন। একই দিন দুপুরের দিকে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে তাদের ভারতে প্রবেশের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর প্রকল্প পরিচালক রামানাথ পুজারীকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা জানিয়েছেন, ‘নিরাপত্তাহীনতার’ অজুহাতে তারা বাংলাদেশ ছেড়েছেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্ল্যান্ট এলাকায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসারসহ চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এভাবে চলে যাওয়াটি রহস্যজনক।
চলে যাওয়ার আগে তারা কখনোই নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো অভিযোগ বা উদ্বেগের কথা কর্তৃপক্ষকে জানাননি। এমন ঠুনকো অজুহাতে হুট করে দেশ ত্যাগ করায় কর্তৃপক্ষ বিস্মিত। দেশ ছেড়ে যাওয়ার ভারতীয় কর্মকর্তারা হলেন ন্যাশনাল থারর্মার পাওয়ার কোম্পানির (এনটিপিসি) ভারত থেকে পেছনে পাওয়ার প্লান্ট মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্লান্টের কর্মরত জিএম সিউজ প্রতিম ভর্মন, জিএম বিশ্বজিৎ মণ্ডল, জিএম এন–সুরায়া প্রকসা রায়, এজিএম কেসাবা পলাকী, ডিজি এম সুরেয়া কান্ত মন্দেকার, ডিজিএম সুরেন্দ্র লম্বা, এজিএম পাপ্পু লাল মিনা, ডিজিএম অর্নিবান সাহা, সিএফও ইমানুয়েল পনরাজ দেবরাজ। রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উপ–মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) আনোয়ারুল আজিম বলেন, সকালে ডাইনিংয়ে তাদের না পাওয়ায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, তারা অনুমতি ছাড়াই ভারতে চলে গেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কী কারণে তারা এভাবে চলে গেলেন, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



