বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলন শেষে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দিকে একটি বিশাল যুদ্ধজাহাজ বহর পাঠিয়েছে।’ ইরানকে নিবিড় নজরদারিতে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজের একটি বড় বহর দেশটির উদ্দেশে এগিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘এটি অবশ্যম্ভাবী কোনো সংঘাতের ইঙ্গিত নয়, তবে প্রয়োজন হলে এই বহর ব্যবহারের প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে এবং ইরানকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’ ট্রাম্পের ভাষায়, তিনি নিশ্চিত করে বলতে চান না, কোনো ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে কিনা। তবে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতেই এই সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যুদ্ধবিমান বহনকারী রণতরি ইউএসএস আব্রাহামসহ একাধিক গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ ইতোমধ্যে ইরানের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই বহর ইরানের উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অদূর ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই এই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতে যুদ্ধজাহাজের বহরে উন্নত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সংযুক্ত করা হয়েছে। এই সামরিক বহরে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিস্ফোরক রয়েছে বলেও জানিয়েছেন ওইসব কর্মকর্তারা। তাদের ভাষায়, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতেই এই শক্তিশালী সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহেই এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে এই যুদ্ধজাহাজ বহর ইরানের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করার এই পদক্ষেপ অঞ্চলটিতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।



