মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের একামধু গ্রামের মনু নদীর তীরের বাসিন্দা এক সময় ছিলেন সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। জেগে থাকতেন রাত দিন। কিন্তু বিডিআর বিদ্রোহের সময় চাকরিচ্যুত হন তিনি। পরে বাড়িতে কী করবেন এ নিয়ে সব সময়ই চিন্তিত থাকতেন। বিভিন্ন ব্যবসারও উদ্যোগ নেন। পরে ঝুঁকে পড়েন বরই চাষে। আর এইটিই বদলে দেয় তার ভাগ্যের চাকা। নতুন জাতের বলসুন্দরী বরই এক বিঘা জমি দিয়ে শুরু করলেও এখন তিনি বিশাল বাগানের মালিক। গাছে ঝুলছে কচিকাঁচা বরই। এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। চলতি মৌসুমে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন বরই চাষি গিয়াস। উপজেলার একামধু গ্রামের হবিব মেম্বারের ছেলে গিয়াস জানান, পিলখানার বিডিআর বিদ্রোহের পর বিনা অপরাধে চাকরি হারাই। এরপর থেকে ৫ সদস্যের পরিবার নিয়ে অভাবের দিন শুরু হয়। দিশাহারা হয়ে পড়ি আমি। তিনি আরও বলেন, মনের শক্তি আর নিজস্ব পরিকল্পনা নিয়ে শুরু করি বাড়ির পাশের জমিতে শাক–সবজি চাষ। জমির উর্বরতা ভালো দেখে পাশাপাশি ফল চাষের আগ্রহ সৃষ্টি হয় আমার। ২০২১ সালে নিজের আয় থেকে এক বিঘা জমি ক্রয় করি। ওই বছরই জুন মাসে যশোর থেকে নতুন জাতের চারা এনে রোপণ করি আপেল কুল ও বলসুন্দরী বরই। আমার বাগানে সাত মাসেই গাছে বরই আসে। প্রথম বছর এক বিঘা জমিতে ২০০ গাছের চারা রোপণ করি। মোট খরচ হয়েছিল ৪০ হাজার টাকা। সাত মাসেই ফল আসে। প্রতি গাছে ৩ কেজি থেকে প্রায় এক মণ পর্যন্ত বরই আসে। ওই বছর আমি কয়েক লাখ টাকার রেড আপেল কুল বিক্রি করি। তার বাগান থেকেই প্রতিদিন ব্যবসায়ীরা ১২০ থেকে ১৫০ টাকা পাইকারি দরে প্রতি কেজি বরই নিয়ে যায়। এতে তারাও যেমন লাভবান হচ্ছে আমিও লাভবান হচ্ছি আলহামদুলিল্লাহ। বাগান দেখতে আসা শিক্ষক আব্দুল আজিজ (৫৫) সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, অল্প দিনে গাছে বরই ধরেছে–বিষয়টি অবাক হওয়ার মতো। তার পরিশ্রমী উদ্যোগে সে আজ বরই চাষে সফল হয়েছেন। তার বরই বাগান দেখে আরও অনেকেই অনুপ্রাণিত হচ্ছে। একই এলাকার বাছির মিয়া বলেন, আপেল কুল লাভজনক হওয়ায় গিয়াসকে অনুসরণ করে আমিও নতুন জাতের আপেল কুল চাষ করছি। এতে দ্রুত ও অধিক হারে ফল ধরায় আমি লাভবানও হচ্ছি। উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, সিলেট অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন জাতের বরই চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন নতুন জাতের উদ্ভাবন হচ্ছে। আমরা চাষিদের সহযোগিতা করে আসছি। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তার এলাকায় বরই চাষে আগ্রহীদের উৎসাহিত করছি।



