জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র–জনতার দাবি অনুযায়ী পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি গোলাম মোর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এর কাঠগড়ায় এ কথা জানান পলক। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ২ আগস্ট জুলাই আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে আমি পদত্যাগ করতে চেয়েছিলাম। মন্ত্রিসভার বৈঠকে আমি ছাত্রদের পক্ষে কথা বলেছি। এ ছাড়া আমার পদত্যাগের সিদ্ধান্তটি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়েছিলাম। জুলাই অভ্যুত্থানে ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যায় উস্কানিসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলক ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের অব্যাহতি চেয়ে শুনানি শেষ করেন আইনজীবীরা। এদিন পলকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী লিটন আহমেদ ও জয়ের আইনজীবী (রাষ্ট্র নিযুক্ত) মনজুর আলম।
এ মামলায় অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ২১ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল–১। এদিন শুনানিতে পলকের আইনজীবী বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ করার ক্ষমতা সরকার বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ। এতে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে জুনাইদ আহমেদ পলকের কোনো দায় নেই। সুতরাং তাঁর অব্যাহতি চাই। পলাতক আসামি জয়ের আইনজীবী মনজুর আলম বলেন, ‘জয়ের নির্দেশে পলক ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে উস্কানি ও প্ররোচনা দেন’ এমন অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু পোস্টে জয়কে ট্যাগ করেননি পলক। এমনকি জয়ও কথিত পোস্টে লাইক–কমেন্ট কিংবা শেয়ার দেননি। এ ছাড়া সরকারের অবৈতনিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন জয়। তাঁর অধীনে কোনো মন্ত্রণালয় ছিল না।
সুতরাং এ মামলায় আনা অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ট্রাইব্যুনালকে মনজুর আলম বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয়ের মা শেখ হাসিনা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এ জন্য ভবিষ্যতে যে কোনো দায়িত্বে আসতে পারেন তিনি। তাই তাঁকে এ মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করছি।



