দীর্ঘদিন পর আবার এক বিন্দুতে মিলিত হচ্ছেন বলিউডের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত শাহরুখ, সালমান ও আমির। অবশ্য এক সিনেমায় কাজ করছেন না তারা! ২০১৮ সালের পর ফের ২০২৬ সালে তিন খানই বলিউডের রুপালি পর্দায় তাদের সিনেমা নিয়ে হাজির হবেন। তিন জনই ষাটের কোটায় পা রাখলেও তাদের নিয়ে দর্শকের উন্মাদনা যেন এখনো সেই আগের মতোই আছে। যদিও শেষবার যখন একই বছরে তিনজনের সিনেমা মুক্তি পায়, সেই স্মৃতি কারো জন্যই সুখকর ছিল না। সেবছর মুক্তি পাওয়া সালমানের ‘রেস ৩’, শাহরুখের বহুল আলোচিত ‘জিরো’ আর আমিরের ‘থাগস অব হিন্দুস্তান’ বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। এরপরই যেন বলিউডে রীতিমতো হায় হায় রব পড়ে যায়। তারপর সিনেমা হলে করোনার ধাক্কার সঙ্গে দক্ষিণী সিনেমার দাপটে খানদের রাজত্ব যেন হুমকির মুখেই পড়ে যায়। সঙ্গে দর্শকের ওটিটিমুখী হওয়ার প্রভাব তো ছিলই।
সেখান থেকে ধীরে ধীরে আবারও নিজেদের অবস্থান জানান দিতে শুরু করেছে হিন্দি চলচ্চিত্রজগত। ২০১৮ সালের সেই ক্ষতি শাহরুখ খান ঠিকই সুদে–আসলে পুষিয়ে দিয়েছে ২০২৩ সালে। সেবছর বলিউড বাদশাহর মুক্তি পাওয়া ‘পাঠান’, ‘জওয়ান’ ও ‘ডাংকি’ ২০০০ কোটি রুপির বেশি আয় করে তার স্টারডমকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে। এখন কেবলই নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার যাত্রায় আছেন এ অভিনেতা। বিভিন্ন সময়ে তো তিনি বলেছেনই, এখন আর তার প্রমাণ করার কিছু নেই বরং সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোনোটাই আসল চ্যালেঞ্জ। এ বছরই অভিনেতার বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘কিং’ মুক্তির কথা রয়েছে। অন্যদিকে, চলতি বছরে সালমান ফিরছেন আরেক আলোচিত ছবি ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’ নিয়ে। এই সিনেমায় চেনা সালমানকে দেখা যাবে না। কারণ এখানে ভাইজানের সিনেমার সেই চিরচেনা স্টান্ট নেই, নেই দর্শকের হাততালি দেওয়ার মতো সংলাপ। আছে বরফে ঢাকা সীমান্ত, আছে নিঃশব্দ লড়াই। সিনেমা নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে এই অভিনেতা বলেছিলেন, এখন তিনি এমন গল্প করতে চান, যেগুলো তার মনের ভেতর থেকে তাকে চ্যালেঞ্জ করে।
অনেকের ধারণা ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’ হয়তো তার সেই চ্যালেঞ্জেরই প্রতিফলন। আর ইন্ডাস্ট্রির মি. পারফেকশনিস্ট হিসেবে পরিচিত আমির খান তো সবসময়ই ব্যতিক্রমী যাত্রার পথিক হিসেবে পরিচিত। ‘লাল সিং চাড্ডা’র পর দীর্ঘ বিরতিতে থাকা এই অভিনেতা এবার ‘হ্যাপি প্যাটেল খাতারনাক জাসুস’ ও ‘লাহোর ১৯৪৭’ সিনেমা দুটি নিয়ে বলিউডে প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় আছেন। যদিও এ দুই সিনেমায় তিনি ক্যামেরার সামনে থাকবেন কম, কিন্তু গল্পের দর্শনজুড়ে থাকবেন বেশি। সিনেমা দুটি প্রযোজনাও করেছেন আমির খান। তাই বলাই যায়, ঠিক আট বছর পর ২০২৬ আবারও ফিরে এসেছে প্রায় একই বিন্যাসে। সিনেমার সেট আর গল্প আলাদা হলেও আবারও সেই একই কিংবদন্তিদের দেখার অপেক্ষায় গোটা বলিউড। এবার কি শাহরুখ খান, সালমান খান ও আমির খান একসঙ্গে সফলতার গল্প লিখতে পারবে?



