শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ব্যাংকিং অ্যালমানাকের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে তিনি বলেন, ধারাবাহিকভাবে সময় নিয়ে কাজ করলে বাংলাদেশ আরও মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে সক্ষম হবে। অর্থ উপদেষ্টা বলেন, নীতি নির্ধারণ কখনোই জনপ্রিয়তার চাপে পড়ে করা উচিত নয়। দেশের সামগ্রিক স্বার্থকে সামনে রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। নীতিনির্ধারণে সবাইকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয় এবং এখানে ভুল থাকার সম্ভাবনাও থাকে। তিনি বলেন, অনেক সময় সুদের হার কমানো বা কর কমানোর মতো পপুলিস্ট দাবি আসে। সবাই নিজের সুবিধার কথা ভাবে, কিন্তু ‘আমরা’ শব্দটি ব্যবহার করে না। অথচ নীতি একজনের জন্য নয়, পুরো দেশের জন্য প্রযোজ্য। তিনি আরও বলেন, পলিসি পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে নানা ধরনের চাপ আসে। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বড় চিত্রটি দেখতে হয়।
ভুল থাকতে পারে, সবাইকে খুশি করা যাবে না—এটাই বাস্তবতা। নিজের ভূমিকা প্রসঙ্গে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ভবিষ্যতে তিনি ব্যর্থ কোনো প্রতিষ্ঠানে যাবেন কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে গভর্নর হিসেবে তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ হবেন—এমনটা তিনি মনে করেন না। তাঁর মতে, কিছু কাজের ফল সামনে দৃশ্যমান হবে। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই সংকট কোনো একক সরকার বা ব্যক্তির সৃষ্টি নয়। এটি দীর্ঘদিনের উন্নয়ন প্রক্রিয়ার অংশ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবাই এতে অবদান রেখেছে এবং ভবিষ্যতেও সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশকে একেবারে নেতিবাচকভাবে দেখার প্রবণতা ঠিক নয়। ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ৫৪ বছরে বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়নি। দেশটি অনেক চড়াই–উতরাই পেরিয়ে এসেছে, তবুও সামনে এগিয়ে যাচ্ছে।
সিঙ্গাপুরের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর হয়ে যাবে—এমন দাবি তিনি করছেন না। তবে চেষ্টা ও ধৈর্যের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। অনুষ্ঠানের শেষদিকে তিনি উপস্থিত সবাইকে দেশের জন্য কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, মানুষের জন্য কাজ করাই সবচেয়ে বড় বিষয়, আর ভবিষ্যতেও সবাইকে একসঙ্গে বাংলাদেশের কল্যাণে কাজ করে যেতে হবে।



