দুই–তিন দিনের ব্যবধানে কিছুটা চড়া শীতের সবজি বাজার। বেশ কয়েকটি সবজির কেজিতে দর বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা। ভরা মৌসুমেও টমেটোর দাম নাগালের বাইরে। ব্যবসায়ীরা জানান, প্রচণ্ড শীতের কারণে উৎপাদন এলাকায় কৃষক ক্ষেত থেকে সময় মতো ও চাহিদা অনুযায়ী সবজি তুলতে পারছেন না। এ কারণে ঢাকায় জোগান কম। এর প্রভাব পড়ছে দামে। তাদের ভাষ্য, এখন ভরা মৌসুম, তাই বাজার অস্থির হওয়ার সুযোগ নেই। তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেই সবজির দাম কমে যাবে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর নাখালপাড়া, আগারগাঁও কাঁচাবাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মানভেদে শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৭০ টাকা। যা তিন দিন আগে বিক্রি হয়েছিল ৩০ থেকে ৫০ টাকা দরে। অর্থাৎ কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। মুলা কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। দুই– তিন দিন আগে মাঝারি আকারের প্রতি পিস ফুলকপি কেনা গেছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। গতকাল প্রতি পিস কিনতে অতিরিক্ত খরচ করতে হয়েছে পাঁচ টাকা। বেগুন কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। এভাবে অন্যান্য সবজির দরও বাড়তি দেখা গেছে। ফেব্রুয়ারি থেকে পুরোদমে উৎপাদন শুরু হবে ঢ্যাঁড়শ ও পটোলের। তবে সবজি দুটির আগামজাত এসেছে বাজারে। দামও চড়া। প্রতি কেজি ঢ্যাঁড়শ ৯০ থেকে ১০০ এবং পটোল ১০০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা। কিছুটা বেড়েছে আলুর দাম।
মানভেদে নতুন আলুর কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে। বাজারে কাঁচা ও পাকা দুই ধরনের টমেটো পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি কেজি কিনতে গেলে ক্রেতাকে খরচ করতে হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। সাধারণত বছরের এ সময় টমেটোর কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে থাকার কথা। এ ছাড়া কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে শসার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। নাখালপাড়ার সবজি ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া বলেন, কুয়াশার কারণে টমেটো ধীরে পাকছে। এ জন্য বাজারে কম আসছে। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী দুলাল হোসেন বলেন, শীতের কারণে কৃষক সকালে ক্ষেত থেকে সবজি তুলতে পারছেন না। দুদিন ধরে বাজারে সবজি কম আসছে। তাপমাত্রা বাড়লে সবজির সরবরাহ দ্রুত বাড়বে, দামও কমে যাবে। এদিকে ঢাকায় দাম বাড়লেও উৎপাদন এলাকায় তেমন দাম বাড়েনি। বগুড়ার ধুনটের কৃষক শাহ আলম জানান, তীব্র শীতের কারণে বেশ কুয়াশা পড়ছে। বলতে গেলে দুপুরের আগে সূর্য দেখা যায় না। শীতের কারণে ক্ষেতে নামা যাচ্ছে না। এ জন্য সবজি কম তোলা হচ্ছে। কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, শীতের অজুহাতে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াচ্ছেন।
প্রকৃতপক্ষে কৃষক বাড়তি দাম পাচ্ছেন না। সবজির বাজার চড়া হলেও ডিম ও মুরগির বাজারে পরিবর্তন দেখা যায়নি। গত সপ্তাহের মতোই প্রতি ডজন ফার্মের বাদামি রঙের ডিম ১০৫ থেকে ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লারের কেজি ১৫৫ থেকে ১৬৫ টাকা আর সোনালি জাতের মুরগির কেজি কেনা যাচ্ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায়।



