বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে ভোটার তালিকায় নিজের নাম তোলা ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। গতকাল সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের পর নেতাকর্মী পরিবেষ্টিত হয়ে আগারগাঁওয়ে যান তিনি। সেখানে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে তিনি ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হওয়া ও জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করেন। এদিকে তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও গতকাল ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করলেন। এখন তারা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাবেন। ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, তারেক রহমান ও তার মেয়ে জাইমা রহমান শনিবার ভোটার নিবন্ধন ফর্ম জমা দিয়ে নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ করেছেন। তারা ঢাকা–১৭ আসনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন। ‘ফর্ম–২’ পূরণ করে তারা ছবি তুলেছেন, বায়োমেট্রিক ও আইরিশ তথ্য দিয়েছেন এবং ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করেছেন। রবিবার কমিশনে বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি চূড়ান্ত হবে।
ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯–এর ১৫ ধারার অধীনে কমিশনের এখতিয়ার রয়েছে যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক বা ভোটার হওয়ার যোগ্য নাগরিককে ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সকালে গুলশানের বাসা থেকে বের হন তারেক রহমান। তবে গত দুই দিনের মতো গতকাল লাল–সবুজ রঙে সাজানো বাসে যাননি তিনি। সাদা রঙের একটি গাড়িতে (এসইউভি) চড়ে যান তিনি, গাড়িটি ছিল ফুল দিয়ে সাজানো। আজ বেলা ১টার দিকে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের পেছনে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনে যান তারেক রহমান। ওই ভবনের নিচতলায় একটি কক্ষে প্রবাসী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের এনআইডি সংক্রান্ত সেবা দেওয়া হয়ে থাকে। ওই কক্ষে গিয়ে ছবি তোলা, দশ আঙুলের ছাপ দেওয়া, চোখের আইরিশ (চোখের মণির ছাপ) ও স্বাক্ষর করার কাজ করেন তারেক রহমান। এ সময় নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। এক–এগারো পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালে বাংলাদেশে প্রথম ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরি হয়। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান কারামুক্ত হয়ে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর লন্ডনের উদ্দেশে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন। বিদেশে থাকায় তখন ভোটার তালিকায় তিনি অন্তর্ভুক্ত হননি। এর পর আওয়ামী লীগের শাসনকালে তিনি দেশে আসেননি, ভোটারও হননি। তারেক রহমান আগামী নির্বাচনে পৈতৃক এলাকা বগুড়ার সদর (বগুড়া–৬) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাঁর পক্ষে স্থানীয় নেতারা ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।



