জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জাপা) নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিলেও প্রার্থী সংকটে ভুগছে। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় নৌকার ভোট পেয়ে লাঙল অভাবনীয় কিছু করতে পারে–এমন সম্ভাবনার কথা বলা হলেও জাপার মনোনয়ন নিয়ে আগ্রহ নেই। গত বুধবার থেকে শুরুর পর পাঁচ দিনে দলীয় মনোনয়ন ফরম তুলেছেন ৬৭ জন। এ কারণে তিন দিন সময় বাড়ানো হয়েছে। এদিকে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন জাপার জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট আজ মঙ্গলবার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবে। এই জোটের ৬টি নিবন্ধিত দলের একটি আওয়ামী লীগের ১৪ দলের শরিক আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি–জেপি। অন্যগুলো হলো– বিএনএম, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, গণফ্রন্ট, মুসলিম লীগ ও তৃণমূল বিএনপি। আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) বৃহত্তম সুন্নি জোট আসতে পারে জেপি–জাপার (আনিস) জোটে।
লাঙ্গলে আগ্রহী কম
আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে গত চারটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে ফ্যাসিবাদের দোসর তকমা পায় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টি (জাপা)। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিএনপিবিহীন একতরফা নির্বাচনে অংশ নিয়ে জাপা ৩৪ আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হয়েছিল; যোগ দেয় সরকারেও। ২০১৮ এবং গত বছরের নির্বাচনেও তারা বিরোধী দল হয়।
আওয়ামী লীগের সুরে কথা বলে ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ তকমা পাওয়া জাপা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর চাপে পড়েছে। অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতৃত্বের আপত্তিতে তাদের কোথাও ডাকা হচ্ছে না। একাধিকবার জাপা কার্যালয়ে হামলা হয়েছে। জি এম কাদেরসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা মামলার আসামি হয়েছেন। নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধে অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ নেতাকে নিয়ে একই নামে দল করেছেন ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম।
এবার ৬৭টি ফরম মনোনয়ন ফরম বেচার তথ্য কেন্দ্রীয় কার্যালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর দাবি, সংখ্যাটি দুই শতাধিক। তিনি বলেছেন, ২৫ বা ২৬ ডিসেম্বর প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হবে। চেষ্টা থাকবে ৩০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণার।
জি এম কাদেরের সঙ্গে থেকে যাওয়া জ্যেষ্ঠ নেতারাও নির্বাচনে আগ্রহী নন। একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেছেন, গতবার সাড়ে ৩ কোটি টাকা খরচ করেও ভোট আসেনি। এবার পরিস্থিতি আরও খারাপ। নৌকার ভোট লাঙ্গলে আসবে–এ সম্ভাবনা নেই।



