গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, নাটক ও ইতিহাস এমন কি ধর্মগ্রন্থ বিরচিত হয়েছে বা হয়ে পর্যন্ত থাকে একই উদ্দেশ্য নিয়ে, তবে পরিবেশনা পদ্ধতি ভিন্নতর।
ঐতিহাসিক ঘটনাপুঞ্জি মানুষের কথা বলে, এবং প্রজাবাৎসল্য রাজ–রাজনদের পক্ষেই ওকালতি করে থাকে; আবার অত্যাচারি রাজাদের ইতিহাস রাজা বাদশাহদের তীরোভাবের পূর্বে তেমন ইতিহাস প্রকাশ করা সম্ভব হতো না।
গল্প উপন্যাস নাটক প্রবন্ধ ও কবিতা সভ্যতার ধারক বাহক, মানুষকে তার অধিকারের প্রশ্নে চেতনা দান করে, যুগকলাপ পূর্ব–পশ্চিম, উত্তর–দক্ষিণ, অতীত–বর্তমান জুড়ে রাখে সেতু বন্ধনের মতো। সাহিত্যকে যদি সমহীতকর কিছু মনে করা হয় তবে ক্ষতি কি তাতে! মানুষের কল্যাণ সাধন, পরষ্পরের সাথে মিলন ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে জুড়ে দেয়া অবশ্যই সাহিত্যের দায়িত্ব; যেমন আধারপুরী আলোকিত করে রাখে প্রদীপ, একইভাবে ব্যক্তিকে আলোকিত করে তার অর্জিত সুশিক্ষা।
মূলত: মানব সম্প্রদায় অতীব উত্তম সৃষ্টি; যে কথা বলা না হলে নিরর্থক বাচালতা হবে। মানুষ নিজে নিজেকে সৃষ্টি করে নি; তা উন্নত বিশ্ব বলুন আর জড়াজীর্নতার মধ্যে ডুবে থাকা কদর্য মানুষের কথাই বলুন, মানুষ খোদার নিজের হাতের অভিজাত সৃষ্টি। তিনি মানুষ দেখে হলেন মহাখুশি। তাঁর অন্যান্য সৃষ্টির উপরে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার দান করলেন। ধর্মীয় গ্রন্থে মানুষকে নিয়ে যেমন কথা বলে, একইভাবে বিশ্বের তাবৎ রচনা মানুষকে কেন্দ্রে রেখেই তবে হয়েছে বিরচিত।
অত্র পুস্তিকাটি গদ্যপদ্য উভয় সম্ভার নিয়ে পাঠকদের করকমলে সঁপে দেয়া হলো। বাস্তবে প্রত্যেকটি লেখা অতীত বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা মূখর থাকে, যার ফলে বর্তমানকার মানব সমাজ দেখে শুনে পথ চলতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে।
বাদশাহ সলোমন বলেছেন, জগতের আহাম্মক ব্যক্তিরাই হলো তার শিক্ষা গুরু! একই পুস্তকে দুটি পদ্ধতিতে আমার হৃদয় নিংড়ানো সুখ দুঃখ আনন্দ–বেদনার অভিজ্ঞতা ক্ষাণিকটা তুলে ধরতে সৎসাহস নিলাম। বোদ্দা পাঠককুল বোধ করি বিব্রতবোধ করবেন না এমন পঠনীয় বিষয় পাঠের মাধ্যমে। বিনয়াবনত লেখক–



