মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ছয়টি বিশাল আকৃতির অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। লোকালয় থেকে একের পর এক অজগর উদ্ধারের খবরে আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মাঝে। এসব অজগর হাওরে মাছ ধরার জাল এবং ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া অজগরগুলোর বেশিরভাগই আটকা পড়েছে বাগান ও হাওর সংলগ্ন কৃষি জমির ফসল রক্ষার জন্য দেওয়া জালে। সর্বশেষ শুক্রবার পৃথক দুটি এলাকা সদর ইউনিয়নের নওয়াগাঁও এবং হাইল হাওরের ভূবন বেরি অঞ্চল থেকে দুইটি অজগর উদ্ধার করে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী ফাউন্ডেশনের সদস্যরা। সেদিন দুপুরে হাইল হাওরের ভূবন বেরি এলাকায় মাছ ধরার জাল তুলতে গিয়ে জেলেরা আঁতকে ওঠেন। জালের ভেতরে শক্তভাবে জড়িয়ে থাকা অজগরটি দেখে তারা দ্রুত বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী ফাউন্ডেশনকে খবর দেন।
খবর পেয়ে সংগঠনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীব দেব ও রিদন গৌড়কে সঙ্গে নিয়ে সাপটি উদ্ধার করেন। উদ্ধারকারীরা জানান, উদ্ধার হওয়া অজগরগুলো বিশাল আকৃতির। এদের কোনো কোনোটার দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১২ ফুট এবং ওজন ২৫ কেজির মতো। উদ্ধার হওয়া সব অজগরই পরে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শ্রীমঙ্গল রেঞ্জের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক বলেন, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়ন থেকে ৬টি অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এবং আশপাশের পাহাড়–টিলাই অজগরের মূল আবাসস্থল। বনে খাবারের সংকটসহ পরিবেশগত চাপের কারণে অজগরগুলো লোকালয়ে চলে আসছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি ও আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে গত ৭ দিনের ব্যবধানে ৬টি অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অজগরের কোনো কোনোটির দৈর্ঘ্য ১২ ফুট এবং ওজন ২৫ কেজির মতো। উদ্ধার হওয়া এসব অজগর বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আবাস সংকোচন, খাবারের সংকট এবং টিলা–পাহাড়ের বনভূমি কমে যাওয়ায় অজগর সাপ লোকালয়ে ঢুকে জালে বা ঘরে আটকা পড়ছে।



