কেউ মনে করে মাছ খাওয়া শেখানো একটি উত্তম কাজ, আবার আর কেউ উক্ত উত্তম কাজের সাথে, এক ধাপ যোগ দিয়ে বলে বসে মাছ ধরার কায়দা কানুন শেখালে অধিক ও দীর্ঘস্থায়ী উপকার হয়।
প্রস্তাবনাটি আমি না মেনে পারছিনা যৌক্তিকতা বটে। কাউকে মাছ খেতে দিলে ও মাছ ধরার কৌশল শিক্ষা দিলে মজাই পাবে। রোজ রোজ আপনার কাছে চলে যাবে ভাজা মাছ খাবার জন্য, ক্রমান্বয়ে হয়ে পড়বে পরনির্ভরশীল। আর যদি তাকে মাছ ধরার কৌশল শিখিয়ে দিতে পারেন তখন সে নিজে নিজে মাছ ধরতে পারবে, তখন মাছ খাবার জন্য অসহায় পরমুর্খাপেক্ষী হয়ে আর থাকবে না। যাকে বলে তারা পরিণত হবে স্বনির্ভর জাতিতে।
কিতাবুল মোকাদ্দসে একটি শিক্ষা দেখতে পাবেন, কোনো এক শমরীয় মহিলা মুক্তিদাতা ঈসা মসিহের সাক্ষাৎ লাভ করেছিল। মহিলাটি আনন্দের অতিসহ্যে দৌড়ে গিয়েছিল নিজ গ্রামে অভিভুতকারী আশ্চর্য সাক্ষাৎকার নিয়ে সকলকে সবিশেষ জ্ঞাত করার জন্য। গ্রামবাসি তার কথা শুনে আশ্চর্যবোধ করলো, বেরিয়ে এলো স্বচক্ষে মসিহকে দেখার জন্য। তারা মসিহের দর্শন লাভ করতে পারলেন এবং মহিলাটিকে ধন্যবাদের সুরে তাদের আনন্দ প্রকাশ করলো, যার মুল অর্থ হলো “কেবল শুনেই ক্ষান্ত হয় নি, বরং তারা স্বচক্ষে দেখতেও পেয়েছিল।
মানুষের চোখ দেয়া হয়েছে দর্শনের জন্য, আর মন বা স্মৃতি ফলকে হলো সবকিছু ধরে রাখার জন্য, কথায় বলে স্মৃতির ফলকে লিখে রাখো। তবে বক্তব্য যদি নাইবা বুঝতে পারলো, তেমন ক্ষেত্রে কেমন করে স্মরণে রাখবে, অথবা তেমন শিক্ষানুযায়ী জীবনটাকে ঢেলে সাজাবার দিকে মনোনিবেশ করবে? প্রত্যেকটি অনুজ্ঞা অক্ষরে অক্ষরে বুঝতে হবে, কোন প্রেক্ষাপটে তা উক্ত হয়েছে, কার জন্য হবে তা প্রয়োজ্য জেন্ডার ভিত্তিক তথা স্থান–কাল–পাত্র অনুযায়ী উক্ত আজ্ঞাসমূহ হবে প্রযুক্ত, বাস্তবায়িত।
ডিসকভারী চ্যানেলে একটি ইপিজোড (Episode) উপক্ষ্যাণ রয়েছে না হলো টিকে থাকার লড়াই বা survival plan যার মধ্যে অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখানো হয়। কখনো মরুভূমির মধ্যে প্রকৃতির সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকতে হয় আবার কখনো ক্ষুধা বা তৃষ্ণায় প্রানান্তরকর পরিবেশে টিকে থাকতে হয় যা সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্পূর্ণ অসম্ভব বিষয়। এক এক সময় আবহাওয়ার সাথে তাল মিলয়ে তবে তাদের টিকে থাকতে হবে; তাই বলে ঐ সকল পোশাক আসাক কখনোই সামাজিক ও প্রয়োজনীয় পোশাক বলে স্বীকৃতি পেতে পারে না। মরুভূমিতে উপযোগী আপদমস্তক ঢেকে রাখার জন্য ফতুয়া আলখেল্লা বাংলার বুকে হবে বেমানান ও অপ্রয়োজনীয়। মুর্খতাহেতু ‘সুন্নত’ শব্দের আড়ালে কেউ কেউ আরব মুল্লুকের বালুর ঝড় ঠেকানো পোশাক বাংলার বুকে পরিধান করার জন্য উম্মাদ হয়ে যায়। খোদার কালামের মৌল অর্থ ও তাৎপর্য তারা বুঝে না আর গোয়ার্তুমির কারণে বুঝতেও চায় না, তেমন ক্ষেত্রে তাদের অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে। আমি মরুভুমিতে চলাফেরা করেছি আবার বরফের উপর দিয়েও হেটেছি; যখন যেমন আবহাওয়া, শরীরটাকে বাঁচাতে তেমন বাহ্যিক পোশাক পরিধান করতে ছিলাম বাধ্য! সুজলা সুফলা নাতিশীতোষ্ণা বাংলার বুকে তেমন পোশাকের কোনই প্রয়োজন নেই, থাকতে পারে না।
কাওকে অনুসরণ করার অর্থ ও তাপর্য হলো তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট জীবনে প্রয়োগ করার সাধনা। মানুষ হলো সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব, খোদার নয়নের মণি, খাস নোমায়েন্দা, দৃশ্যমান প্রকাশ অদৃশ্য খোদার। মানব সৃষ্টির যে বর্ণনা কিতাবুল মোকাদ্দসে দেখতে পাওয়া যায়, তেমন বর্ণনার আলোকে বলা চলে, আর তা প্রত্যেয়ের সাথে বলতে হবে, মানুষ খোদার সুরতে হয়েছে গড়া খালাকল্লাহু আদামা ফি সুরাতীহি, God created man in His own image (Genesis 1:26-28)| যাদের রয়েছে কিতাবী জ্ঞান তাদের কাছে যুক্তিটি প্রণিধাযোগ্য।
মানুষ অনুসরণ করবে তার সুমহান নির্মাতাকে, তিনি অভয়বাণী দিয়ে বলেছেন, আমি পবিত্র বলে তোমরাও পবিত্র হও (লেবীয় ১১ : ৪৪), আমার মধ্যে থাকো (ইউহোন্না ১৫ : ১–৫), সাহস, উত্তর–প্রতুত্তর করি (ইশাইয়া ১ : ১৮), ন¤্র হয় মুনাজাত করার তাগিদ (২বংশাবলী ৭ : ১৪), মন ফিরাও, খোদার রাজ্য নিকটে এসেছে (মার্ক ১ : ১৫), যারা তওবা করে, খোদার দিকে ফিরে তাদের পুরাতন কৃত পাপের কথা খোদা আর স্মরণে আনবেন না (ইব্রানী ৮ : ৭–১২), মানুষকে দোষী প্রমান করার জন্য আল্লাহ তাঁর রুহানীপুত্র খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসিহকে জগতে প্রেরণ করেন নি, বরং তাদের স্নাতশুভ্র নির্দোষ বলে প্রমান করার জন্যই মসিহ নিজ প্রাণ করলেন কোরবান (ইউহোন্না ৩ : ১৭), মানুষ কেবল খোদার অশেষ রহমতে নাজাত পেল, কোনো কলুষিত ব্যক্তির স্পর্শ ছাড়াই ঘটেছে মানুষের মুক্তি বা রুহানি নাজাত (ইফিষীয় ২ : ৮–১০)। এক কালের খোদাদ্রোহী মানপরিবর্তন ও তওবা করার ফলে পরিণত হলো খোদার রুহানি সন্তানে (ইউহোন্না ১ : ১২), ঈসা মসিহের উপর বিশ্বাস স্থাপনকারী ব্যক্তি পরিণত হলো দেদীপ্যমান নূরে, তাই তারা সর্বদা আলোর বিস্তারকল্পে থাকে ব্যতিব্যস্ত, কর্মরত (মথি ৫ : ১৪–১৬)।
কোন ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র তরিৎপ্রবাহ ব্যতিরেকে চালু হতে পারে কি? উক্ত যন্ত্রটি ততক্ষণ পর্যন্ত নির্বিবাদে নিযুক্ত চলতে থাকবে, যতক্ষণ চলমান থাকবে বিদ্যুৎ বা তাড়ৎ প্রবাহ। প্রজ্জ্বলিত মোম কখনোই নিজে নিজে জ্বলে ওঠতে পারে নি; তাকে জ¦ালিয়ে দেয়া হয়েছে; অবশ্য মোমটিও নিজেকে জ্বালিয়ে গলিয়ে দিয়ে আলো বা আগুন ধরে রাখে, ফলে অমানিশা হয়ে যায় দূরীভুত। তিনি আমাদের বেছে নিয়েছে বিধায় আজকে আমাদের অবস্থান, যেমন প্রজ্জ্বলিত মোমটিকে বাতিদানির উপর স্থাপন করা হয়, যেন গোটা আয়ুষ্কাল ওটি আলোর বিস্তার করে চলে। কালামপাকে তেমন ইঙ্গিত রয়েছে, প্রথমে খোদার রাজ্য ও তাঁর ধার্মিকতার জন্য ব্যস্ত সচেষ্ট হতে হবে, তবে বাকী যাবতীয় প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি যথাসময় যথাযথভাবে যোগান দিয়ে চলবেন (মথি ৬ : ৩৩, ফিলিপিয় ৪ : ৮–৯, ১করিন্থীয় ১৩ : ১১, ১৩, গালাতীয় ৩ : ২৬–২৯)



