সড়কের নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে ২৪ নভেম্বর সোমবার বিকালে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ এমদাদুল হক প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যান। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে কোটি টাকা ব্যয়ে ইউনিব্লক দিয়ে রাস্তা নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজের শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ চালাচ্ছেন। সড়ক নির্মাণে অনিয়ম হওয়ায় কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয়রা। তথ্য অনুযায়ী, বারগাও ইউনিয়নের মিয়াপুর থেকে বগাদিয়া হয়ে অম্বরনগর পর্যন্ত ১ কোটি ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৮৩ মিটার ইউনিব্লক এবং ৯৭ মিটার প্যালাসাইটিং (গাইড ওয়াল) সহ রাস্তা নির্মাণের বরাদ্দ দেয়া হয়।
২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে জিওবি মেইনটেনেন্স এর আওতায় মেসার্স কাজী ট্রেডার্স এন্ড সাপ্লায়ার্স কাজটি পায়। তবে কাজের শুরু থেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের সাব–বেস স্থাপনে নিম্নমানের খোয়া ও মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। সড়কে বিছানো খোয়া সামান্য চাপেই ভেঙে যাচ্ছে। বেস তৈরীর জন্য মাটি কাটা হয়েছে সড়কের পাশের জমি থেকে। আর প্যালাসাইটিং তৈরীতেও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। গাইড ওয়ালে বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। কোথাও কোথাও ফাটল এত বেশি যে পুরো ওয়াল হেলে গিয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন থেকে অবহেলিত অবস্থায় পড়েছিল সড়কটি। গত বছরের ভয়াবহ বন্যা এর পর এটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এই সড়ক দিয়ে রশিদপুর, লতিফপুর, রাজিপুর, কৃষ্ণপুর ও ঘোষকামতা গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা চলাচল করে। বন্যা পরবর্তী সময়ে কাজ শুরু করেন ঠিকাদার ওয়াসিম মেম্বার। শুরুতেই রাস্তা উঁচু করার জন্য রাস্তার পাশের জমি থেকে মাটি কাটা হয়। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে প্যালাসাইটিং তৈরি করেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করলেও কাজ চালিয়ে যায় ঠিকাদার। পরে সাব–বেস তৈরীতে মাটি ও মানহীন ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয়। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলেও কাজের মানোন্নয়ন না হওয়ায় গতকাল কাজ বন্ধ করে দেন গ্রামবাসী। মিয়াপুরের ষাটোর্ধ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “দীর্ঘদিন থেকে সড়কটি ইটের সোলিং ছিল। ঠিকাদার সেই পুরাতন ইটের খোয়ার সাথে মাটি মিশিয়ে রাস্তা তৈরীতে ব্যবহার করছেন। রাস্তার তিন ভাগের দুই ভাগে এই নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করে রোলার করা হয়েছে।” কাজের অনিয়ম চলতে থাকলে সড়ক কতদিন টিকবে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দা রানা, সাজিদ, মোহনসহ অনেকে অভিযোগ করেন, “এই সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে চার–পাঁচ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ দীর্ঘদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। পরে কাজ শুরু হলেও প্রতিটি ধাপে অনিয়ম করা হচ্ছে। পাশের গাইড ওয়াল ফাটল ধরেছে, কয়েক জায়গায় রাস্তা গর্ত হয়ে গেছে। ইটের খোয়া এতটাই মানহীন যে চাপ দিলে গুড়ো হয়ে যাচ্ছে।” স্থানীয়রা কাজ বন্ধ করার পর উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের সার্ভেয়ার আব্দুল আলিম ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি অনিয়মের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং নিম্নমানের খোয়া ও প্যালাসাইটিংয়ের অনিয়ম উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে রিপোর্ট করবেন বলেও জানান। ঠিকাদার ওয়াসিম মেম্বার বলেন, “রাস্তার কাজ এখনো শেষ হয়নি। কাজ শেষ করার আগে সকল অভিযোগের সমাধান করা হবে।”
তবে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। সোনাইমুড়ী উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ এমদাদুল হক বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর সকালেই একজন সার্ভেয়ারকে পাঠানো হয়েছে। সার্ভেয়ারের রিপোর্টের ভিত্তিতে আমি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।“



