শুক্রবার ভূমিকম্পের পর রাজধানীর ভবনগুলোর ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, পুরান ঢাকাসহ পুরো নগরীই ভূমিকম্পের দিক থেকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই ঝুঁকি কমাতে পুরোনো ও বিধি ভঙ্গকারী ভবনগুলোকে এখনই প্রকৌশলগতভাবে মজবুত করতে হবে। শুক্রবার রাজধানীর মিরপুরে আদিবাসী খাদ্য ও শস্যমেলা উদ্বোধনের পর ভূমিকম্প নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, গেল পাঁচ বছরে এত শক্তিশালীভাবে ভূমিকম্প অনুভূত হয়নি। বারবার সতর্ক বার্তা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রস্তুতির জায়গাটা অনেক দিন ধরে ফাঁকা পড়ে আছে। তাই আর দেরি নয়।
এখনই পুরোনো বিল্ডিংগুলোকে মজবুত করার মতো প্রকৌশলগত সমাধানের দিকে যেতে হবে। উপদেষ্টা বলেন, নতুন ভবনগুলো অনেকটাই বিল্ডিং কোড মেনে তৈরি হচ্ছে। কিন্তু রাজধানীর বিপুল সংখ্যক ভবন, যেগুলো বহু বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছে, যেগুলোর অনুমোদন নেই বা অনুমোদনের শর্ত ভেঙে নির্মাণ করা হয়েছে, সেগুলোই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। রিজওয়ানা হাসানের মতে, রাজউক নিজেই বলে, ৯০ শতাংশ ভবনের অনুমোদনে ব্যত্যয় আছে। এভাবে চললে পরের কোনো বড় ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষতি হবেই। ঢাকা বিশেষ করে পুরান ঢাকা সবচেয়ে ঝুঁকিতে। কারণ জায়গা কম, ঘনবসতি, ভবনের সংখ্যা অনেক। এই ভবনগুলোকে মজবুত করতে প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত সমাধান অতীব জরুরি। ঝুঁকি মোকাবিলায় তিনি তিন বছরের একটি কর্মসূচি নেওয়ার পরামর্শ দেন। যেখানে ভূমিকম্প ও অগ্নিঝুঁকি বিবেচনায় প্রশিক্ষণ, দুর্বল ভবনের তালিকা তৈরি, সংস্কার পরিকল্পনা, দমকল সরঞ্জাম উন্নয়ন এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত থাকবে। রিজওয়ানা হাসান বলেন, দুর্যোগ যদি আরও শক্তিশালী হয়ে আসে, তখন কী করা হবে; সেই পরিকল্পনা, সেই প্রশিক্ষণ কোথায়? আমাদের দুর্যোগ প্রস্তুতির ঘাটতিগুলো দ্রুত পূরণ করতে হবে। প্রশিক্ষণের অভাব, উদ্ধার সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা, ভবন নিরাপত্তায় অবহেলা, দমকল ব্যবস্থার দুর্বলতা– এসবই বড় দুর্যোগে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।



