সহোদর ও একই ঔরষজাত সন্তান সন্তুতি অবশ্যই পরষ্পর স্বজন প্রিয়জন, যাদের মধ্যে থাকতে হবে মিলন ভ্রাতৃত্ব, প্রেম সহমর্মীতার অবিনশ্বর অবিচ্ছেদ্য টেকসই হার্দিক সম্পর্ক।
বিজ্ঞানের ক্রমবর্ধমান আবিষ্কারের ফলে এক ধরণের সুপারগ্লু সহজলভ্য হয়েছে যা এতটাই কার্যকর ও ক্ষমতাধর, যার দ্বারা দুটো কাঠ জুড়ে দিলে এক হয়ে যায়, কথায় বলে, পাগলা হাতীও ছুটিয়ে দিতে হয় চরম ব্যর্থ।
মানুষের সাথে মানুষের মিলন ভ্রাতৃত্ব সহমর্মীতা এমন হওয়া উচিত যা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে সুপারগøুসম পারষ্পরিক ভ্রান্তি পর্যন্ত হার মানতে বাধ্য।
আসুন, আজ আমরা মানুষ চিনে নেই; এবং মানুষের নির্মাাতা তাকে কোন মর্যাদা, অবস্থান, অধিকার, ক্ষমতা ও প্রজ্ঞা ধার্মিকতা দান করেছেন তা জানাও আমাদের আবশ্যক। মানুষ হলো খোদার বহিপ্রকাশীত প্রতিনিধি, যাদের মাধ্যমে অদৃশ্য খোদার সুমহান পরিকল্পনা প্রকাশ পাবে। এটাই হলো খোদার মানব সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য ও রহস্য। মানুষকে আপনি কোন নজরে দেখেন তা আমার জানা নেই, তবে মানুষের নির্মাতা জনহিতৈষী মাবুদ তাদের প্রত্যেককে স্বীয় ক্রোড়ে সমাদরে স্থান দিতে চান। প্রসংগক্রমে একটি আয়াত তুলে ধরছি কিতাবুল মোকাদ্দস থেকে “ঈসা মসীহের মধ্যে কোন গুনাহ ছিল না; কিন্তু আল্লাহ আমাদের গুনাহ তাঁর উপর তুলে দিয়ে তাঁকেই গুনাহের জায়গায় দাঁড় করালেন, যেন মসীহের সংগে যুক্ত থাকবার দরুন আল্লাহর পবিত্রতা আমাদের পবিত্রতা হয়” (২করিন্থীয় ৫:২১)।
মানুষের সাথে মানুষের এমন মিলন ভ্রাতৃত্ব অতিসহজেই প্রত্যাশা করা সম্ভব, তবে খোদার আজন্ম অরি ইবলিশের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা হবে চরম আহাম্মকি। আমাদের উচিত হবে না অভিশপ্ত ইবলিশকে কল্যাণকর স্বজন প্রিয়জন ভাবা। ইবলিশ যেমন একদিকে খোদাদ্রোহী আর অন্যদিকে খোদার প্রিয় সৃষ্টি মানুষের চরম দুষমন।
আদম পুত্র কাবিল থেকে শুরু করে বর্তমান যুগের সকল নরহন্তা সকলেই হয়ে পড়েছে ইবলিশাশ্রীত। আর এর বিষক্রিয়া দেখা যাচ্ছে মানুষের হাতে মানুষ নিধন। বিষাক্ত জল পান করলে মানুষ যেমন অসুস্থ হয়ে পড়ে, কখনোবা তাদের মৃত্যুও ঘটে যায়, একইভাবে গোটা সমাজ সেই প্রথম দিন থেকে চরমভাবে ইবলিশের কুটচালে মন্ত্রপুট হয়ে পড়লো, যে কারণে মানুষের স্বভাব আচরণ হিং¯্র মানুষ–খেকো পশুর স্তরে নেমে গেল। বিষাক্ত জল থেকে যদি বিষক্রিয়া নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়ে ওঠে তবে তেমন জল পান করতে কোনো ক্ষতির ভয় থাকে না।
চাই মানুষকে ইবলিশের কবল থেকে সম্পূর্ণ অবমুক্ত করা, মানুষকে পুনরায় ঐশি মানুষে ফিরিয়ে আনা। আর মানুষকে নতুন সৃষ্টি হিসেবে গণনা করার জন্য এক অভাবিত ব্যবস্থা মানুষের নির্মাতা খোদা নিজেই প্রস্তুত করেছেন। যে ব্যবস্থা তিনি হলো এক ঐশি মানব জগতে প্রেরণ করেছেন যিনি হলেন খোদার স্বীয় কর্মক্ষম কালাম ও পাকরূহ, মানব শিশুরূপে মরিয়ম নাম্মী এক কুমারী নারীর গর্ভের মাধ্যমে ধরাপৃষ্ঠে হলেন আবির্ভুত। তিনি একমাত্র বেগুনাহ ব্যক্তি, যাকে ঐশি মেষ হিসেবে কোরবানি দেয়া হয়েছে বিশে^র সকল পাপের কাফফারা পরিশোধ দেবার জন্য। কালামপাকে সবিশেষ বর্ণীত রয়েছে “যদি কেউ মসীহের সংগে যুক্ত হয়ে থাকে তবে সে নতুনভাবে সৃষ্ট হল। তার পুরানো সব কিছু মুছে গিয়ে সব নতুন হয়ে উঠেছে। এই সব আল্লাহ্ থেকেই হয়। তিনি মসীহের মধ্য দিয়ে তাঁর নিজের সংগে আমাদের মিলিত করেছেন, আর তাঁর সংগে অন্যদের মিলন করিয়ে দেবার দায়িত্ব আমাদের উপর দিয়েছেন। এর অর্থ হল, আল্লাহ্ মানুষের গুনাহ্ না ধরে মসীহের মধ্য দিয়ে নিজের সংগে মানুষকে মিলিত করছিলেন, আর সেই মিলনের খবর জানাবার ভার তিনি আমাদের উপর দিয়েছেন। সেইজন্যই আমরা মসীহের দূত হিসাবে তাঁর হয়ে কথা বলছি। আসলে আল্লাহ্ যেন নিজেই আমাদের মধ্য দিয়ে লোকদের কাছে অনুরোধ করছেন। তাই মসীহের হয়ে আমরা এই মিনতি করছি, “তোমরা আল্লাহর সংগে মিলিত হও।” ঈসা মসীহের মধ্যে কোন গুনাহ্ ছিল না; কিন্তু আল্লাহ্ আমাদের গুনাহ্ তাঁর উপর তুলে দিয়ে তাঁকেই গুনাহের জায়গায় দাঁড় করালেন, যেন মসীহের সংগে যুক্ত থাকবার দরুন আল্লাহর পবিত্রতা আমাদের পবিত্রতা হয়” (২করিন্থীয় ৫ : ১৭–২১)।
মানুষের এমন জন্ম বা পরিবর্তন হলো রূহানী জন্ম; যেমন আত্মা থেকে যে জন্মে তা আত্মিক আর মাংস থেকে যে জন্ম তা হলো মাংসিক মাত্র। তাই আদম থেকে জাত সকলে মাংসিক কামনা বাসনা নিয়ে অন্ধ মাতাল হয়ে জীবন যাপন করে ফিরছে। আর রূহানী সন্তানগণ মানুষের কল্যাণের জন্য থাকেন সদা ব্যস্ত। বেহেশতী পিতা যেমন পূতপবিত্র প্রেমের পারাবার, তদ্রুপ পাকরূহে জাত মসীহ তদ্রুপ পূতপবিত্র ও প্রেমের পরাকাষ্ঠা; ঠিক একইভাবে মসীহের দ্বারা হয়েছে যাদের নতুন জন্ম, খোদার রহমত ও পরাক্রমে তারাও স্বভাব আচরণের দিক দিয়ে মসীহের মত এক পূতপবিত্র নতুন সৃষ্টি রূপে পেয়েছে প্রতিষ্ঠা, যাদের মাধ্যমে বাতেনি খোদাকে দর্শণ করা সম্ভব হয়েছে। আর যারা একবার নতুন সৃষ্টি হিসেবে গড়ে উঠেছেন কেবল তাদের পক্ষেই সাধন করা সম্ভব হয়েছে মানবতার সেবা দান। যেমন গোটা বিশে^র আর্তপীড়িত অসহায় গুনাহগার ব্যক্তিদের নতুন সৃষ্টিরূপে গড়ে তুলতে মসীহ নিজের পূতপবিত্র রক্ত ঝরিয়েছেন মর্মবীদারক সলীবে আত্মকোরানীর মাধ্যমে। মানুষের সেবার চাইতে অধিক উত্তম সেবা খুঁজে পাবেন না খোদাকে সন্তুষ্ট করার জন্য।



