প্রায় পনেরো মাস পর খুলনা জেলা পরিষদ থেকে গায়েব হওয়া গুরুত্বপূর্ণ ৬টি নথি উদ্ধার হয়েছে। এ বিষয়ে গত সোমবার জেলা পরিষদের প্রধান সহকারী মো. সহিদুল ইসলাম খুলনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ৫ই আগস্ট বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর খুলনা জেলা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ নথি গায়েব হয়ে যায়। এ নিয়ে কর্মকর্তা–কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় ৯ই আগস্ট জেলা পরিষদের প্রধান সহকারী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খুলনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও ১৭ই আগস্ট জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহাবুর রহমান বাদী হয়ে একই থানায় অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ৫ আগস্ট বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে বৈষম্যবিরোধী চাকরির কোটা সংস্কার ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০০ থেকে ২৫০ জন ব্যক্তি অস্ত্র–শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে খুলনা জেলা পরিষদের প্রধান ফটক ভেঙ্গে হামলা চালায়। এ সময় তারা অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথিসহ ১ কোটি ৭২ লাখ ৩৬ হাজার ৬২০ টাকার মালামাল পুড়িয়ে দিয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। এ ছাড়া আসামিরা ১ কোটি ৮৯ লাখ ৫ হাজার ৩৬০ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।
এজাহারে আরও বলা হয়, মালামাল চুরি করে নিয়ে যাওয়ার পর পরিদর্শন করে দেখা যায়, জেলা পরিষদ ভবনের প্রতিটি কক্ষে থাকা জিনিস আসামিরা নিয়ে গেছে। সেই সব জিনিসের মধ্যে রয়েছে, চেকবই, চেক রেজিস্টার, ক্যাশবই, ভাউবই, জমি ইজারা রেজিস্টার, অডিট রেজিস্টার, খেয়াঘাট রেজিস্টার, ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত নথিসহ অন্যান্য প্রকল্পের নথিপত্র। সোমবার সদর থানায় করা জিডিতে উল্লেখ করা হয়, ৫ই আগস্টের পর ২৮৪টি নথি উদ্ধার হলেও গুরুত্বপূর্ণ ৬টি নথি খুঁজে পাওয়া যায়নি। সোমবার দুপুরে প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসএম মাহবুবুর রহমানের কক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলো পাওয়া গেছে। এই ফাইলগুলো গত ২১শে এপ্রিল দুদক অনুসন্ধানের জন্য আমাদের কাছে চেয়েছিল। চাহিত তথ্যের মধ্যে ২০১৮–১৯ থেকে ২৩–২৪ অর্থবছরে এডিপি ও রাজস্ব তত্ত্বাবধানে জেলা পরিষদ যে সকল প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে সেই তথ্য আছে এই ফাইলে। খুলনা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তার খুলনা গেজেটকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, এর আগে কিছু কিছু নথি পাওয়া যায়। সোমবার ৬টি নথি পাওয়া গেছে।



