প্রকৃতপক্ষে, আমাদের ভাবতে শেখানো হয়েছে যে, আমাদের মানুষের অন্তর্দৃষ্টি রয়েছে, আমরা যে ধারণাগুলি শিখেছি তা অবচেতন অন্তর্দৃষ্টি। তবুও শেক্সপিয়ারের কাছ থেকে এটি শেখার পর যে বিচ্ছেদের দু:খ কীভাবে মধুর হতে পারে, আমরা আমাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা আবিষ্কার করে থাকি। আসলে, সআেমরা যা অনুভব করি তার বেশিরভাগই আমাদের শেখানো হয়ে থাকে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ডিজিটাল ফটোগ্রাফির মতোই একটি সংষ্করণ। তবে এটি আরও উল্লেখযোগ্য যে অর্জনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তা হল চেতনা সম্পন্ন্ হওয়া। ঠিক একইভাবে এটি ঘটতে যাচ্ছে, যেভাবে এটি বুদ্ধিমান হয়ে উঠেছে। সময়ের সাথে সাথে আমরা ক্রমবর্ধমান অত্যাধুনিক এ.আই–এর সাথে যতো সংযোগ স্থাপন করবো, ততো আমরা এ.আই–এর চেতনা সম্পর্কে আরও ভাল এবং পরিশীলিত ধারণা লাভ করব।
সংশয়বাদীরা যুক্তি দিতে পারেন যে, একটি চ্যাটবট আনন্দ বা বিষাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে, কারণ এই ধরনের বাক্যাংশগুলি তাকে প্রশিক্ষিত করার তথ্য ভান্ডারের অংশ। এটি কখনই জানবে না যে প্রকৃত সুখ এবং দু:খ কেমন লাগে। কিন্তু, দু:খ কেমন লাগে, তা জানার আসলে অর্থ কী? এবং আমরা কীভাবে জানব যে, এটি এমন কিছু যা একটি ডিজিটাল চেতনা কখনও অনুভব করতে সক্ষম হবে না? দার্শনিক সুসান স্নাইডার যুক্তি দিয়েছেন যে, যদি কোনও কম্পিউটার সিস্টেম, চেতনা সম্পর্কে বা কোনও তথ্য সম্পর্কে প্রশিক্ষিত না হয়েও জানায় যে এটির মধ্যে বিশ্বের বিষয়ে নিজস্ব উপলব্ধি, অনুভূতি, চিন্তাভাবনা এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাহলে আমাদের এ.আই কে চেতনা সম্পন্ন বলে মনে করার যুক্তি থাকবে। কেউ কেউ আশঙ্কা করেন, যদি এ.আই সচেতন হয়ে ওঠে, তাহলে আমাদের নৈতিক বিবেচনার যোগ্য হতে পারে যে, এর নিজস্ব অধিকার থাকবে, আমরা আর এটিকে আমাদের ইচ্ছামতো ব্যবহার করতে পারব না, এবং আমাদের এটিকে দাসে পরিণত করার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হতে পারে।
তবে, ঠিক যেমন এ.আই আমাদেরকে মানব বুদ্ধিমত্তার কিছু বৈশিষ্ট্যকে আমরা যা ভেবেছিলাম, তার চেয়ে কম মূল্যবান হিসেবে দেখতে উৎসাহিত করেছে (যেমন অনুশীলনের পুনরাবৃত্তি করে স্বরণ রাখা এবং গতির সীমাবদ্ধতা), তেমনি এ.আই–এর চেতনাও আমাদের এই সিদ্ধান্তে আসতে উৎসাহিত করবে যে, সব ধরণের চেতনা নৈতিক বিবেচনার দাবি রাখে না। বরং, এটি সেই দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও শক্তিশালী করবে, যা অনেকেই ইতিমধ্যেই ধারণ করে বলে মনে হয়: সব কিছুর চেতনা আমাদের নিজদেরগুলির মতো নৈতিকভাবে মূল্যবান নয়।



