জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে পানিফল চাষিদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। চলতি বছর পরিত্যক্ত জলাশয়ে কোটি টাকার পানিফল চাষ হয়েছে। এ ফল থেকে গ্লুকোজ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পানিফল শুকিয়ে আটা তৈরি করে রুটিসহ বিভিন্ন সুস্বাদু খাবারও তৈরি করা হচ্ছে। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলাসহ আশপাশের এলাকায় পরিত্যক্ত জলাবদ্ধ পানিতে চলতি বছর পাঁচ কোটি টাকার পানিফল চাষ হয়েছে। এ ফল কৃষকের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছে। উৎপাদিত ফল প্রক্রিয়াজাত করে গ্লুকোজ তৈরি করা যাবে বলে কৃষিবিদরা আশা করছেন। কার্তিক–অগ্রহায়ণ মাসে কৃষকের হাতে নগদ অর্থ কম থাকায় অসময়ে পানিফল বিক্রি করে যে নগদ অর্থ হাতে পায় কৃষক তাতেই তারা খুশি। পানিফল এখন অর্থকরী ফসলে রূপ নিয়েছে। পানিতে ভাসমান গাছে জন্মায় বলে নাম হয়েছে পানিফল। স্থানীয়ভাবে এটি ‘শিঙাড়া’ নামে পরিচিত। দেখতে দোকানে ভাজা শিঙাড়ার মতো, তাই শিঙাড়া নামে ফলটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। গাঢ় সবুজ ও খয়েরি রংয়ের এ ফলটি খোসা ছাড়িয়ে খেতে হয়। ভেতরের শাঁস দুধের মতো সাদা, খেতে খুবই সুস্বাদু এবং কোমল ও ঠান্ডা। এলাকার সাধারণ মানুষ ‘শিঙাড়া’ সিদ্ধ করে সকালের নাস্তা হিসাবে খায়। পাকা ‘শিঙাড়া’ সবজি হিসাবেও ব্যবহৃত হয়।
রোদে শুকিয়ে মেশিনে অথবা ঢেঁকিতে পানিফলের আটা তৈরি করে রুটি হিসাবেও খাওয়া হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন মিয়া জানান. পানিফলে প্রচুর পরিমাণে শর্করা বা গ্লুকোজ রয়েছে। এ ফল দেশে প্রক্রিয়াজাত করে গ্লুকোজ তৈরি করা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। কৃষি অফিস সূত্র জানায়. ফসল জন্মায় না এমন পরিত্যক্ত ৪০ হেক্টর জমিতে পানিফল উৎপাদন হয়েছে ৩২০ টন। প্রতি হেক্টরে ফলন হয়েছে ৮ টন। ১২শ টাকা মনদরে প্রতি টনের মূল্য ৩৩ হাজার টাকা হিসাবে ১ কোটি ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকার পানিফলের চাষ হয়েছে এবার। বর্তমানে কাঁচা পানিফল ৮–৯শ টাকা, পাকা পানিফল ১১–১২শ টাকা মনদরে বিক্রি হচ্ছে। পানিফল চাষি করিম মিয়া জানান, তিনি এ ফল চাষ করে সংসারের অভাব ঘুচিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন। এলাকার চাষিদের বেশির ভাগই পানিফল চাষ করে তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন। পানিফল চাষিরা জানান. দেওয়ানগঞ্জ ও এর আশপাশের এলাকায় হিমাগার না থাকায় এ ফল সংরক্ষণ করা যায় না। ২–৩ দিনের বেশি থাকলে পচে নষ্ট হয়ে যায়। এতে কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চৈত্র মাসে কাদাপানিতে পানিফলের চারা রোপণ করতে হয়। আর বর্ষায় জলাশয়গুলো যখন পানিতে ভরে যায় তখন রোপণ করা গাছগুলো বেরে ওঠে। কার্তিক মাস থেকে ফল তোলা শুরু হয়ে শেষ হয় পৌষ মাসে। তবে চলতি বছর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় কার্তিক মাসেই পানিফল চাষ শেষ হয়ে যাবে।
প্রতিবছর দেওয়ানগঞ্জ স্টেশনের পেছনে ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত কেনাবেচা হয় পানিফল। ঢাকা, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নারী ও পুরুষ ব্যবসায়ীরা এখান থেকে প্রতিদিন ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রির জন্য পানিফল নিয়ে যাচ্ছে। তবে অভিযোগও রয়েছে। চাষি ফরহাদ জানান. রেলের লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকায় পানিফলের পাইকাররা আসতে পারছেন না। তাই অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বাধ্য হয়ে ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে পানিফল নিয়ে যাচ্ছেন তারা।



