হোটেল, রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট, নৌযান আর স্থানীয় পাহাড়িদের তৈরি টেক্সটাইল পণ্যে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, চলতি মৌসুমে আগের বছরের চেয়ে আয় আরও বাড়বে। সারা বছরই আকর্ষণীয় রাঙ্গামাটি। কিন্তু শীতের শুরুতেই এর সৌন্দর্য যেন নতুন করে ধরা দেয় পর্যটকদের চোখে। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ, দিগন্তজোড়া সবুজ বনানী আর কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশিতে নৌভ্রমণ—সব মিলিয়ে রাঙ্গামাটি যেন এক স্বপ্নরাজ্য। দীর্ঘ তিন মাস পানিতে ডুবে থাকার পর সম্প্রতি ঝুলন্ত সেতু পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। রাঙ্গামাটির এই আইকনিক স্থাপনাটি ঘিরেই এখন সবচেয়ে বেশি ভিড়। সপ্তাহান্তে গড়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার পর্যটক ঘুরতে আসেন রাঙ্গামাটির তিন প্রধান পর্যটনকেন্দ্রে। বিশেষ দিনগুলোতে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ থেকে ৬০ হাজারে। রাত্রিযাপনের জন্য প্রায় ১৫ হাজার পর্যটকের ব্যবস্থা রয়েছে। রাঙ্গামাটি শহরে ৫৬টি হোটেল ও ১৭টি ইকো রিসোর্টে প্রায় ১০ হাজার পর্যটক থাকতে পারেন। সাজেকে ১২টি রিসোর্ট ও কটেজে আরও ৫ হাজারের থাকার ব্যবস্থা আছে। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে ঝুলন্ত সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, উৎসবমুখর পরিবেশ।
কেউ নৌভ্রমণে যাচ্ছেন, কেউ ছবি তুলছেন, কেউবা পাহাড়ের কোল ঘেঁষে নির্জন প্রকৃতিতে ডুবে আছেন। বগুড়া থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা কানাডা প্রবাসী আব্দুল মোতালেব বলেন, দেশের মধ্যে শুধু রাঙ্গামাটিতেই নদী, পাহাড় আর হ্রদ—সবকিছু একসঙ্গে পাওয়া যায়। এখানকার মানুষও দারুণ অতিথিপরায়ণ। চট্টগ্রামের হাবিবুর রহমানের কথায়, রাঙ্গামাটি এমন এক জায়গা, যেখানে স্বল্প খরচেই পরিবার নিয়ে আনন্দে সময় কাটানো যায়। ঢাকা থেকে আসা আয়েশা সিদ্দিকাও মুগ্ধ, ঝুলন্ত সেতু, পাহাড়ে ওঠা আর নৌভ্রমণ—সব মিলিয়ে মনটাই ভালো হয়ে যায়। রাঙ্গামাটি শহরের প্রায় সব হোটেল–রিসোর্ট এখন শতভাগ বুকড, জানান হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা কামাল উদ্দিন।
তিনি আরও বলেন, ডিসেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা শেষ হলে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে। রাঙ্গামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমার ভাষায়, ঝুলন্ত সেতু উন্মুক্ত করার পর থেকে পর্যটক বাড়ছে। এ মৌসুমে ভালো ব্যবসা হবে বলে আশাবাদী।



