বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ২০০ বছরের বিশালাকৃতির শিমুল গাছ। প্রতিবছর দেশ–বিদেশের বহু মানুষ গাছটি দেখতে ভিড় করেন উপজেলার ব্রাহ্মণবাড়িয়া গ্রামে। এই গাছটি ঘিরে পর্যটনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন এলাকাবাসী। শিমুল গাছটির বয়স নিয়ে একাধিক মত পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ বলছেন ৫০০ বছর। কারও দাবি ২০০ কি ৩০০ বছর হবে। সঠিক হিসাব কেউ বলতে না পারলেও বিশালাকৃতির গাছটি ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। গাছটিতে অলৌকিক কিছু রয়েছে– এমন বিশ্বাসে অনেকে মনের বাসনা পূরণ করতে মানত করতেও আসেন। গাছটি ঘিরে বৈশাখ মাসের শুরুতে গ্রামীণ অনুষ্ঠান হয়। হয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শিব পূজাও। গাছটি প্রায় ১৫০ ফুট লম্বা। গোড়ার পরিধি প্রায় ৫৫ গজ। প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো গাছটি বেড়ে উঠছে প্রাকৃতিকভাবেই। স্থানীয় বাসিন্দা উত্তম সরকার বলেন, বাপ–দাদার কাছ থেকে শুনে আসছি এই শিমুল গাছটির বয়স ৫০০ বছর হবে। আবার গ্রামের অনেকে বলেছেন, গাছটির বয়স ২০০ থেকে ৩০০ বছর বা তারও বেশি হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাশের গ্রামের বাসিন্দা সুলতান হাওলাদার বলেন, এক সময় বৃহৎ আকৃতির এই শিমুল গাছটি পত্র–পল্লবে এতটাই ঘন ছিল যে, এর নীচে রোদ, বৃষ্টি, কুয়াশাও পড়ত না। প্রচণ্ড গরমের সময়ও গাছের নিচে পাওয়া যেত শান্তির পরশ। পথিক, কৃষক থেকে শুরু করে নানা পেশা ও শ্রেণির মানুষ গাছের তলায় শুয়ে–বসে বিশ্রাম নিতেন। স্থানীয় বাসিন্দা নগেন জানান, এই পুরাতন শিমুল গাছটি কাটার জন্য অনেকেই চেষ্টা করেছে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই কাটা যায়নি। যে গাছটি কাটতে যায় সে অসুস্থ হয়ে যায়– এমন খবরও শোনা গেছে আশপাশের গ্রামগুলোতে। অনেকের কাছ থেকেই শুনেছেন বহু আগে এ গাছ কাটতে এসে নাক, মুখ দিয়ে রক্ত এসেও মারা গিয়েছে লোক। যদিও বাস্তবে এর প্রমাণ মেলেনি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহ্যবাহী শিমুল গাছটির অস্তিত্ব হুমকিতে পড়েছে। ভেঙে পড়ছে ডালগুলো। সবার সহযোগিতায় গাছটিকে সংরক্ষণের চেষ্টাও করছেন স্থানীয়রা। তবে বৈজ্ঞানিক উপায়ে গাছটি রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।



