ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ডোম আবু সাঈদের বিরুদ্ধে। মর্গের চিকিৎসক বিষয়টি নিশ্চিত করার পর পুলিশ ডোমকে গ্রেফতার করেছে। এ ব্যাপারে হালুয়াঘাট থানার এসআই জামাল মিয়া বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেছেন। আসামি আবু সাঈদ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাতে ময়নাতদন্তের এক তরুণীর লাশ হালুয়াঘাট থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে আনা হয়। মঙ্গলবার সকালে কর্তব্যরত চিকিৎসক লাশের ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে ধর্ষণের মতো অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করেন। এরপর নিশ্চিত হন যে, মর্গে রাখার পর লাশের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। চিকিৎসক বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করেন। এরপর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মর্গের দায়িত্বে থাকা ডোম আবু সাঈদকে (১৯) জিজ্ঞাসাবাদ করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করলে পুলিশ তকে গ্রেফতার করে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, জঘন্য এই অপরাধে গ্রেফতার হওয়া ডোমের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় ধারা উল্লেখ করা হয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন–২০০০। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তরুণী আত্মহত্যা করেছে। এ কারণে হালুয়াঘাট থেকে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছিল। লাশের ওপর পাশবিক নির্যাতনের খবর পেয়ে আমরা জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করি। তিনি বলেন, এটি একটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক অপরাধ। আমরা দ্রুত তদন্ত শেষ করে আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করব। এদিকে আবু সাঈদের মৃত্যুদণ্ড এবং গাফিলতির জন্য হাসপাতালের কর্মকর্তাদের বিচার দাবিতে রুণীর পরিবার ও স্থানীয় জনতা বুধবার হালুয়াঘাট উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন করেছে। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদের সামনে গিয়ে শেষ হয়।



