গ্রামবাসীরা বলছেন, সড়কের এমন অবস্থায় মনে হয় না তারা বাংলাদেশের নাগরিক বরং তারা যেন অবহেলিত কোনো শরণার্থী বা রোহিঙ্গা। বাহাগিলি ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে প্রায় ৪০-৫০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম। এর মধ্যে পিপড়া কামরীর মোড় থেকে বসুনিয়াপাড়া, ফকিরপাড়া থেকে পাগলাটারী, নান্নুর বাজার থেকে ইসমাইল সিপাহীডাঙ্গা ব্রিজ এসব রাস্তাগুলোর অবস্থা অত্যন্ত করুণ। বহু সড়কে অসংখ্য খানাখন্দ, কোথাও কোথাও সড়কের দুই পাশ ভেঙে গিয়ে রাস্তাগুলো কাদায় একাকার হয়ে গেছে।
ফলে ভ্যান, রিকশা, সাইকেল বা মোটরসাইকেল কিছুই সহজে চলাচল করতে পারছে না। স্থানীয়রা জানান, ৫–৭ বছর আগে চাঁড়ালকাঁটা নদীর উপর সিপাহীডাঙ্গা গ্রামে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়, যার পেছনে কয়েক কোটির টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু ওই ব্রিজে যাওয়ার মাত্র ১ কিলোমিটার রাস্তা আজও পাকা হয়নি। ফলে ব্রিজটির কোনো সুফলই পাচ্ছে না এলাকাবাসী। বর্ষা মৌসুমে ওই সড়ক হয়ে ওঠে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। অনেকে বাধ্য হয়ে ব্রিজের উপরেই ধান ও ভুট্টা শুকিয়ে ফেলছে। উত্তর দুরাকুটি গ্রামের বাসিন্দা মমিনুর রহমান বলেন, আমাদের রাস্তায় সর্বশেষ কাজ করেছিলেন সাংবাদিক আলম হোসেন। উনার মৃত্যুর পরে গত ১০–১৫ বছরে এক কোদাল মাটিও পড়ে নাই। ফকিরপাড়া গ্রামের আতাউর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা তো ভাবি আমরা বাংলাদেশি না। মনে হয় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকি।
এমন রাস্তায় কীভাবে চলাফেরা করব বলেন? রাস্তায় তৈরি কিছু কালভার্টও কার্যত ব্যবহার অযোগ্য। ফকিরপাড়ার একটি কালভার্টের দুই পাশে মাটি ভরাট বা সংযোগ সড়ক না করায়, সাইকেল, মোটরসাইকেল বা রিকশা উঠতেই পারে না। উপজেলা প্রকৌশলী মাহামুদুল হাসান বলেন, বাহাগিলি ইউনিয়নের ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এলজিইডির আইডিভুক্ত আছে। বরাদ্দ পেলে একে একে টেন্ডার করে পাকাকরণ করা হবে। এদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা লতিফুর রহমান জানান, ফকিরপাড়ার কালভার্টের সংযোগ সড়কের বিষয়ে বারবার ঠিকাদারকে বলছি। তিনি কর্ণপাত করছেন না। দুই-একদিনের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।