কয়েক বছর আগের কথা। এক শীতে পাবনার ঈশ্বরদীর আলহাজ টেক্সটাইল মিল প্রাঙ্গণের গাছপালায় এসে বসে কয়েক ঝাঁক অতিথি পাখি। এরা আশপাশের বিলসহ বিভিন্ন স্থান থেকে খাবার সংগ্রহ করে খায়, আর কারখানার গাছপালায় থাকে। এভাবে শীত চলে যায়; কিন্তু পাখিগুলো আর ফিরে যায় না। সেই থেকে তারা এই কারখানার গাছপালায় নিরাপদে বসবাস করছে। কেউ তাদের বিরক্ত করে না। ঈশ্বরদী পৌর এলাকার আলহাজ মোড়ে আলহাজ টেক্সটাইল মিলের অবস্থান। সেখানে বিভিন্ন গাছপালার মধ্যে রয়েছে একটি শতবর্ষী কড়ই গাছ। পাখির দল দিনভর আশপাশের খালবিলে খাবার সংগ্রহ শেষ করে সন্ধ্যায় ফিরে আসে নিজেদের নিরাপদ আশ্রয় গাছের ডালে। এসব পাখির মধ্যে রয়েছে শামুকখৈল, সারস, পানকৌড়ি। দেশি প্রজাতির পাখিরা অতিথি পাখিদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছে। তারা মিলেমিশে আলহাজ টেক্সটাইল মিল এলাকার গাছপালায় বাস করছে। কারখানার শত শত শ্রমিক-কর্মচারীর পাশাপাশি আশপাশের লোকজনও পাখিগুলোকে আপন করে নিয়েছে। মিল কর্তৃপক্ষ পাখির নিরাপদ বসবাসের জন্য মিল এলাকাকে অভয়ারণ্য ঘোষণা করেছে।

ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকে এলাকাটি। কারখানার কর্মকর্তা মিলন হোসেন বলেন, ‘বেশ কয়েক বছর আগে শীতের সময় কিছু গাছে কয়েক ঝাঁক অতিথি পাখি দেখা যায়। শীত শেষ হয়ে গেলেও তারা ফিরে না গিয়ে এসব গাছেই থেকে যায়। পরে এখানে এসব অতিথি পাখির সঙ্গে সারস, পানকৌড়ি, সাদা বকসহ দেশীয় বিভিন্ন ধরনের পাখি আসে। আবার প্রতি বছর এদের সঙ্গে আরও অতিথি পাখি এসে যোগ দেয়। এভাবে পাখির সংখ্যা বাড়তে বাড়তে এখন কয়েক হাজার পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে মিল এলাকা।’ কারখানার নিরাপত্তা প্রহরী মাসুদ হোসেন জানান, আলহাজ টেক্সটাইল মিলের জায়গাটি বিশাল। এমনিতেই কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক ছাড়া বহিরাগতদের এখানে প্রবেশাধিকার নেই। তার ওপর এসব পাখিকে যেন কেউ বিরক্ত না করে কিংবা কেউ যেন তাদের শিকার না করে, সে ব্যাপারে মিল কর্তৃপক্ষের কড়া নির্দেশনা রয়েছে। কারখানার লোকজন সবসময় পাখির প্রতি খেয়াল রাখেন। ‘আমি এই এলাকায় প্রায় তিন বছর বসবাস করছি। এখানে হাজারো পাখির কলকাকলিতে মুখর পরিবেশে খুব ভালো লাগে। কেউ পাখিদের বিরক্ত করে না। কেউ শিকার করার কথা ভাবেও না।’
‘পাখিগুলো দিনভর পদ্মা নদী ও আশপাশের খালবিলে শামুক, ছোট মাছসহ নানা ধরনের পোকামাকড় ধরে আহার শেষে সন্ধ্যার আগেই ফিরে আসে এখানে। একসঙ্গে এত পাখির বসবাস ঈশ্বরদী উপজেলার আর কোথাও নেই।’ পরিবেশবাদী সংগঠন ‘সবুজ পৃথিবী’র ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও পাকশী রেলওয়ে কলেজের শিক্ষক মনিরুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘আলহাজ মোড়ের এই এলাকায় গাছপালা রয়েছে। জলাধারও খুব নির্জন। তাছাড়া চারদিকে নিরাপত্তা বেষ্টনী থাকায় এখানে পাখিদের কেউ বিরক্ত করে না। হয়তো এ কারণে তারা এই এলাকা নিরাপদ বোধ করে আবাসস্থল করে নিয়েছে।’ ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবীর কুমার দাশ বলেন, ‘এসব পাখিকে যেন কেউ বিরক্ত বা শিকার না করে, সে বিষয়ে আলহাজ টেক্সটাইল মিল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে।’