একটি প্রাকৃতিক বাগানে সাধু অসাধু উপকারী ক্ষতিকর বৃক্ষ লতাগুল্ম যেভাবে জন্মাতে থাকে, একইভাবে মানব বাগানে বসবাস করে আসছে স্বার্থপর ও পরোপকারী ব্যক্তিবর্গ। কথাটা পুরোনো হলেও নতুন করে বলছি; সংশোধনতো মানুষের জন্যই হয়ে থাকে। সমাজটিকে গড়ে তোলে মানুষ আবার ধ্বংসও করে মানুষের দল। শিক্ষা ব্যবস্থা মানুষকে ন্যায়, সত্য ও সুন্দরের পথে করে পরিচালনা।
পৃথিবীতে খুন ধর্ষণ ঘটে আসছে সেই আদিকাল থেকে। অপরাধ প্রবণতা ব্যক্তি জীবনে জন্ম নেয় আবার ব্যক্তিকেই তা নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। ঘুষ-দুর্ণীত, খুন-ধর্ষন, লুন্ঠন-রাহাজানি প্রকাশ্যে সমর্থন করা ব্যক্তি সমাজে পাওয়া যায় না। তারপরেও যারা এমন জঘন্য অপরাধগুলো নিজেদের হীন স্বার্থে জীয়িয়ে রাখে তারা সমাজের অপশক্তি। যে কোনো মূল্যে ক্ষতিকারক অপশক্তি মূলোৎপাটন করা হবে সমাজ সংস্করণের পূবশর্ত। আমাদের বর্তমান নিয়ে চলতে হয়। ভবিষ্যত অনাগত, তেমন কোনো হাত নেই ভবিষ্যতের কর্মযজ্ঞের উপর। আর অতীত যা ইতোমধ্যে হয়ে গেছে বিগত, তেমন পতীত ঘটনাপুঞ্জি থেকে আমাদের শিক্ষণীয় ছবক রয়েছে প্রচুর। অতীতে ঘটে যাওয়া অঘটনের উপর যদিও কোনো কিছু করার হাত নেই আমাদের, তথাপি নরঘাতি কর্মকান্ডের আড়ালে আবডালে রাখার মত বহুলোক রয়েছে আমাদের সমাজে। অশিক্ষা কুশিক্ষা অগ্রগতির অন্তরায়। কেউবা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে ফেরে মেয়েদের শিক্ষা দীক্ষা না করানোই ভালো। আর অবোধের দল আমরা সমস্বরে আমিন আমিন ধ্বনিতে আলহাদুলিল্লাহ বলে ভুতুরে কান্ডকারখানার সমর্থন করে বসি।
যে ব্যক্তি মানুষ খুন করে নিজের হাত পাকিয়েছে, তাকে অবজ্ঞা করার মনে বৃত্তি না জাগে কেমন করে। কেবল অজ্ঞতা অশিক্ষা এহেন জঘণ্য কাজে সমর্থন যোগায়।
টাকা-পয়সা লেনদেন করার সময় প্রত্যেকটি কাগুজী নোট যেভাবে খুটে খুটে দেখা হয়ে থাকে, একইভাবে অতীতের মহানয়কদের কর্মকান্ডের ক্ষতিয়ান যদি তেমনিভাবে পরখ করে দেখা সম্ভব হতো তবে সমাজে অপরাধ প্রবণতা বহুলাংশে কমে যেত। নেতা-নেতৃদের ইতিহাস আমাদের অবশ্যই খুঁজে বের করতে হবে। আর যাদের আমরা আদর্শস্থানীয় প্রেরণাদায়ী চালিকাশক্তি হিসেবে বরণ করব তাদের বিষয় খুটিনাটি অবশ্যই আমাদের জানতে হবে। কোনো ব্যক্তিকে আপত: দৃষ্টিতে দেখা মাত্র সাধু অসাধু তকমা দেয়া উচিৎ হবে না।
নেতার কর্মকান্ড সরোজমিনে দেখার পর আমরা সমীকরণ পেতে চেষ্টা করব। কথায়-কাজে, চাল-চলনে যদি ঔক্য খুঁজে পাওয়া যায় তবে তার কথায় আপত্তি থাকবে কেন। মানুষ ছাড়া সমাজ গড়া সম্ভব নয়; তাই বলে মানুষের স্থলে কতকগুলো অমানুষ এনে জড়ো করা হলে হীতে বিপরীত হতে বাধ্য। খোদার নজর আর মানুষের নজর যদি সমান্তরালে চলতো তবে মানুষকে আজ ঠকতে হতো না। ইবলিস আস্রিত ব্যক্তিবর্গ সাধুর বেশে সাধারণের কাতারে মিশে যায়, যেমন মেষের চামড়া পরিধান করে হিংস্রনেকড়ে মেষের খোয়ারে ঢুকে পড়ে, তারপর ইচ্ছেমত মেষের তাজা রক্ত মাংস উপভোগ করে চলে।