বর্ষায় প্রতিবছর দুর্ঘটনার শিকার হয় শিক্ষার্থী ও যাতায়াতকারী লোকজন। ‘ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হতে হয়। সেতুর জন্য রাজনৈতিক নেতাদের কাছে অনেক তদবির করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কিন্ত ভোট শেষে বেমালুম ভুলে গেছে।’ কথাগুলো টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ভাদ্রা ইউনিয়নের কাওনহোলা এলাকার স্কুলশিক্ষক রফিকুল ইসলামের। তিনি প্রশাসনের কাছে সেতু নির্মাণের দাবি জানান। নাগরপুর উপজেলার কাওনহোলা এলাকায় দীর্ঘদিন একটি সেতুর অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন অন্তত ২৪ গ্রামের মানুষ।
তারা নিজেদের অর্থায়নে স্বেচ্ছাশ্রমে ২৬০ ফুট দীর্ঘ বাঁশ ও কাঠের সাঁকো তৈরি করে নিয়েছেন। অস্থায়ী সেই নড়বড়ে সাঁকোর ওপর দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন হাজারো মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মেঘনা বনগ্রাম বাজার থেকে কাওনহোলা হয়ে ধুবড়িয়া ইউনিয়নের সেহরাইল সড়কে কাওনহোলা খালের ওপর সাঁকোটির অবস্থান। দৌলতপুর ও নাগরপুরের সংযোগস্থলও। দুই উপজেলার ২৪ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ এর ওপর দিয়ে যাতায়াত করেন। কয়েক বছর আগে স্বেচ্ছাশ্রমে এটি নির্মাণ করলেও এর কাঠামো নড়বড়ে হয়ে গেছে। সাঁকোটি ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয় লোকজনের। তাদের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুমে চলাচল আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
প্রতিদিন পণ্য আনা–নেওয়া করতে এলাকার লোকজনের এ পথ ব্যবহার করতে হয়। বর্ষায় অবস্থা খারাপ হওয়ায় পণ্য আনা–নেওয়াই বন্ধ হয়ে যায়। জীবনমান ও ব্যবসার প্রসার ঘটাতে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা। ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়েই মুসল্লি, শিক্ষার্থী, রোগীসহ সবাই যাতায়াত করেন বলে জানান কাওনহোলা জামে মসজিদের ইমাম আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, বর্ষার সময় সাঁকো ও রাস্তায় হাঁটা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়, দুর্ঘটনাও ঘটে। স্থানীয় ভাদ্রা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য লুৎফর রহমান বাবুল বলেন, এলাকাবাসীর উদ্যোগে নির্মিত বাঁশ–কাঠের সাঁকোই ২৪ গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা। পাকা সেতু না থাকায় ও সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে সবাই ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।
সেতু নির্মাণের দাবিতে তারা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী তোরাপ আলী বলেন, ধুবড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বনগ্রাম বাজার হয়ে সেহরাইল পর্যন্ত দুই হাজার ৩০০ মিটার রাস্তা এবং কাওনহোলা খালের ওপর ৪০ মিটার দীর্ঘ গার্ডার সেতু নির্মাণের প্রাক্কলন করা হয়েছে। এলজিইডির প্রধান কার্যালয়েও পাঠানো হয়েছে প্রস্তাব। প্রকল্প অনুমোদন পেলে দরপত্র আহ্বান করে দ্রুত কাজটি বাস্তবায়ন করা হবে