পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন কর্মকর্তা মোহাম্মাদ খালেদুর রহমান মিয়া বলেন, পটুয়াখালীতে চিকিৎসকের ব্যাপক সংকট চলছে। বাউফলে মাত্র তিনজন চিকিৎসক আছে। চিকিৎসক সংকটের কারণে হয়তো এমনটি হয়েছে, যা উচিত না। তবে চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ হলে এ সংকট কেটে যাবে। তার নিয়োগ সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাগানের মালি কাম হারবাল সহকারী পদে। বাগানের দেখাশোনা করাই তার মূল কাজ। তবে সেই হাসপাতালে বাগান নেই, হারবাল চিকিৎসা পদ্ধতিও নেই। তাই বাগানের সেই মালিকে লাগানো হচ্ছে জরুরি বিভাগের কজে। ক্ষত রোগীর সেলাই, ব্যান্ডেজ থেকে শুরু করে ইনজেকশন পুশইন– সবই করেন তিনি। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও ঠিক এমনটাই ঘটেছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এমনকি ওই মালির বিরুদ্ধে চিকিৎসা শেষে স্বজনদের কাছ থেকে টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. সবুজ। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত আছেন। রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আরও আগে সবুজের নিয়োগ হয়েছিল বাগানের মালি কাম হারবাল সহকারী পদে।
তবে হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্সসহ পর্যাপ্ত জনবল সংকটের কারণে তাকে কাজে লাগানো হচ্ছে জরুরি বিভাগে। সেখানে তিনি রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন, রোগীর ক্ষতস্থান সেলাই করা, ব্যান্ডেজ কিংবা ইনজেকশন পুশইনের কাজও করেন। তার নিয়োগ বাগানে হলেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন জরুরি বিভাগে। এতে ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা পড়ছেন বিপাকে। হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার পর রোগীর কাটাছেঁড়া ও অপারেশন স্থানে ইনফেকশন হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন অনেকেই। রাসেদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি বলেন, সম্প্রতি আমার স্ত্রীর অপারেশন হয়। তার ড্রেসিং (ক্ষত স্থান সুরক্ষিত রাখতে ব্যান্ডেজ বদলানো) করার জন্য বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েছিলাম। জরুরি বিভাগে কাজ করছিল সবুজ। সে ড্রেসিং করে দেয়। কয়েকদিন পরে আমার স্ত্রীর অপারেশন স্থানে ইনফেকশন ধরা পড়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি একজন চিকিৎসক (বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত) বলেন, একজন মালি কি করে জরুরি বিভাগে রোগীর সেলাই–ব্যান্ডেজ করেন, এটা আমার বোধগম্য নয়।
এ বিষয়ে কি তার প্রশিক্ষণ আছে। একজন কাটা ছেঁড়া ক্ষত নিয়ে আসা রোগী সঠিক চিকিৎসা না পেলে বড় ধরণের ঝুঁকি থেকে যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মালি কাম হারবাল সহকারী মো. সবুজ বলেন, জরুরি বিভাগে আমার কোনো ডিউটি নাই। কারণ আমার কাজ আলাদা (ভিন্ন)। আমাদের এখানে ইউনানী আয়ুর্বেদী চিকিৎসক নাই। কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে করলে আমাকে যেখানে ইচ্ছে খাটাতে পারে। লোক সংকটরে কারণে আমাকে জরুরি বিভাগে ডিউটি দিয়েছে। রোগীর স্বজনদের কাছে টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারো কাছ থেকে জোর করে টাকা নিই না। রোগীর স্বজনরা খুশি হয়ে যা দেয়, তাই নিই।
এখানে জোরের কিছু নাই। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রউফ বলেন, আমার এখানে জরুরি বিভাগে কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত ডাক্তার নেই। যে পরিমাণ মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট থাকে তাও নেই। এই সংকটের কারণে তাকে (মালি সবুজ) দিয়ে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের সহযোগী হিসাবে কাজ করানো হয়।