পটুয়াখালীতে ১০ দিনের টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে সবজি ক্ষেত। এখনও পানির নিচে রোপা আমন ধানের বীজতলা। পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় নষ্ট হওয়ার পথে সবজি ও বীজতলা। নতুন করে বীজতলা তৈরির সময় না থাকায় আমন আবাদ নিয়ে বিপর্যয়ের মুখে কৃষক। পটুয়াখালীতে ১০ দিনে ৫৫৫ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তলিয়ে গেছে ৯৩৪ হেক্টর জমির রোপা আমনের বীজতলা। এতে চলতি মৌসুমে আমন আবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। অতিবৃষ্টিতে শাকসবজি আক্রান্ত হয়েছে ৩৩২ হেক্টর। সব মিলিয়ে ১০ দিনের বৃষ্টিতে কৃষি ক্ষেত্রে পাঁচ কোটি ৪২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় এখ লাখ ৯০ হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে। আবাদের জন্য তিন হাজার ৭৩৯ হেক্টর জমিতে বীজতলা প্রস্তুত করা হয়। ১ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত টানা ১০ দিন কখনও ভারি, কখনও মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হওয়ায় জেলার অধিকাংশ এলাকার বীজতলা তলিয়ে যায়। কিছু কিছু ক্ষেতে স্থায়ী জলাবদ্ধতাও দেখা দেয়।
এতে ১৮৬ হেক্টরের বীজতলা সম্পূর্ণ এবং ২৮০ হেক্টরের আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। টাকার অঙ্কে ক্ষতির পরিমাণ দুই কোটি ৯৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ৬৬ হেক্টরের সম্পূর্ণ এবং ১৬৬ হেক্টরে আংশিক ক্ষতি হয়েছে সবজির। এতে দুই কোটি ৪২ লাখ ৭০ হাজার ৩০০ টাকার ক্ষতি হয়। সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের পশ্চিম বদরপুর গ্রামের কৃষক ইদ্রিসুর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘জমিতে কোমর সমান পানি। বীজপরা (বীজতলা) সব পইচ্চা গ্যাছে। অ্যাহোনো পানি নামে নাই। নতুন কইর্যা বীজপরা করতে পারতাছি না। মোরা অ্যাহোন কী করমু হেই দুশ্চিন্তাই আছি।’ উত্তর বদরপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল বারেক মিয়া বলেন, ‘কৃষকরা যা বীজপরা করছিল তা সবই পইচ্চা গ্যাছে। পানি নাইম্যা যাওয়ার পর কেউ যদি ধান জোগার কইর্যা ফের বীজপরা করতে পারেন, তাইলে আমন চাষাবাদের কায়দা আছে, নইলে কোনো কায়দা নাই।’ রাঙ্গাবালী উপজেলার রাঙ্গাবালী ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের জাকির হোসেন বলেন, ‘এই রহোম বৃষ্টি আর দেখি নাই। সব তলাইয়্যা গ্যাছে। বীজপরা পইচ্চা গ্যাছে।’ পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ এইচ এম শামীম জানান, ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে আমনের বীজতলা ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে রয়েছে। পানি নেমে গেলেই কৃষকরা নতুন করে বীজতলা করতে পারবেন। ক্ষতির পরিমাণ কমাতে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তাদের পরামর্শ ও পরবর্তী করণীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করলে আশা করছি তেমন ক্ষতি হবে না।