চট্টগ্রামে বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম। পাশাপাশি বেড়েছে ভোগ্যপণ্যের দামও। এর মধ্যে বেশি বেড়েছে চাল, শাকসবজি ও মুরগির দাম। বৃষ্টির অজুহাতে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে শসার দাম। সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই বেড়েছে জিরা, এলাচসহ কয়েকটি মসলাজাতীয় পণ্যের দাম। এতে নিম্ন ও সীমিত আয়ের পরিবারগুলোয় আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে। ভোক্তাদের অভিযোগ–নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণের অভাব ও অতিবৃষ্টির কারণে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম ঊর্ধ্বমুখী। চট্টগ্রামে বাজার মনিটরিংয়ের পরও দিনদিন অস্থির হয়ে উঠছে নিত্যপণ্যের বাজার। কোনো পণ্যের দাম কমার লক্ষণ নেই। সরকার নির্ধারিত দাম কাগজে–কলমে থাকলেও বাজারের কোথাও এ দামে পণ্য বিক্রি হচ্ছে না। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে গঠিত টাস্কফোর্স বাজার মনিটরিং জোরদার করেছে। শুধু জেলা পর্যায়ে নয়, উপজেলা পর্যায়েও টাস্কফোর্স ব্যাপকভিত্তিক বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করছে প্রশাসন। সরকারের নির্দেশনা যে কোনো মূল্যে সিন্ডিকেট ভেঙে নিত্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসা।
কোনো অবস্থায়ই বাজার অস্থিতিশীল করতে দেওয়া যাবে না। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোনো কারণ ছাড়াই বেড়েছে চালের দাম। বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল এখন ৬০–৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৫৬–৫৮ টাকা। সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৮৮–৯০ টাকায়, যা আগে ছিল ৮৫–৮৮ টাকায়। উত্তরাঞ্চলের মিল মালিকরা পরিবহণ ও সরবরাহ সংকট, ধানের দাম বৃদ্ধি এবং মজুত কমে যাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে প্রতিবছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে চালের বাজার অস্থির করে তোলেন। অথচ প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। মূলত প্রশাসনের কঠোরতার অভাবকে পুঁজি করে ধান–চালের দাম ওঠানামা করান এসব অসাধু ব্যবসায়ী। অন্যদিকে নগরীর চাক্তাইয়ের মিল মালিকরা বলছেন, গত দুই মাসে মনপ্রতি ধানের দাম বেড়েছে ২০০ টাকা পর্যন্ত। যার প্রভাব পড়েছে চালের বাজারে। কয়েকটি মসলাজাতীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। ভালো মানের এলাচ প্রতি কেজি ৫ হাজার ৫০০ টাকায় উঠেছে। কিছুটা বেড়েছে জিরার দামও। প্রতি কেজি ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা। পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। দেশি আদা ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা, দেশি রসুন ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, আমদানি করা রসুন ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। দারুচিনি ৫২০, লবঙ্গ ১ হাজার ৪০০, কালো গোলমরিচ ১ হাজার ৩০০, সাদা গোলমরিচ ১ হাজার ৬০০ এবং জিরা ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। টানা বৃষ্টির কারণে বাজারে মুরগির সরবরাহও কিছুটা কম। কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার মুরগি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় এবং সোনালি মুরগি মানভেদে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অপরিবর্তিত রয়েছে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম, প্রতি ডজন ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা। মাছের দাম কিছুটা স্থিতিশীল। নগরীর একাধিক কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, দাম দ্বিগুণ বেড়ে হাইব্রিড শসা ৯০ এবং দেশি শসা ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এর আগে শসা ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। হঠাৎ সরবরাহ সংকটে কাঁচামরিচের দাম এক লাফে প্রতি কেজি ৪০০ টাকায় উঠেছিল। সরকার ভারত থেকে আমদানি শুরু করায় কাঁচামরিচের উত্তাপ কিছুটা কমেছে। এখন প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ২৪০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুন মানভেদে প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১২০, করলা ৮০ থেকে ১০০, কাঁকরোল ৮০, ঝিঙা ৮০, টমেটো ১৪০ থেকে ১৬০, ঢ্যাঁড়শ ও পটোল ৬০ থেকে ৭০, পেঁপে ৪০, ধুন্দল ৬০ থেকে ৭০, লম্বা লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ এবং চালকুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা।