ময়মনসিংহের ভালুকায় তিনজনকে হত্যায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন প্রধান আসামি নজরুল ইসলাম। পারিবারিক কলহ ও ভাবির সঙ্গে বিবাদের জেরে তিনজনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের। গত মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলস্টেশন থেকে এই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১৩ জুলাই রাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন গৃহবধূ ময়না আক্তার, তাঁর মেয়ে রাইসা আক্তার ও ছেলে নীরব। গতকাল বুধবার ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ্ আল্–মামুন জানান, গ্রেপ্তার নজরুল ইসলাম আগের একটি হত্যা মামলারও আসামি। ট্রেনে ছিনতাই করতে গিয়ে একজনকে ফেলে দিয়ে হত্যার অভিযোগে দুই বছর কারাভোগ করে জামিনে মুক্ত হন। তিনি বলেন, গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার ওই হত্যা মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
দেড় মাস আগে জামিনে বেরিয়ে ভালুকায় তাঁর বড় ভাই রফিকুল ইসলামের ভাড়া বাসায় থাকতে শুরু করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল ইসলাম পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁর ভাবি ময়না আক্তার প্রায়ই তাঁকে ‘আবার জেলে পাঠিয়ে দেবে’ বলে হুমকি দিতেন এবং ঝগড়াবিবাদ করতেন। এ ছাড়াও ভাবি ময়না ও ভাতিজি রাইসা আক্তার প্রায়ই খাবার নিয়ে খোঁটা দিতেন। এসব নিয়ে তাঁর মধ্যে ক্ষোভ জমে ছিল। গত ১৩ জুলাই দুপুরে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এর জেরেই তিনজনকে হত্যা করা হয়। নজরুল জানান, গত ১৩ জুলাই রাত ১টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় প্রথমে দা দিয়ে ভাবি ময়নাকে জবাই করে হত্যা করেন। এ সময় তাঁর ভাইয়ের দুই শিশু সন্তান রাইসা ও নীরব জেগে গেলে প্রথমে তাদের শ্বাসরোধ করে এবং পরে গলা কেটে হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ড শেষে ঘরের মেঝেতে ছড়িয়ে থাকা রক্ত বিছানার চাদর দিয়ে মুছে ফেলেন এবং রক্তমাখা চাদরটি খাটের নিচে রেখে দেন। এর পর তিনি পাশের রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। ভোর ৫টার দিকে ঘুম থেকে উঠে বারান্দার গেটে তালা লাগিয়ে ভালুকা গ্যাস লাইন এলাকার কামরুল মিলিটারির রিকশার গ্যারেজে চলে যান। সেখানে তিনি তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বিক্রি করে একটি ভাড়ায় চালিত অটোরিকশা নিয়ে গাজীপুরের দিকে রওনা হন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, মাওনা এলাকায় একটি গ্যারেজে অটোরিকশাটি বিক্রির চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন নজরুল। পরে অটোরিকশাটি রেখে গ্যারেজ থেকে তিন হাজার টাকা নিয়ে তিনি গাজীপুর এলাকায় রাত কাটান। আবদুল্লাহ্ আল্–মামুন জানান, গত মঙ্গলবার দুপুরে নজরুল তাঁর এক আত্মীয়কে ফোন করেন। এই ফোন কলের সূত্র ধরেই ভালুকা থানার ওসি হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলস্টেশন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার নজরুল ইসলাম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হবে। নিহত ময়না আক্তার ভালুকা উপজেলার রাজৈ ইউনিয়নের পায়লাবর চৌরাস্তা গ্রামের আফতাব উদ্দিনের মেয়ে। তাঁর স্বামী রফিকুল ইসলাম নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের সেনের বাজার গ্রামের শুলতু মিয়ার ছেলে এবং তিনি ভালুকার রাসেল স্পিনিং মিলে চাকরি করতেন। হত্যার ঘটনায় গত সোমবার ভালুকা থানায় মামলা করেছেন নিহত ময়নার বড় ভাই জহিরুল ইসলাম।