গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা উজানের ঢলে কুমিল্লা গোমতী নদীর পানি বেড়েছে। তবে বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বিকাল পর্যন্ত পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও এরই মধ্যে তলিয়ে গেছে নদীর দুই পাশের চরের কৃষকের ফসলের জমি। এতে কৃষকদের চাষ করা চরের বিস্তীর্ণ এলাকার সবজির জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ওই এলাকাজুড় পানিতে তলিয়ে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর ফসলি জমি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। কৃষকরা বলছেন, গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় চরের ফসলের ক্ষতি কাটিয়ে না উঠতেই এবারের হঠাৎ বন্যায় ডুবছে তাদের ফসল। কষ্টের এমন ফসল হারিয়ে যাওয়ায় কাঁদছেন নদীর চরের কৃষকরা। অনেকেই সকাল থেকে তাদের পানিতে ডুবন্ত জমি থেকে নানা জাতের সবজি তুলে নিতে দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার
দুপুরে সরেজমিনে
নদীর কুমিল্লা
আদর্শ সদর
উপজেলার আমতলী
ও কাচিয়াতলীসহ
কয়েকটি এলাকায়
ঘুরে দেখা
গেছে, চরের যেসব
জমিতে করলা,
মুলা, লাউসহ বিভিন্ন
সবজির চাষ
হয়েছিল, তা এখন
পানিতে ডুবে
আছে। কৃষকের
অনেকেই মাথায়
হাত দিয়ে
নদীর কিনারায়
বসে আছেন। কৃষকরা
বলছেন, আর মাত্র
দুইদিন সময়
পেলেই এসব
সবজি বাজারে
তোলা যেত। আমতলী
এলাকার কৃষক
মো. সুজন মিয়া
বলেন, গোমতী নদীর
এ চরে
প্রায় ৩
একর জমিতে
করলাসহ নানা
জাতের সবজি
চাষ করেছি।
আর মাত্র
দুইদিন পর
এসব ফসল
বাজারে বিক্রি
করা যেত।
কিন্তু গত
কয়েক দিনের
টানা বৃষ্টিপাতে
সব ফলন
তলিয়ে গেছে।
আমি ব্যাংক
ঋণ ও
কিস্তি নিয়ে
দুই বছর
আগে থেকে
কৃষি কাজ
শুরু করছি।
আমার প্রায়
১২ লাখ
টাকার ক্ষতি
হয়েছে। আমি
এ ঋণ
কীভাবে শোধ
করবো জানি
না।
কাচিয়াতলী এলাকার কৃষক মনির হোসেন বলেন, গত বছরের বন্যায় আমরা কোনো ক্ষতিপূরণ পাইনি। এবারের বন্যায় আমাদের সব ফসল পানিতে ডুবে গেলে। পানিতে নেমে কিছু করলা সংগ্রহ করেছি, বাকি সব নষ্ট হয়ে গেছে। গোমতী নদীর জেলার বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া ও দেবীদ্বারের বেশ কিছু এলাকারও একই চিত্র। পাঁচথুবী এলাকার কৃষক আবদুর রাজ্জাক ও মমিন মিয়া বলেন, এই বছর ফসল তোলার মুহূর্তে বন্যার পানিতে সব ভেসে গেছে। মরিচ, ধনে পাতা, মিষ্টি কুমড়া, মুলা–এসব ৬ ফুট পানির নিচে। মাচায় কিছু করলা আছে, সেগুলো নৌকায় করে গিয়ে সংগ্রহ করতেছি। এছাড়া বেশিরভাগ ফসল পানিতে ভেসে গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপপরিচালক মো. আইউব মাহমুদ বলেন, গোমতী নদীর চরে চলতি বন্যায় প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তবে বন্যার পানি কমে গেলে কৃষকের কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা বলা যাবে। আমরা সকল উপজেলা থেকে তথ্য সংগ্রহ করছি। সরকার যদি এসব ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বরাদ্দ দেয় তাহলে তারা পাবেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান জানান, গোমতী নদীর পানির উচ্চতা বিপৎসীমার সর্বোচ্চ পরিমাপ ১১ দশমিক ৩০ মিটার হলেও পানির উচ্চতা ৬ থেকে ৮ মিটার হলেই চরের অনেক কৃষিজমি ডুবে যায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় এ নদীর পানি ৯ দশমিক ৪৮ মিটার উচ্চতায় বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।