সার্বিক বিতর্কের উদ্ধে একটি বিষয় জ্ঞানী ব্যক্তিদের মেনে নিতে হচ্ছে, যা হলো ধর্মীয় বিধি–বিধান অনুযায়ী তাদের জীবনমান আর সমান্তরাল অবস্থানে চলছে না। তারা ইতোমধ্যে স্খলীত, খোদার মহিমা খন্ডন করে বসে আছে। যদিও মানুষ সৃষ্টি করা হয়েছিল খোদার প্রতিনিধি হিসেবে, কিন্তু নিজেদের অক্ষমতা ব্যর্থতার কারণে আজ সকলে পাইকারীহারে পতীত। সকলেই পাপ করেছে, এবং খোদার গৌরব হারিয়ে বসেছে। ধর্মী গ্রন্থ বলতে বিশ্বে যাবতীয় পুস্তকে ঐ একই সাক্ষি দিয়ে ফিরছে, তওবা করার জন্য, প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য। কোরবানি দেবার জন্য নানা প্রকার দানসদগা দিয়ে রাখা যেমন গচ্ছা দিয়ে কালো টাকা সাদা করার পায়তারা, যেন আপন আপন কৃতপাপের যতোপুযুক্তভাবে খোদার গ্রাহ্য কোরবানী দেয়া হয়। খোদার কাছে তেমন কোরবানি হলো অনুতপ্ত হৃদয়। ভগ্নচূর্ণ আত্মা। অপরাধী আপন আপন অপরাধের ক্ষতিয়ান অনুধাবন করে খোদার কাছে যখিন লুটিয়ে পড়ে উত্তর প্রতুত্তর করে (ইশাইয়া ১ : ১৮)। মেহেরবান খোদা সাথে সাথে তাদের ক্ষমা করে নিজের বক্ষে পুনরায় তুলে নেন। কেননা তিনি হলেন প্রেম ও ক্ষমার অফুরান পারাবার। তিনি মানুষের পাপের স্খলনের জন্য এক অপূর্ব ব্যবস্থা করেছেন, স্বীয় কালাম ও জীবন্ত রূহ মানুষ রূপে জগতে প্রেরণ করেছেন, যিনি হলেন পূতপবিত্র কোরবানিরযোগ্য মেষ যাকে মানুষের বিকল্প মেষ হিসেবে কোরবানি দেয়া হয়েছে তাদের পাপের কাফফারা বা প্রায়শ্চিত্ত শোধ দেবার জন্য। তিনি হলেন মানবের প্রতি খোদার রহমতের এক বিশেষ ব্যবস্থা, মানুষকে মুক্ত পাপ করার জন্য। খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসীহের নাম আপনি কখনো কি শুনেছেন? তিনি হলেন শতভাগ একক বেগুনাহ ব্যক্তি, তিনি আদমের কলুষিত ঔরষজাত নন। তিনি হলেন জীবন্ত পাকরূহ এবং খোদার কালাম নিরুপায় মানুষের মুক্তি একক ব্যবস্থা। কেবল খোদার রহমতে আজ মানুষের মুক্তির দুয়ার খুলে দিয়েছেন তিনি সকলের জন্য। তিনি দাবি করেছেন, তিনিই পথ, সত্য ও জীবন। তিনি মেষদের একক দরজা। মানুষের পাপের কাফফারা সাধনকারী শতভাগ পূতপবিত্র মেষ (মথি ২০ : ২৮)। প্রশ্নজাগা স্বাভাবিক, নাজাত পেতে হলে গুনাহগারদের কি করতে হবে। এমন প্রশ্ন করলে হযরত পিতরের জ¦ালা বক্তব্য শুনে (প্রেরিত ২ : ৩৮–৩৯) এবং জেলখানায় পৌলকে……। ধর্ম নিয়ে বাণিজ্য করা ধার্মিকতার কোনো চিহ্ন হতে পারে না। ধর্মের নামে যাবতীয় বাণিজ্য পরিহার করে আসুন মাবুদের কাছে আন্তরিকভাবে পানাহা চাই, মাগফেরাত কামনা করি; তিনি প্রতিজ্ঞা করেছেন, যে কেউ তাঁর কাছে শতভাগ বিশ^াস নিয়ে আছে, তিনি তাদের ফিরিয়ে দিবেন না, বঞ্চিত করবেন না।
তাই কোনোমতেই ধর্ম নিয়ে আর বাণিজ্য করা চলবে না। বরং ধর্মীয় বাণীর যর্থার্থ সাধারণ জনতকে জ্ঞাপন করতে হবে, তাদের সম্মুখে সহজ সরল রাস্তা প্রদর্শণ করা হবে জ্ঞানিদেরর একক দায়িত্ব। কিতাবুল মুকাদ্দস থেকে কতিপয় আয়াত তুলে ধরছি, পাঠককুল উক্ত আয়াতের আলোকে নিজেদের অবস্থান জেনে নিতে পারবেন আশা করি।
ইশাইয়া ৪৯ : ৫–৭
মাবুদ তাঁর গোলাম হবার জন্য আমাকে গর্ভের মধ্যে গড়েছেন যেন আমি ইয়াকুবকে তাঁর কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারি আর ইসরাইলকে তাঁর কাছে আনতে পারি। আমি মাবুদের চোখে সম্মানিত আর আমার আল্লাহ্ আমার শক্তি। তিনি বলছেন, “কেবল ইয়াকুবের বংশকে উদ্ধার করবার জন্য আর ইসরাইলের বেঁচে থাকা বান্দাদের ফিরিয়ে আনবার জন্য যে তুমি আমার গোলাম হবে তা নয়; সেটা খুবই সামান্য ব্যাপার। এছাড়াও আমি অন্য জাতিদের কাছে তোমাকে আলোর মত করব যেন তোমার মধ্য দিয়ে সারা দুনিয়ার লোক নাজাত পায়।” লোকে যাঁকে তুচ্ছ করছে ও ঘৃণার চোখে দেখছে, যিনি শাসনকর্তাদের গোলাম, তাঁকে ইসরাইলের আল্লাহ্ পাক ও মুক্তিদাতা মাবুদ এই কথা বলছেন, “বাদশাহরা তোমাকে দেখে উঠে দাঁড়াবে, আর রাজপুরুষেরা মাটিতে উবুড় হয়ে তোমাকে সম্মান দেখাবে, কারণ মাবুদ তোমাকে বেছে নিয়েছেন; ইসরাইলের আল্লাহ্ পাক বিশ্বস্ত।”
ইব্রানী ১ : ৩
আল্লাহর সব গুণ সেই পুত্রের মধ্যেই রয়েছে; পুত্রই আল্লাহর পূর্ণ ছবি। পুত্র তাঁর শক্তিশালী কালামের দ্বারা সব কিছু ধরে রেখে পরিচালনা করেন। মানুষের গুনাহ্ দূর করবার পরে পুত্র বেহেশতে আল্লাহ্তা’লার ডান পাশে বসলেন।
ফিলিপীয় ২ : ৮–১১
এছাড়া চেহারায় মানুষ হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত, এমন কি, ক্রুশের উপরে মৃত্যু পর্যন্ত বাধ্য থেকে তিনি নিজেকে নীচু করলেন। আল্লাহ্ এইজন্যই তাঁকে সবচেয়ে উঁচুতে উঠালেন এবং এমন একটা নাম দিলেন যা সব নামের চেয়ে মহৎ, যেন বেহেশতে, দুনিয়াতে এবং দুনিয়ার গভীরে যারা আছে তারা প্রত্যেকেই ঈসার সামনে হাঁটু পাতে, আর পিতা আল্লাহর গৌরবের জন্য স্বীকার করে যে, ঈসা মসীহ্ই প্রভু।
ইউহোন্না ৬ : ৪০
আমার পিতার ইচ্ছা এই– আপনাদের মধ্যে যাঁরা পুত্রকে দেখে তাঁর উপর ঈমান আনেন তাঁরা যেন অনন্ত জীবন পান। আর আমিই তাঁদের শেষ দিনে জীবিত করে তুলব।
ইশাইয়া ১ : ১৮
মাবুদ আরও বলছেন, “এখন এস, আমরা বোঝাপড়া করি। যদিও তোমাদের সব গুনাহ্ টকটকে লাল হয়েছে তবুও তা বরফের মত সাদা হবে; যদিও সেগুলো গাঢ় লাল রংয়ের হয়েছে তবুও তা ভেড়ার লোমের মত সাদা হবে।
মীখা ৭ : ১৮–১৯
তোমার মত আল্লাহ্ আর কেউ নেই যিনি তাঁর বেঁচে থাকা লোকদের গুনাহ্ ও অন্যায় মাফ করে দেন। তুমি চিরকাল রাগ পুষে রাখ না বরং তোমার অটল মহব্বত দেখাতে আনন্দ পাও। তুমি আবার আমাদের উপর মমতা করবে; তুমি আমাদের সব গুনাহ্ পায়ের তলায় মাড়াবে এবং আমাদের সব অন্যায় সাগরের গভীর পানিতে ফেলে দেবে।
ইফিষীয় ১ : ৬–১০
তিনি এটা করেছিলেন যেন তিনি তাঁর প্রিয় পুত্রের মধ্য দিয়ে বিনামূল্যে যে মহিমাপূর্ণ রহমত আমাদের দান করেছেন তাঁর প্রশংসা হয়। আল্লাহ্র অশেষ রহমত অনুসারে মসীহের সংগে যুক্ত হয়ে তাঁর রক্তের দ্বারা আমরা মুক্ত হয়েছি, অর্থাৎ গুনাহের মাফ পেয়েছি। এই রহমত আল্লাহ্ তাঁর মহা জ্ঞান ও বুদ্ধির সংগে খোলা হাতে আমাদের দান করেছেন। ঠিক যেমন তিনি চেয়েছিলেন এবং মসীহের মধ্য দিয়ে আগেই স্থির করে রেখেছিলেন, সেই অনুসারেই তিনি তাঁর গোপন উদ্দেশ্য আমাদের জানিয়েছিলেন। তিনি স্থির করে রেখেছিলেন যে, সময় পূর্ণ হলে পর সেই উদ্দেশ্য কার্যকর করবার জন্য তিনি বেহেশতের ও দুনিয়ার সব কিছু মিলিত করে মসীহের শাসনের অধীনে আনবেন।
রোমীয় ৮ : ৩৪
কে তাদের দোষী বলে স্থির করবে? যিনি মরেছিলেন এবং যাঁকে মৃত্যু থেকে জীবিত করাও হয়েছে সেই মসীহ্ ঈসা এখন আল্লাহর ডান পাশে আছেন এবং আমাদের জন্য অনুরোধ করছেন।
১ইউহোন্না ২ : ১২
ছেলেমেয়েরা, মসীহের জন্য তোমাদের গুনাহ্ মাফ করা হয়েছে বলেই আমি তোমাদের কাছে লিখছি।
প্রেরিত ২ : ৩৮–৩৯
জবাবে পিতর বললেন, “আপনারা প্রত্যেকে গুনাহের মাফ পাবার জন্য তওবা করুন এবং ঈসা মসীহের নামে তরিকাবন্দী গ্রহণ করুন। আপনারা দান হিসাবে পাক–রূহকে পাবেন। আপনাদের জন্য, আপনাদের ছেলেমেয়েদের জন্য এবং যারা দূরে আছে, এক কথায় আমাদের মাবুদ আল্লাহ্ তাঁর নিজের বান্দা হবার জন্য যাদের ডাকবেন, তাদের সকলের জন্য এই ওয়াদা করা হয়েছে।”
প্রেরিত ১৬ : ৩০–৩১
তার পরে তিনি পৌল ও সীলকে বাইরে এনে জিজ্ঞাসা করলেন, “বলুন, নাজাত পাবার জন্য আমাকে কি করতে হবে?” তাঁরা বললেন, “আপনি ও আপনার পরিবার হযরত ঈসার উপর ঈমান আনুন, তাহলে নাজাত পাবেন।”
ইউহোন্না ১১ : ২৫–২৬
ঈসা মার্থাকে বললেন, “আমিই পুনরুত্থান ও জীবন। যে আমার উপর ঈমান আনে সে মরলেও জীবিত হবে। আর যে জীবিত আছে এবং আমার উপর ঈমান আনে সে কখনও মরবে না। তুমি কি এই কথা বিশ্বাস কর?
ইশাইয়া ৪৫ : ২২
হে দুনিয়ার সব শেষ সীমাগুলো, আমার দিকে ফেরো এবং উদ্ধার পাও, কারণ আমিই আল্লাহ্, আর কেউ মাবুদ নয়
ইয়ারমিয়া ৩২ : ৩৯
আমি তাদের এমন মন ও স্বভাব দেব যা কেবল আমারই দিকে আসক্ত থাকবে; তাতে তারা তাদের নিজেদের ও তাদের পরে তাদের ছেলেমেয়েদের উপকারের জন্য সব সময় আমাকে ভয় করবে।
রোমীয় ৫ : ১–২
ঈমানের মধ্য দিয়েই আমাদের ধার্মিক বলে গ্রহণ করা হয়েছে আর তার ফলেই হযরত ঈসা মসীহের মধ্য দিয়ে আল্লাহ্ ও আমাদের মধ্যে শান্তি হয়েছে। ২আল্লাহর এই যে রহমতের পথে এখন আমরা চলছি সেখানে আমরা মসীহের মধ্য দিয়ে ঈমানের দ্বারাই পৌঁছেছি। আল্লাহর মহিমা পাবার আশায় আমরা আনন্দ বোধ করছি