রেকর্ড গড়াই যেন একমাত্র লক্ষ্য বিশ্বনন্দিত কোরিয়ান সিরিজ ‘স্কুইড গেম’-এর। প্রথম সিজন মুক্তির পর রীতিমতো তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল বিশ্বজুড়ে। এরপর দ্বিতীয় সিজনেও গড়েছে অনন্য রেকড। এবার তৃতীয় সিজন মুক্তির পর গড়ল নতুন ইতিহাস। তুমুল জনপ্রিয় সিরিজটির নতুন মৌসুম অর্থাৎ ‘সিজন ৩’ মুক্তি পেয়েছে গত ২৭ জুন, আর তার ঠিক এক দিনের মধ্যেই এটি নজির গড়েছে। বিশ্বের ৯৩টি দেশের টপচার্টে এক নম্বরে উঠে এসেছে এই সাসপেন্স–থ্রিলারটি। এত দ্রুত বিশ্বজুড়ে এমন সাফল্য এর আগে কোনো কে–ড্রামার ভাগ্যে জোটেনি। বলতে গেলে, ইতিহাস গড়ল বহুল প্রত্যাশিত সিরিজটি। ডেটা অ্যানালিটিক্স প্ল্যাটফর্ম ‘ফ্লিক্সপ্যাট্রল’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২৮ জুনেই সিরিজটি নেটফ্লিক্সের ইংরেজি ও অ–ইংরেজি ভাষার উভয় ক্যাটাগরিতে সবচেয়ে বেশি দেখা সিরিজে পরিণত হয়। শুধু তাই নয়, ২৯ জুনেও ‘স্কুইড গেম ৩’ দখল করে রেখেছে প্রথম স্থান। এর প্রথম সিজন যে জায়গায় পৌঁছাতে নিয়েছিল এক সপ্তাহ, আর দ্বিতীয় সিজন উঠেছিল ৮০টি দেশের টপ চার্টে, সেখানে ‘সিজন ৩’ শুধু এক দিনেই পৌঁছে গেছে ৯৩টি দেশের শীর্ষে। এটা নিঃসন্দেহে কে–ড্রামার ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড।
‘সিজন ৩’-তে ফের দেখা গেছে লি জং জে ও লি বিয়ং হুনকে, যারা আগের সিজনগুলোতেও দর্শকের মন জয় করেছিলেন। ‘ফ্রন্ট ম্যান’ চরিত্রের জটিলতা ও লি জং জের মানসিক দ্বন্দ্ব– এই দুইয়ের টানাপোড়েন পুরো মৌসুমে দর্শকদের আটকে রেখেছে। এছাড়া এবারের সিজনে নতুন নতুন মৃত্যুর খেলায় বুদ হয়েছিলেন দর্শকরা। যদিও সিরিজের কিছু দৃশ্য ও সমাপ্তি নিয়ে দর্শক মহলে মতভেদ রয়েছে, তবুও আইএমডিবিতে ৮ রেটিং ও রোটেন টমোটোস–এ ৮৩ শতাংশ অ্যাপ্রুভাল রেটিং প্রমাণ করে, সিরিজটির প্রতি দর্শক প্রতিক্রিয়া বেশ ইতিবাচক। এছাড়া মুক্তির ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভেসে যায় রিভিউ, রিঅ্যাকশন ও মিমে। টিকটক, গুগল ট্রেন্ডস ও এক্স (সাবেক টুইটার)- সব জায়গায়ই ‘স্কুইড গেম ৩’ ট্রেন্ডিং–এ উঠে আসে। এই চমকপ্রদ সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই নেটফ্লিক্স জানিয়েছে– ‘স্কুইড গেম’ এর আমেরিকান রিমেক নির্মিত হচ্ছে। এটি কোরিয়ান গল্পকে পৌঁছে দেবে আরও বড় আন্তর্জাতিক বাজারে, এবং এর মাধ্যমে সিরিজটি রূপ নেবে এক গ্লোবাল ব্র্যান্ডে। তৃতীয় সিজনের শেষে দেখা মিলেছে অস্কারজয়ী অভিনেত্রী কেট ব্লানচেটের। ধারনা করা হচ্ছে, এবার আমেরিকান ভার্সনে স্কুইড গেমে দেখা যাবে জনপ্রিয় সব হলিউড তারকাকে।