নানা সুবিধা থাকা সত্ত্বেও মোংলা বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানির হার হঠাৎ আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। এর ফলে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে মোংলা কাস্টম হাউজে গাড়ি আমদানি থেকে রাজস্ব আদায় কমেছে প্রায় ৪৩৫ কোটি টাকা, যা ২১ দশমিক ৫ শতাংশ কম। মোংলা কাস্টম হাউজ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত মোংলা বন্দরে আমদানি হয়েছে ১১ হাজার ৬৭৬টি গাড়ি, যার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা। অথচ এর আগের অর্থবছরে একই সময়ে ১৩ হাজার ৭৯২টি গাড়ি আমদানি হয়েছিল এবং রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২ হাজার ১৩ কোটি টাকা। ফলে গাড়ি আমদানি কমেছে ২ হাজার ১১৬টি। কাস্টমস কমিশনার ম. সফিউজ্জামান জানান, মোংলা কাস্টম হাউজের মোট রাজস্বের ৫৯ শতাংশ আসে গাড়ি আমদানির মাধ্যমে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অর্থনৈতিক অস্থিরতা, ডলার সংকট, মূল্যবৃদ্ধি এবং আমদানিকারকদের নানা জটিলতার কারণে গাড়ি আমদানি হ্রাস পেয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। আগামীতে পরিস্থিতি উন্নত হলে আমদানি আবারও বাড়বে।
এদিকে গাড়ি আমদানিকারক এবং বারভিডার সাবেক সভাপতি হাবিবুল্লাহ ডন বলেন, গত ৫ আগস্টের ঘটনার পর থেকে বাজারে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গাড়ির বিক্রি কমে গেছে, ব্যাংক ইন্টারেস্ট রেট ১৫ শতাংশ, বড় বড় আমদানিকারক গায়েব, সব মিলিয়ে একটা স্থবিরতা বিরাজ করছে। নতুন সরকার না আসা পর্যন্ত আমদানির পরিস্থিতি উন্নত হবে না বলেই মনে হচ্ছে। উল্লেখ্য, আনোয়ারা-মোংলায় একটি চাইনিজ ইকোনমিক জোন নির্মাণাধীন রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আমদানি-রপ্তানিতে গতি সঞ্চার করতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।