Saturday, August 30, 2025
দি সাপ্তাহিক আলোর ফোয়ারা
  • হোম
  • ই-সংখ্যা
  • অডিও বই
  • গান
  • সকল সংখ্যা
  • তথ্য
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • বহির্বিশ্ব
  • সম্পাদকীয়
  • কিতাবুল মুক্কাদ্দাস
No Result
View All Result
  • হোম
  • ই-সংখ্যা
  • অডিও বই
  • গান
  • সকল সংখ্যা
  • তথ্য
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • বহির্বিশ্ব
  • সম্পাদকীয়
  • কিতাবুল মুক্কাদ্দাস
No Result
View All Result
দি সাপ্তাহিক আলোর ফোয়ারা
No Result
View All Result

সন্ধিক্ষণ (এম এ ওয়াহাব)

alorfoara by alorfoara
June 21, 2025
in সংখ্যা ১৩২ (২১-০৬-২০২৫), সম্পাদকীয়
0
0
SHARES
Share on FacebookShare on Twitter

আপনি কি কখনো হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারে গিয়েছেন? নিজের জন্য অথবা আত্মীয়–স্বজনের জন্য। হাসপাতালে সাধারণতঃ অনেক ধরণের চিকিৎসা হয়ে থাকে। তারমধ্যে একটি হল শল্য চিকিৎসা। সাধারণতঃ জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য অস্ত্রপচার আবশ্যিক হয়ে পড়ে। যার উপর অস্ত্রপচার করা হয় সে ভাবতে শুরু করে যে, সম্ভবতঃ তার মৃত্যুর ক্ষণ অতীব নিকটবর্তী। হাসপাতালে ভর্তি হবার সময় একদফা সকলের কাছ থেকে সে সজল নেত্রে বিদায় নিয়ে নেয়। এরপর হাসপাতালে তাকে কয়েকদিন রাখা হয়। তার উপর নানা প্রকার পরীক্ষা নিরীক্ষা চালান হয়। ঔষধ–পথ্য দিয়ে তাকে অপারেশন–যোগ্য করে তোলা হয়। তাকে অস্ত্রপচারের জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ নির্বাচন করে দেয়া হয়। এ সময়ে সে আশা হতাশার মধ্যে দোদুল্যমান থাকে। এক এক মুহুর্ত করে তার দিন ফুরোতে থাকে। কয়েদির পোষাকের মত সারাক্ষণত: তাকেও নির্দিষ্ট পোষাক পরে থাকতে হয়। তাকে রোগী বলে চিহ্নিত করে দেয়া হয়। এ সময় আত্মীয়–স্বজনের মনেও বেশ চিন্তা, দুশ্চিন্তা উঠানামা করতে থাকে। অবশ্য রোগের গুরুত্বানুযায়ী স্বজনদের পক্ষ থেকে তার কাছে সার্বক্ষণিক ভাবে দেখাশুনা করার জন্য কেউ–না–কেউ পাশে থাকে। সে রোগীর নিঃসংগতা দূর করে। প্রবোধ দেয়, দুশ্চিন্তা করতে বারণ করে এবং তাকে স্বতঃষ্ফুর্ত রাখে।

 

ইতোমধ্যে চিকিৎসক অপারেশনের একটা নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করে ফেলেছেন। ঠিক নির্দিষ্ট তারিখে তার অধিকাংশ আত্মীয়–স্বজন তাকে ঘিরে ভীড় করে অবিরাম সমবেদনা জানিয়ে চলছে। কেউবা ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছে, কেউবা সান্ত¡না দিচ্ছে অতীত দোষ ত্রুটি, ঘটনা–দুর্ঘনটা ভুলে যাবার জন্য। মোট কথা তাকে ঘিরে ছোট–খাটো একটা অস্থির জনকুন্ড পরিবেশটি আরো উৎকণ্ঠাযুক্ত করে তুলছে। ঘড়ির কাটা টিক্ টিক্ করে যতটা এগিয়ে চলে, উভয় পক্ষ ততটা উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত হয়ে উঠে। প্রত্যেকের নয়ন সজল হয়ে উঠতে থাকে। তখনো হাসপাতালের লোকজন মানবতাহেতু দর্শনার্থীদের শেষবারের মত অনুমতি দেয়। কিন্তু এক সময় আর তা সম্ভব হয়ে উঠে না। তাকে এবার অস্ত্রোপচারের কক্ষে নেয়া হবে। এবার আষাঢ়ের মুষলধারে বর্ষণ শুরু  হল, আত্মীয়–স্বজন থেকে শুরু করে রোগীটি পর্যন্ত। সে এবার দারুণভাবে  ভীত। ধরে নেয় সে আর বাঁচবেনা। কারো কোন সান্ত¡না, প্রবোধ বাক্য আর কাজে আসছে না। শিশুর মত কাঁদতে শুরু করে দেয়। এবং সেই কান্না–বিজড়িত কণ্ঠে অসমাপ্ত অস্ফুট ভাষায় প্রত্যেকের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ক্লান্ত, শ্রান্ত পরাভূত, আশাহত অবস্থায় অপারেশন থিয়েটারে যাবার জন্য মন প্রস্তুত করতে থাকে।

 

ডাক্তারের নির্দেশ মোতাবেক তাকে অস্ত্রোপচারোপযোগী পোশাক পরানো হয়। সে একটি অসহায় শিশুর মত সবকিছু অবলোকন করতে থাকে, সবই বুঝতে পারে তবু এ ক্ষেত্রে তার কোন ভূমিকা নেই। অপারেশনের কক্ষে ঢুকে সে আরো ভীত হয়ে উঠে। অবশ্য ডাক্তার ও নার্সগণ নানা–কথা বলে তাকে তখন প্রবোধ বাণী দিতে থাকেন। তার সাথে রসালাপ করে। তবুও তার হৃদয়ে জমে যাওয়া ভীতির হিমশীতল স্তর কিছুতেই আর গলতে চায় না। তারপর তাকে অচেতন করার ঔষধ প্রয়োগ করা হয়। এবার সে সম্পূর্ণ অচেতন হয়ে গেল। সে এবার ডাক্তারদের হাতে জীবন মরণের সন্ধিক্ষণে সংশয়াকুল। বাহিরে আত্মীয়–স্বজন অতীব উৎকণ্ঠা নিয়ে একটা কিছু শুনার জন্য ব্যাকুল। যাকেই অপারেশন কক্ষ থেকে বেরোতে দেখে তাকেই ভাবে বার্তাবাহকÑ সাগ্রহে তার কাছে ছুটে যায়। প্রশ্ন করে। প্রকৃত হালত জানতে চায়।

 

ডাক্তার সাহেবগণ অত্যন্ত যত্ন ও অক্লান্ত পরিশ্রম করে তার মধ্য থেকে দুষ্ট গ্রহটি কেটে পরিষ্কার করে পুণঃ সেলাই–ব্যান্ডেজ করে পোষ্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেয়। তখনো সে সংবেদহীন। এ সময় তার প্রয়োজনীয় ঔষধ–পথ্য শিরার মধ্য দিয়ে প্রয়োগ করাতে হয়। সাধারণতঃ অপারেশন সম্পন্ন হবার দু’তিন ঘন্টা পর রোগীর সংবেদ ফিরে আসে। তখনো তাকে মুখ দিয়ে কিছুই খেতে দেয়া হয় না। সংবেদ ফিরে আসতেই সে পানির জন্য দারুণ ভাবে কাকুতি মিনতি করে, যেন তাকে একটু পানি দেয়া হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ডাক্তারের পক্ষ থেকে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকে। ঐ সময় তাকে পানি দিলে তার বমি হতে পারে এবং ডাক্তারের দীর্ঘক্ষণের পরিশ্রম পন্ডশ্রমে পরিণত হবার ভয়ও থাকে, অর্থাৎ রোগী মারা যেতেও পারে। এ সময়টা তার জন্য বেশ জটিল সময় বলা চলে। খুব কম লোকের সাথে সে সাক্ষাৎ করতে পারে। তাও অত্যন্ত সাবধানতার সাথে। কেননা যে কোনো রোগ–জীবাণু অতি সহজে তাকে এ সময়ে আক্রমন করতে পারে। তারপর সে ধীরে ধীরে আরোগ্য হয়ে উঠে। এ জীবনটা তার দেহের জন্য নতু জীবন বললে ভুল হবে না। ডাক্তারের নির্দেশ মোতাবেক তাকে চলতে হয়। নির্দেশ অমান্য করলে তার সমূহ বিপদ হবার সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা সে এখন ভুক্তভোগী। অনেক মূল্যে তাকে অভিজ্ঞতা লাভ করতে হয়েছে। মরণবাণ পেটে নিয়ে চলার কুফল সে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে। তাকে কেউ কিছু খেতে বললে আগের মত সব আমন্ত্রণে সে আর রাজী হতে পারছে না।

 

মানুষের জীবনে আত্মিক পরিবর্তটাও এমনি ভাবে ঘটে। মানুষ জাগতিক অবকাঠামো নিয়ে পৃথিবীতে আসে, জাগতিক জ্ঞান নিয়ে সে বেড়ে উঠে। সে তার চারপাশে যা কিছু দেখে তা–ই অনুসরণ করে চলে। এ কারণে সমস্ত মানুষ নেহাৎ সীমাবদ্ধতায় বন্দী থাকে। সে থাকে নিজেকে নিয়ে অতি ব্যস্ত। তার চারপাশের মানুষগুলো সে সহজে দেখতে চায় না। সহ্য করতে পারে না, ভাবে শরীকের সংখ্যা কম হলে সে শান্তি পেত। সে জন্যই একে অন্যের ধ্বংসের কাজে পদক্ষেপ নিতে কার্পন্য করে না। এটা হল মানুষের স্বভাব। মানুষের এ সহজাত স্বভাবকে যদি সে পরিবর্তন করতে চায় তবে তাকেও এমন একজন বিজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। মনে রাখতে হবে মানুষ কিন্তু খোদার সুরতে অর্থাৎ তাঁর আদব আখলাকে, যিনি রয়েছে শয়ভাগ পূতপবিত্র, ঐশি দ্যূতিময়। তাঁর পবিত্রতার, তাঁর ক্ষমাসুন্দর মনোভাবে, প্রেমে পয়দা (সৃষ্টি) হয়েছে। “পরে আল্লাহ বলিলেন, আমরা আমাদের সুরতে, আমাদের সাদৃশ্যে মানুষ পয়দা করি; আর তারা সমুদ্রের মাছের উপরে, আকাশের পাখীগুলির উপরে, পশুগুলির উপরে, সারা জাহানের উপরে, ও ভুমিতে  গমনশীল যাবতীয় সরীসূপের উপরে কর্তৃত্ব করুক” (আদি ১ : ২৬)। খোদা তার প্রতিনিধি হিসেবে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয়, মানুষ শয়তানের কুমন্ত্রণায় পড়ে খোদার অবাধ্য হয় এবং পবিত্র খোদার সাথে তার আত্মিক মধুময় সম্পর্ক সে হারিয়ে বসে। মানুষ খোদার সান্বিন্ধে থাকার সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়ে। এ প্রসংগে কিতাবুল মুকাদ্দসে বর্ণনাটি এভাবে রয়েছে : “আর তিনি আদমকে বলিনে, যে গাছের ফলের বিষয়ে আমি তোমাকে বলিয়াছিলাম, তুমি তাহা খাইও না, তুমি তোমার স্ত্রীর কথা শুনিয়া ফল খাইয়াছ, এ জন্য তোমার জন্য ভুমি অভিশপ্ত হইল; তুমি সারা জিন্দেগী তকলিফের সহিত উহা ভোগ করিবে; আর উহাতে তোমার জন্য কাঁটা ও শিয়ালকাঁটা জন্মিবে, এবং তুমি ক্ষেত্রের ওষধি ভোজন করিবে। তুমি ঘর্মাক্ত মুখে আহার করিবে, যে পর্যন্ত তুমি মাটিতে ফিরিয়া না যাইবে; তুমি তো তাহা হইতেই গৃহীত হইয়াছ; কেননা তুমি ধূলি, এবং ধূলিতে ফিরিয়া যাইবে” (আদি ৩ : ১৭–১৯)।

 

আজ মানুষ বিতাড়িত। শুধু তা–ই নয়, আল্লাহপাকের সমস্ত গুনাবলি খুইয়ে বসেছে। মানুষ হয়ে উঠেছে এক হিংস্র জানোয়ার সাদৃশ্য। আপন ভ্রাতাকে সে অকম্পিত হস্তে হত্যা করে গৌরববোধ করে। হনন প্রক্রিয়ার কথা ইতিহাসে এবং ধর্মীয় পুস্তকে লিখে রাখতে দ্বিধাবোধ করেনা; যেন সবাই তার মত এমন নরঘাতকে পরিণত হয়ে উঠতে পারে; বানচাল করে দিতে পারে খোদার মহান সৃষ্টি ও পরিকল্পনা। মানুষ খোদার প্রতিনিধি না হয়ে, হয়ে উঠেছে অভিশপ্ত শয়তানের আজ্ঞাবাহী। আজকের সমাজ হল তার প্রকৃষ্ট নিদর্শন।

 

স্রষ্টা কিন্তু মানব জাতিকে এ অধঃপতিত অবস্থায় দেখে শান্তি পেতে পারেন না। মানব জাতিকে তিনি আবার ফিরে পেতে চান, মুক্ত করতে চান শয়তানের খপ্পর থেকে। তাই ফিরে পাবার জন্য এক অনুপম ব্যবস্থা সাধন করলেন। এ ব্যবস্থা হল খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসীহ, যিনি দায়িত্ব নিয়ে এসেছেন মানব জাতির হারিয়ে যাওয়া অধিকার পুণরুদ্ধার করার জন্য। “খোদা মানুষকে এত মহব্বত করিলেন যে, তাঁহার একমাত্র পুত্রকে তিনি দান করিলেন, যেন যে কেহ সেই পুত্রের উপর ঈমান আনে, সে বিনষ্ট না হয়, কিন্তু অনন্ত জীবন পায়” (ইউহোন্না ৩ : ১৬)।

 

মানব জাতির হৃদয়ের পরিবর্তন করার ক্ষমতা মানব জাতির নিজের হাতে নেই। এ কাজ বা ক্ষমতা খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসীহের হাতে রয়েছে। “যদি কেহ মসীহের সংগে যুক্ত হইয়া থাকে তবে সে নুতন ভাবে সৃষ্ট হইল। তাহার পুরাতন সমস্ত কিছু মুছিয়া গিয়া সমস্ত নুতন হইয়া উঠিয়াছে এই সমস্ত খোদা হইতেই হয়” (২করিন্থীয় ৫ : ১৭)। তিনি মানুষকে পাপের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করার জন্য ও তাদের কৃত পাপের কাফফারা পরিশোধ করার জন্য নিজের জানের কোরবানী দিয়েছেন, পরিশোধ করেছেন তাদের ঋণ। পূতপবিত্র খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসীহ পতিত মানব জাতিকে ক্রয় করে নিয়েছেন নিজের রক্তের মূল্যে।

 

মানুষের এ আত্মিক পরিবর্তন হাসপাতালে একজন রোগীর নুতন জীবন লাভের সাথে তুল্য। যখন সে বুঝতে পারে যে, সে একজন জঘন্য পাপী এবং তার পরিবর্তনের ক্ষমতা সে নিজে আদৌ রাখে না এবং সাথে সাথে এও বুঝতে পারে যে, সে ক্রমশই অধঃপাতে যাচ্ছে, এমনি ভাবে চলতে থাকলে সে কোনমতেই আর নব জীবনের সন্ধান লাভ করতে পারবে না, যদি সে এ ব্যাপারে অর্থাৎ তার অসহায়ত্বের অবস্থায় নিশ্চিত হয়, ঠিক তখন হন্নে হয়ে খুঁজতে থাকবে একজন বিজ্ঞ চিকিৎসকের, যিনি তার জীবনে হয়ে উঠেন অপরিহার্য। এমনিতর অবস্থায় তার পার্থিব স্থাবর–অস্থাবর সমস্ত সম্পদ থাকে এক দিকে আর তার আরোগ্যলাভ থাকে অন্য দিকে। সে যদি বেঁচেই না থাকল তবে তার সম্পদ যতই অধিক হোক না কেন, তা তার কাছে মূল্যহীন লাগবে। মানুষ এ কারণেই আরোগ্য লাভের জন্য সুচিকিৎসা পেতে সবকিছু  হাতছাড়া করে থাকে। আত্মিক জীবনে নবীকৃত  হতে হলেও তাকে জাগতিক সবকিছু অস্বীকার করতে হবে। তাকে বিদায় নিতে হবে জগতের সর্বপ্রকার  চাওয়া–পাওয়ার কাছ থেকে। সে জগতের কাছে হয়ে উঠে মৃত। তবে তার অর্থ এ নয় যে, সে এ জগত থেকে ভিন্ন হয়ে অন্য গ্রহে গিয়ে বসবাস করতে শুরু করবে। তা সম্ভব নয়। তখন তার অবস্থা হবে জলে ভাসমান একটি নৌকার মত। জল না হলে যেমন নৌকা চলতে পারে না, আর জল বিনে নৌকা পরিচালনা ত হবে নেহাৎ হাস্যকর ব্যাপার। তাই তাকে অবশ্যই জলে ভাসতে হবে। তবে উক্ত জল নৌকার ভিতরে ঢুকতে দেয়া চলবে না। কোন উপায়ে নৌকার মধ্যে যদি জলের প্রবেশ লাভ ঘটে তবে নৌকা ডুবে যাবে। তাই নৌকা জলে ভাসতে হবে এবং সাথে সাথে খেয়াল ও লক্ষ্য রাখতে হবে যেন নৌকার মধ্যে জলের প্রবেশ না ঘটে। সমাজ–কর্মীদের ক্ষেত্রেও কথাটা সমভাবে প্রযোজ্য। সমাজের কল্যাণ বয়ে আনতে হলে তাদেরকেও সমাজে মিলেমিশে থাকতে হবে। যেমন রোগীদের সুস্থতার জন্য ডাক্তারের প্রয়োজন। তাই ডাক্তারকে অবশ্যই রোগীদের মধ্যে আসতে হবে সুচিকিৎসা দিয়ে তাদের সুস্থ করে তোলার জন্য।

 

যে জলে নৌকা ডুবে যায় সেই জলের উপর বাধ্যতামূলকভাবে নৌকা চালানো হবে নৌকার জন্য উভয় সংকট। তদ্রুপ একজন আত্মিক–মসীহী জগতে বসবাস করবে বটে তবে জগতের প্রভাব যেন কোনমতেই তাকে ডুবাতে না পারে, সেদিকেও তাকে সদা নজর রাখতে হবে। যেমন নৌকার সকল ফাঁক ফোঁকর বন্ধ করে রাখতে হবে, একই ভাবে আত্মিক ব্যক্তির ক্ষেত্রেও সদা সতর্ক থাকতে হবে, যেন কোন প্রলোভনেই তিনি পতিত না হন। এ প্রলোভন এবং ছল–চাতুরীর দ্বারাই মানব জাতির প্রথম পতন নেমে এসেছে, সে হারিয়ে বসছে খোদার সাথে এক মধুময় আত্মিক সহভাগীতা, সে কলুষিত হয়ে পড়েছে, তার অন্তর্দৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেছে। সে মনের দিক দিয়ে ইতর প্রাণীর  চেয়েও নীচে নেমে গেছে। তার মধ্যে জন্ম নিয়েছে মৃত্যুবাণ, পাপ ব্যাধি যা তাকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দিচ্ছে, ঠেলে দিচ্ছে নরকের অতলে।

 

মানুষের এহেন দুর্গতিপূর্ণ অবস্থায় মসীহ ধন্বন্তরি চিকিৎসক হয়ে এসেছেন। তিনি অপারেশন করে তাকে সারিয়ে তুলতে চান। কিন্তু সেরে উঠার জন্য তাকে মসীহের হাতে সমর্পিত হতে হবে। তিনি তাকে সমস্ত পাপ–ব্যাধি থেকে অপারেশন করে সারিয়ে তুলবেন, যোজনা করবেন তার মধ্যে পাকরূহের  অব্যর্থ ফলোদায়ক শক্তি। তার জীবন থেকে এই সমস্ত রোগগুলি যা এতদিন খোদা ও মানুষের অকল্যাণ কাজে তাকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রেরণা দিত, অপসারণ করবেন এবং তার দেহে নতুন প্রতিশেধক শক্তির সংযোজন করবেন যা তাকে সাহায্য করবে খোদার প্রকৃত প্রতিনিধি হিসেবে গড়ে উঠতে। তিনি যে–সব রোগের অপসারণ করবেন তা হল “ব্যভিচার, অপবিত্রতা, লম্পটতা, প্রতিমাপূজা, যাদুবিদ্যা, শত্রুতা, ঝগড়া, লোভ, রাগ, স্বার্থপরতা, অমিল, দলাদলি, হিংসা, মাতলামি, হৈ–হল্লা করিয়া মদ খাওয়া, আর এইরকম আরও অনেক কিছু। আমি যেমন ইহার আগে তোমাদের সতর্ক করিয়াছিলাম এখনও তাহাই করিয়া বলিতেছি, যাহারা এইরকম কাজ করে, খোদার রাজ্যে তাদের জায়গা হইবে না” (গালাতীয় ৫ : ১৯–২১)। তার পরিবর্তে তার জীবনে নতুন ফল উৎপাদিত হবে যেমন– “মহব্বত, আনন্দ, শান্তি, সহ্যগুণ, দয়ার স্বভাব, ভাল স্বভাব, বিশ্বস্ততা, নম্রতা ও নিজেকে দমন” (গালাতীয় ৫ : ২২)।

 

অপারেশন থিয়েটারে যাবার সময় একজন রোগীকে যেমনভাবে জগতের সব কিছুর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ডাক্তারের দায়িত্বে সমর্পিত হতে হয়, ঠিক একই ভাবে মসীহের হাতে সমর্পিত ব্যক্তির নিজস্ব কোন  বক্তব্য থাকতে পারেনা। তাকে মসীহের সাথে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছে এবং মসীহের সাথে পুনরুত্থিত করা হয়েছে অর্থাৎ  তার জাগতিক ক্ষণস্থায়ী  চিন্তা চেতনা মসীহের পূর্ণাঙ্গ ও সার্বিক কল্যাণমুখী পরিকল্পনার দ্বারা অপসারিত হয়েছে। হযরত পৌল গালাতীয়দের প্রতি এভাবে  ক্রুশারোপন নিয়ে তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন– “আমাকে  মসীহের সাথে  ক্রুশের উপর মারিয়া ফেলা হইয়াছে। তাই আমি আর জীবিত নই, মসীহই আমার মধ্যে জীবিত আছেন। আমার এখনকার যে জীবন, সেই জীবন আমি খোদার পুত্রের উপর ঈমানের মধ্য দিয়া কাটাইতেছি” (গালাতীয় ২ : ২০)।

 

আপনি যদি মসীহের হতে সমর্পিত হয়ে থাকেন তবে তার কাজে কোন আপত্তি তুলতে পারবেন না। মসীহের উপর আপনাকে আস্থা রাখতে হবে। তিনি একজন বিজ্ঞ চিকিৎসক এবং আপনাকে তার নিজের প্রাণের অধিক ভালবাসেন। তাঁর প্রেমের নিশ্চয়তা তিনি তাঁর রক্তের অক্ষরে লিখে দিয়েছেন। সলীব হল তার জ¦লন্ত প্রমাণ। আপনার জীবন থেকে সর্বপ্রকার অনাহুত বিষয় বাদ দিয়ে তিনি আপনাকে কলুষমুক্ত করে তুলবেন, নুতন মানুষে পরিণত করবেন। জগতের নুর হিসাবে আপনি পরিগণিত হয়ে উঠবেন। এ কাজটিকে যদি ছাঁটাই কাজ বলা হয় তবে তা অপ্রাসঙ্গিক হবে না। আপনার জীবনকে নতুন করার দায়িত্ব তাঁর মত বিজ্ঞ চিকিৎসকের হাতে বর্তেছে। আপনাকে চুপ করে তাঁর প্রতিটি কাজ অবলোকন করতে হবে। মেনে নিতে হবে, তিনি যা কিছু করেন, আপনার কল্যাণের জন্যই সব কিছু করে থাকেন। এ বিশ্বাসে যদি আপনার কোন সন্দেহ থাকে তবে আপনার জ্বালা বাড়বে ছাড়া কমবে না। তাই সুবোধ বালকের মত তাঁর পরিকল্পনায় বাধ্য থাকতে হবে। অপারেশন সমাপ্ত হলে তিনিই আপনাকে পোষ্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দিবেন। যেখানে আপনাকে খুব সাবধানে চলতে হবে, যেন দুর্বল কোন ধরণের বিষক্রিয়া বা অশুভ প্রভাব কার্যকরী হতে না পারে। দুষ্ট ক্ষতগুলো যেন আবার মাথাচাড়া দিয়ে আপনার জীবনটাকে পুনঃদুর্বিসহ করে তুলতে না পারে। এ সময় আপনাকে সংগ দানের জন্য সার্বক্ষণিক পরিচর্যা কাজে একজন সংগী পাঠিয়ে দিবেন, যিনি হলেন পাক–রুহ। সর্বপ্রকার অশুভ তৎপরতা এবং অশুভ প্রভাব থেকে তিনি আপনাকে হেফাজত করে মানব কল্যাণমূলক এবং খোদার গৌরববাহী সমস্ত কাজে প্রতিনিয়ত সাহায্য করে চলবেন। এরপর তিনি যে সমস্ত পরামর্শ দান করেন সেগুলো আপনাকে অবশ্যই সঠিক ভাবে পালন করতে হবে। এবং সেভাবেই আপনি ক্রমে ক্রমে সুস্থ–সবল হয়ে খোদার মহিমা প্রকাশ করতে সমর্থ হবেন। খোদা ত আপনাকে এ জন্যই সৃষ্টি করেছেন।

 

মসীহ ওয়াদা করেছেন যে, আপনি খোদার মহিমাজনক কাজে নিয়োজিত থাকলে আপনার যাবতীয় প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি তিনি নিজেই সংগ্রহ করে দিবেন। আপনার প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি  তিনি আপনার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিবেন, এ কথাটা জানার পরও কি আপনি ঐসব বিষয়ের জন্য উদ্বিগ্ন থাকবেন? যিনি আপনাকে মাতৃগর্ভে বুনেছিলেন, লালন পালন করেছেন ভূমিষ্ট হবার পর থেকে এক অসহায় করুণ অবস্থায় পরিচর্যা করে এতদূর পর্যন্ত নিয়ে আসতে পেরেছেন, আপনার বাকী জীবনটা কি তিনি রক্ষা করতে পারবেন না? কেন তাঁর উপর আপনি অনাস্থা আনছেন? তাঁর বিশ্বস্ততা কি আপনি অন্যথা দেখেছেন, না আপনার অবাধ্যতা দেখেও বার বার আপনাকে ক্ষমা সুলভ মাতৃ স্নেহে বুকে জড়িয়ে নিয়েছেন? কোনটি সত্য; আপনার বিশ্বাস অটুট না আপনার প্রতি তাঁর প্রেম অসীম; যা আপনার অবিশ্বাস ও পদস্খলনেও বন্ধ হবার নয়। তাঁর অসীম প্রেম মূল্যায়ন  করতে একটু চেষ্টা করুন। ডুবন্ত নৌকা জল থেকে তুলে মেরামত করে আবার ভাসানো হয়েছে। তারপর হাইলে নতুন মাঝি বসান হয়েছে। তাঁর হাত থেকে বৈঠা কেড়ে নিবেন কি? আপনার মনে বিপন্ন হবার সাধ আবার জাগে কি? এখন থেকে সমস্ত মানুষের জন্য আপনি মসীহের পক্ষে সুসমাচার বাহক। মসীহ চান যেন তার সমস্ত মেষ সুরক্ষিত হয়, একটিও যেন হারিয়ে না যায়। আপনার কর্তব্য মসীহের সুরে সুর মেলানো। তিনি যেভাবে আপনার প্রতি নির্দেশ দান করেন তাঁর থেকে ডানে বা বায়ে যাবার চেষ্টা করবেন না, বিপদে পড়বেন। যে বিপদের হাত থেকে মসীহের অপার করুণায় রক্ষা পেয়েছেন পুনরায় তার মধ্যে ডুবতে চেষ্টা করবেন না। “খোদার রহমতে ঈমান আনিবার মধ্য দিয়া তোমরা পাপ হইতে উদ্ধার পাইয়াছ। ইহা তোমাদের নিজেদের দ্বারা হয় নাই, তাহা খোদারই দান। ইহা কাজের ফলা হিসাবে দেওয়া হয় নাই,  যেন কেহ গর্ব করিতে না পারে” (ইফিষীয় ২ : ৮–৯)। অবশ্য নিজেকে ধ্বংস করতে কেউহ চাবে না। আপনার দুর্বিসহ যন্ত্রণা এখন তাঁর নিজের যন্ত্রণা। আপনি কষ্টে পড়লে তিনিও কষ্ট পান। তাঁকে আপনার একান্ত আপনজন ভাবতে চেষ্টা করুন। আপনার পাপের প্রায়শ্চিত্ত শোধ করতে তিনি নিজের জানের কোরবানী দিয়েছেন। নিজের প্রাণ দিয়ে আপনাকে ভাল বেসেছেন। এমন বান্ধব আপনার আর কেউ আছে কি? খুঁজে দেখুন। আপনি অবাক হয়ে যাবেন। মসীহ ছাড়া নিজের প্রাণের অধিক প্রেম করার মত আপনার আর কেউ নেই। তাই নির্দ্ধিধায় তাঁর  কাছে ছুটে আসুন। কৃতজ্ঞতাভরে আপনার জীবনের সমস্ত দায়–দায়িত্ব; চাওয়া–পাওয়া তাঁর উপর ন্যস্ত করুন। তিনিই পারেন আপনার ভগ্নচূর্ণ জীবনটাকে সংস্কার করে খোদার হাতে তুলে দিতে। এবং পাপের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করাই তাঁর একমাত্র কাজ। কেবল বিশ্বাস করুন। অনুতপ্ত হউন। মসীহ আপনাকে কোন ভাবেই ত্যাগ করবেন না। “পিতা আমাকে যাহাদের দেন, তাহারা সকলে আমার নিকট আসিবে। যে আমার নিকট আসে, আমি তাহাকে কোনমতেই বাহিরে ফেলিয়া দিব না” (ইউহোন্না ৩ : ৩৭)। তিনি আপনার জন্য অনন্ত জীবন অর্জন করেছেন। “আমি আপনাদের সত্যই বলিতেছি, আমার কথা যে শুনে এবং আমাকে যিনি পাঠাইয়াছেন তাঁহার কথায় ঈমান আনে, সে তখনই অনন্ত জীবন পায়। তাহাকে দোষী বলিয়া স্থির করা হইবে না; সে ত মৃত্যু হইতে জীবনে পার হইয়া গিয়াছে” (ইউহোন্না ৫ : ২৪)। তাছাড়া তিনি আপনাকে খোদার সন্তান হবারও অধিকার দিয়েছেন। “তবে যতজন তাঁর উপর ঈমান আনিয়া তাঁহাকে গ্রহণ করিল, তাহাদের প্রত্যেককে তিনি খোদার সন্তান হইবার অধিকার দিলেন” (ইউহোন্না ১ : ১২)।

ShareTweet
Next Post
সময় পেলে ম্যাচের ফল অন্যরকম হতো

সময় পেলে ম্যাচের ফল অন্যরকম হতো

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

  • Amy1660 on ছাড়া পেলেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী
  • Valerie2737 on ছাড়া পেলেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী
  • Haven4448 on ছাড়া পেলেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

Recent News

মরুভূমি জলে ভিজে বনানী বনে (এম এ ওয়াহাব)

মরুভূমি জলে ভিজে বনানী বনে (এম এ ওয়াহাব)

August 30, 2025
‘সাইয়ারা’ ঝড়সামলেরজনীকান্তের ‘কুলি’ গড়লরেকর্ড

‘সাইয়ারা’ ঝড়সামলেরজনীকান্তের ‘কুলি’ গড়লরেকর্ড

August 30, 2025
  • ১ করিন্থীয়
  • ২ করিন্থীয়
  • Home 2
  • Home 3
  • Home 4
  • Home 5
  • Home 6
  • Sample Page
  • অজানাকে জানা
  • অডিও বই
  • অভিযান
  • আমরা কীভাবে প্রার্থনা করি?
  • আলোর দিশারী
  • আলোর ফোয়ারা
  • আলোর যাত্রী
  • ই-সংখ্যা
  • ইউহোন্না
  • কিতাবুল মুক্কাদ্দাস
  • ক্যাটাগরি
  • খো-ই-মহব্বত্
  • খোদার নাজাত আপনার জন্যও প্রস্তুত
  • গান
  • গালাতীয়
  • জীবন দাতা
  • জীবনের আহবান- ৩
  • জীবনের আহবান-১
  • জীবনের আহবান-২
  • জীবনের আহবান-৪
  • দৃষ্টি খুলে দাও
  • নাজাত লাভের উপায় কী?- ১
  • নাজাত লাভের উপায় কী?- ২
  • নিবেদন
  • নূরের প্রদীপ
  • প্রশংসা গীত (কোরাস্)
  • প্রেরিত
  • বিজয়
  • বিমূর্ত প্রেম
  • মথি
  • মসীহ্ সম্বন্ধে আপনি কি চিন্তা করেন?
  • মার্ক
  • ম্যাগাজিন
  • যোগাযোগ
  • রোমীয়
  • লূক
  • সকল সংখ্যা
  • সম্পাদকীয়
  • সেতু

দি সাপ্তাহিক আলোর ফোয়ারা

No Result
View All Result
  • ১ করিন্থীয়
  • ২ করিন্থীয়
  • Home 2
  • Home 3
  • Home 4
  • Home 5
  • Home 6
  • Sample Page
  • অজানাকে জানা
  • অডিও বই
  • অভিযান
  • আমরা কীভাবে প্রার্থনা করি?
  • আলোর দিশারী
  • আলোর ফোয়ারা
  • আলোর যাত্রী
  • ই-সংখ্যা
  • ইউহোন্না
  • কিতাবুল মুক্কাদ্দাস
  • ক্যাটাগরি
  • খো-ই-মহব্বত্
  • খোদার নাজাত আপনার জন্যও প্রস্তুত
  • গান
  • গালাতীয়
  • জীবন দাতা
  • জীবনের আহবান- ৩
  • জীবনের আহবান-১
  • জীবনের আহবান-২
  • জীবনের আহবান-৪
  • দৃষ্টি খুলে দাও
  • নাজাত লাভের উপায় কী?- ১
  • নাজাত লাভের উপায় কী?- ২
  • নিবেদন
  • নূরের প্রদীপ
  • প্রশংসা গীত (কোরাস্)
  • প্রেরিত
  • বিজয়
  • বিমূর্ত প্রেম
  • মথি
  • মসীহ্ সম্বন্ধে আপনি কি চিন্তা করেন?
  • মার্ক
  • ম্যাগাজিন
  • যোগাযোগ
  • রোমীয়
  • লূক
  • সকল সংখ্যা
  • সম্পাদকীয়
  • সেতু

দি সাপ্তাহিক আলোর ফোয়ারা