পাপ জন্ম দেয় রূহানী মৃত্যু: যার অর্থ হলো, খোদাই স্বভাব আচরণ থেকে দূরীকৃত হওয়া, বেহেশতের অধিকার হারানো এবং খোদার বিচারের অধিনে পড়া। প্রাণী জগতের রয়েছে কেবল জীব সত্ত্বা, মানুষও প্রাণী বটে, তবে স্রষ্টা তাকে বিশেষ কারণে সৃষ্টির স্রেষ্ঠ জীব হিসেবে গঠন দিয়েছেন। আর সেই উদ্দেশ্যই হলো একক যা অন্যকোনো প্রাণীকে দেয়া হয় নি। মানুষ বাতেনী খোদার জীবন্ত প্রকাশ। দৃশ্যমান মানুষ দেখার মাধ্যমে অদৃশ্য খোদাকে দেখা সম্ভব হবে। কথাটা বিশ্লেষণপূর্বক বলা চলে, মানুষ যেন এক একজন জীবন্ত আর্শী, যার উপর দৃকপাত করার ফলে বাতেনী খোদাকে দৃষ্ট হবে। এবার প্রশ্ন হলো, মানুষ কি এখনও অখন্ড আয়নার পর্যায়ে অবস্থান করছে? কেননা ভাঙ্গা আয়না বিক্রিত চেহারা প্রকাশ করে মাত্র।
আফসোসের বিষয়, মানুষ নিয়ত আঘাতে আঘাতে শত শত অগণীত টুকরোয় পরিণত! কেউ কাওকে মানে না, চিনে না, রয়েছে পরষ্পর সম্পর্কচ্যুত, মরুভূমির তপ্ত বালুকণাসম। বাতাস বা ঝড়ো হাওয়া তাদের ইচ্ছেমত যেদিক খুশী সেদিকে তাড়িয়ে ফিরছে (ইয়াকুব ১ : ৬–৮)। ঐশি দৃষ্টিশক্তি তাদের মধ্যে জন্মায় নি; নিয়ত ছুটে চলছে মাংসিক অভিলাষ চরিতার্থ করার নিমিত্তে¡। নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ফতোয়া সৃষ্টি করে মহান নির্মাতার আহকাম অপসারণ করে রেখেছে বহু পূর্বে। ছোট্ট একটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরছি। আদমের পুত্র কাবিল যখন স্বীয় ভ্রাতা হাবিলকে কতল করলো, তখন খোদা কাবিলকে ডেকে জানতে চাইলেন হাবিলের বিষয়ে। যদিও খোদা সবই জানতেন, তথাপি কাবিলের মন মেজাজের অবস্থা প্রকাশ করলেন। কাবিল কর্কশ স্বরে জবাব দিল, “আমি কি আমার ভাইয়ের রক্ষক?” কথাটা এমন হলো, তা তুমি রক্ষক নও বটে, তবে অবশ্যই ভক্ষখ! বর্তমান বিশ^ আজ কাবিলের পাদাঙ্ক অনুসারী, যা হলফ করে বলা চলে।
“ পিতা কারও বিচার করেন না, কিন্তু সমস্ত বিচারের ভার পুত্রকে দিয়েছেন, যেন পিতাকে যেমন সবাই সম্মান করে তেমনি পুত্রকেও সম্মান করে। পুত্রকে যে সম্মান করে না, যিনি তাঁকে পাঠিয়েছেন সেই পিতাকেও সে সম্মান করে না।” (ইউহোন্না ৫ : ২২–২৩)।
“মসীহের ফিরে আসা ও তাঁর রাজ্যের বিষয় মনে রেখে আল্লাহর সামনে এবং যিনি জীবিত ও মৃতদের বিচার করবেন সেই মসীহ্ ঈসার সামনে আমি তোমাকে এই হুকুম দিচ্ছি– আল্লাহর কালাম তবলিগ কর; সময়ে হোক বা অসময়ে হোক, সব সময়েই তবলিগের জন্য প্রস্তুত থাক; খুব ধৈর্যের সংগে শিক্ষা দিয়ে লোকদের দোষ দেখিয়ে দাও, তাদের সাবধান কর ও উপদেশ দাও। এমন সময় আসবে যখন সত্য শিক্ষা লোকের সহ্য হবে না, বরং নিজেদের ইচ্ছা পূর্ণ করবার জন্য তারা এমন অনেক ওস্তাদ যোগাড় করবে যারা তাদের খুশী করবার মত শিক্ষা দেবে। তারা আল্লাহর সত্যের বিষয় না শুনে গল্প–কথা শুনতে চাইবে। কিন্তু তুমি সব কিছুতে নিজেকে দমনে রাখ, কষ্ট সহ্য কর এবং মসীহের বিষয়ে সুসংবাদ তবলিগ করতে থাক, আর আল্লাহ্ তোমাকে যে কাজ করতে দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ কর” (২তীমথীয় ৪ : ১–৫)।
“ইবনে–আদম সমস্ত ফেরেশতাদের সংগে নিয়ে যখন নিজের মহিমায় আসবেন তখন তিনি বাদশাহ্ হিসাবে তাঁর সিংহাসনে মহিমার সংগে বসবেন। সেই সময় সমস্ত জাতির লোকদের তাঁর সামনে একসংগে জমায়েত করা হবে। রাখাল যেমন ভেড়া আর ছাগল আলাদা করে তেমনি তিনি সব লোকদের দু’ভাগে আলাদা করবেন” (মথি ২৫ : ৩১–৩২)।
“সেই সময় বনি–ইসরাইলরা বলেছিল যে, মাবুদ দূর থেকে তাদের দেখা দিয়েছিলেন। তখন মাবুদ তাদের বলেছিলেন, “অশেষ মহব্বত দিয়ে আমি তোমাদের মহব্বত করেছি; অটল মহব্বত দিয়ে আমি তোমাদের কাছে টেনেছি” (ইয়ারমিয়া ৩১ : ৩)।
যখন পাহাড়–পর্বতের সৃষ্টি হয় নি, জগৎ ও দুনিয়ার সৃষ্টি হয় নি, তার আগে থেকেই আখেরাত পর্যন্ত তুমিই আল্লাহ্” (জবুর শরিফ ৯০ : ২)।
যিনি মহান ও গৌরবে পূর্ণ, যিনি চিরকাল জীবিত, যাঁর নাম পবিত্র, তিনি বলছেন, “আমি উঁচু ও পবিত্র জায়গায় বাস করি, কিন্তু যার মন নম্র, যার মন ভেংগে চুরমার হয়েছে আমি তার সংগেও বাস করি যাতে নম্রদের ও মন ভেংগে চুরমার হওয়া লোকদের দিলকে আমি নতুন করে তুলতে পারি” (ইশাইয়া ৫৭:১৫)