‘আকাশে মেঘ দেখলিই ভয় হয়, মনে হয় অবদা ভেঙে সব মুখে করে নিয়ে যাবে। বাচ্চা-কাচ্চা, গরু-ছাগল নিয়ে আবার বুঝে উঠতে হবে আশ্রয়কেন্দ্রে’, চোখে একরাশ হতাশা নিয়ে এমনটাই বলছিলেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নে সদ্য বেড়িবাঁধ ভাঙনকবলিত এলাকার অঞ্জলী রানী মন্ডল। উপকূলজুড়ে তার মতো এমন হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তির সংখ্যা কম নয়। তাদের হতাশা ও আশঙ্কার কারণ, প্রায় ১৪৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের ২০ কিলোমিটারই ঝুঁকিপূর্ণ। এখানকার ২৭টি পয়েন্ট অতি ঝুঁকিপূর্ণ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শ্যামনগরের ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৮টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধসংশ্লিষ্ট এলাকায় অবস্থিত। আগেও কয়েকবার বেড়িবাঁধ ভেঙে ওই ইউনিয়নগুলো প্লাবিত হয়েছে। ষাটের দশকে নির্মিত এই বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে আইলা, আম্পান, সিডর, বুলবুল, মহাসেন, ডানা, রেমালের মতো প্রায় ১৫টি বড় বড় ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোতে বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হওয়ায় শ্যামনগর উপকূলের প্রায় ২০০ মানুষ ও গবাদিপশু প্রাণ হারিয়েছে। মৎস্য ও কাঁকড়া প্রকল্প, কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ি, ফসলের ক্ষতি হয়েছে বিপুল অঙ্কের। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৯ থেকে ৩১ মের মধ্যে উপকূলে আঘাত হানতে যাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় মন্থা। নতুন ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাসে উপকূলজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শ্যামনগরে মোট ১৪৫ দশমিক ৮০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টের তালিকায় আছে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের পূর্ব ও পশ্চিম দুর্গা বাটি, দাতিনাখালি, আটুলিয়া ইউনিয়নের বড় কুপট, খোন্তাকাটা ও সরদারবাড়ি, পদ্মপুকুর ইউনিয়নের কামালকাঠি, ঝাপা, চাউলখোলা ও পশ্চিম পাতাখালি, কাশিমাড়ী ইউনিয়নের ঝাপালির মমিন নগর, কৈখালী ইউনিয়নের মির্জাপুর, দক্ষিণ জয়াখালী ও জয়াখালী হুলা, মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের মৌখালী গাজী বাড়ি মসজিদসংলগ্ন, হরিনগর খাদ্যগুদাম ও সিংহরতলী, গাবুরা ইউনিয়নের নেবুবুনিয়া, গাগড়ামারি ও কালিবাড়ী প্রভৃতি। আগেও পূর্ব ও পশ্চিম দুর্গা বাটি, দাতিনাখালী বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে।