জিঘাংসা তাড়িত অসুরের শক্তি, নরবিধ্বংসী হুঙ্কার ছেড়ে যেভাবে গোটা সমাজ ত্রাসিত সন্ত্রস্থ করে চলছে, তাতে পরিষ্কার বোধগম্য হচ্ছে, দেশের জনমানুষ ইতোপূর্বে কব্জাগত হয়ে পড়েছে, কালের অভিশপ্ত ইবলিসের হাতে। অভিশপ্ত ইবলিসের আজন্ম ব্রত হলো মানবনিধন, কেননা উক্ত কুলটা, মানুষের মর্যাদা দিতে না পারার কারণে, খোদার হুকুম পর্যন্ত লঙ্ঘন করে খোদার কাছে ঘৃণীত তুচ্ছিকৃত হয়েছে, আর সে কারণে মানুষের প্রতি সৃষ্ট ক্রোধ তাকে পাগলপারা করে রেখেছে। আপনি হয়ত বলবেন, মানুষ মানুষকে খুন করে চলছে; কথাটা সত্য। প্রশ্ন রাখি, একটি শানিত তরবারি নিজে নিজে কি পারে কারো মুন্ডপাত ঘটাতে? অবশ্যই তা ধৃত থাকতে হবে ঘাতকের হাতে! একইভাবে মানুষ যখন খোদার রূহ অর্থাৎ পাকরূহের দ্বারা সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকে, তখন তার দ্বারা সমাজ জামাত নিরাপদ থাকে, আর বিপরীত ক্ষেত্রে সমাজের অবস্থা বড়ই করুণ হয়ে অনাস্থা ও আতঙ্কে কাল কাটাতে হয়; ভীতি, ত্রাস, শঙ্কা, অস্থিরতা সমাজ উন্নয়নে মারাত্মক ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলতে বাধ্য। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অচল হয়ে পড়ে, কলকারখানা বিকল হয়ে যায়, অর্থনৈতিক চাকা গতিহারা হয়ে যায়, মোট কথা, দেশটা মুখথুবড়ে একটা পঙ্গু রাষ্ট্রে পরিণত হয়ে গেল। শুধু সন্ত্রাসী কর্মকান্ড উন্নয়নশীল রাষ্ট্রটিকে তলাশূন্য ঝুড়িতে পরিণত করে ও ভিক্ষার ঝুলি হাতে তুলে নিতে বাধ্য করা হলো। অবোধ জনগোষ্টি সন্ত্রাসের প্রথম দিকে বুঝে উঠতে পারে না দুষ্ট পন্ডিত মহাশয়ের কুটিলতা, আন্দাজ করতে পারে না এর মারাত্মক ও দীর্ঘস্থায়ী কুফল, যেমন ঋণ দাতার হাত থেকে কর্যকরা মবলগ কর করে টাকা যখন হাতে তুলে নেয় তখন আনন্দে আটখান হয়ে ওঠে, কিন্তু, কিস্তি পরিশোধের ক্ষণে বুঝতে পারে, ক্ষণিকের মউতাত যে কতটা কাঁদাতে পারে; কখনো কখনো উক্ত লেনদেনের পরিসমাপ্তি ঘটে ঋণ গ্রহিতার আত্মহননের মাধ্যমে।
মানুষের মধ্যে সংগোপনে কর্ষিত ও লালিত কুটকৌশল কেবল প্রতিবেশিকেই ক্ষতিগ্রস্থ করে না, বিষবৃক্ষ যে বাগানে উপ্ত হয়, তেমন ক্ষেত্রটিও বিষের প্রভাব থেকে রেহাই পায় না; শতচেষ্টা করেও বিষাক্ত বাগানে অন্য কোনো ভালো ফসল ফলানো সম্ভব হলেও তা অতীব ব্যয়বহুল হয়ে দাড়ায়। নবী যিহিষ্কেল তাই যথার্থ প্রকাশ করেছেন, খোদ মাবুদ নিজেও তেমন কলুষিত হৃদয় ব্যবহার না করে তা স্বীয় পূতপবিত্র হৃদয় দিয়ে প্রতিস্থাপন করে দেন, এবং তারপর উক্ত ব্যক্তিকে তার পবিত্র কাজে ব্যবহার করেন (ইহিস্কেল ৩৬ : ২৬)।
ভুতাশ্রিত ব্যক্তিকেও তিনি পুণর্বার সাধুসন্তের কাতারে ফিরাতে উদগ্র আগ্রহ প্রকাশ করে থাকেন (লুক ৮ : ২-৩)। শুধু কেবল আগ্রহই নয় তাদের রূপান্তরিত করার জন্য এক চূড়ান্ত মাশুল পরিশোধ দিয়েছেন, যে খবর নেই অনেকেরই জানা। তিনি স্বীয় পাককালাম ও পাকরূহ মানবরূপে জগতে প্রেরণ করেছেন, বিশ্বের পাপের কাফফারা পরিশোধ করার জন্য। যার মর্মার্থ হলো, মানুষ গুনাহের কবল থেকে অবমুক্ত হয়ে পাকরূহের হাতে হলো সমর্পীত। আর মসীহের কাফফারা সাধনকারী কোরবানির উপর বিশ্বাস স্থাপনের ফলে হয়ে গেল মুক্তপাপ, আর আজ তারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে চলছে পাকরূহের দ্বারা। “ভাইয়েরা, স্বাধীন হবার জন্যই তো আল্লাহ্ তোমাদের ডেকেছেন। কিন্তু তোমাদের গুনাহ্–স্বভাবের ইচ্ছাগুলো পূর্ণ করবার জন্য এই স্বাধীনতা ব্যবহার কোরো না। তার চেয়ে বরং মহব্বতের মনোভাব নিয়ে একে অন্যের সেবা কর, কারণ সমস্ত শরীয়ত মিলিয়ে এক কথায় বলা হয়েছে, “তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মত মহব্বত করবে।” কিন্তু যদি তোমরা একে অন্যের সংগে ঝগড়াঝাঁটি ও হিংসাহিংসি কর তবে সাবধান! এই রকম করলে তোমরা তো একে অন্যকে ধ্বংস করে ফেলবে।” (গালাতীয় ৫: ১৩–২৫)।
আমরা ইতোপূর্বে বর্ণনা শুনেছি, মন্দ আত্মার কুপ্রভাব সম্বন্ধে; যা কেবল মানুষের সর্বনাশ করা ছাাড়া ভিন্ন কিছু নয়। আর পাকরূহের প্রভাব ও পরিচালনা হলো ব্যক্তি, সমাজ ও বিশ্বজনীন কল্যাণ আর কল্যাণ বিধান। বর্তমান বিশ্বে এমন কোনো দেশ খুঁজে পাবেন কি যেথা মানুষের কল্যাণ বই বিপরীত কিছু নেই? অন্তত: বিশ্ব চরাচরে তেমন প্রত্যাশা হবে আকাশ কুসুম কল্পনা মাত্র। গোটা বিশ্ব আজ চরমভাবে পতিত। প্রভেদ নেই, সকলেই পাপ করেছে এবং খোদার সুমহান পরিকল্পনা বানচাল করে ছেড়েছে (রোমীয় ৩ : ২৩)। মেহেরবান মাবুদ নিজেই উদ্যোগ নিয়েছেন অনুতপ্ত গুনাহগার বান্দাদের সেই হারিয়ে যাওয়া জীবন ফিরিয়ে দেবার জন্য (পয়দায়েশ ১ : ৩১, ২ : ১৫, প্রকাশিত কালাম ২১ : ১-৫, ইশাইয়া ৬৫ : ১৭-১৮ )।
মানুষ একদিকে পাপে থাকে জর্জরিত আর অভিশপ্ত ইবলিসের লোভাতুরা কুটচালে হয়ে আছে অন্ধ। বিশ্বের তাবত ধনকুবের জগত থেকে বিদায় কালে সম্পূর্ণ নিঃশ্ব হয়ে চলে যায়, পার্থীব ধনরত্ন মরণের পরে কোনো কাজে আর লাগে না, তারপরেও মানুষ ধন অর্জনের জন্য আপন আপন ভ্রাতাকে নিয়ত কাদায়; মন্দ স্বভাব তাদের অস্থি মজ্জাগত ব্যধিতে হয়ে আছে পরিণত। পার্থীব মন–মানসিকতা ও হিসেব নিকেশ নিয়ে ঐশি বিষয়ের উপর কোনো প্রভাব রাখা আদৌ সম্ভব নয়। খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসীহ নিকদীম নামক এক সুপন্ডিতকে যথার্থ বলেছিলেন, নতুন করে জন্ম না নিলে মানুষ ঐশি বিষয়ে কুলকিনারা করতে সম্পূর্ণ অক্ষম। দুষ্টসঠতা দিয়ে মানুষকে ধোঁকা দেয়া সম্ভব হলেও, তেমন মন্ত্রে মহাজ্ঞানী খোদাকে বোকা বানানো অসম্ভব! মাবুদ আমাদের কাছ থেকে পবিত্রতা ও সরলতা প্রত্যাশা করে চলেন। মসীহ তাই বলেছেন, তোমাদের বেহেশতী পিতা যেমন খাঁটি তদ্রুপ তোমরাও খাঁটি হও (মথি ৫ : ৪৮, ইশাইয়া ৪৫ : ২৪-২৫)।
মসীহের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের লবন ও আলোর সাথে তুলনা করা হয়েছে (মথি ৫: ১৩–১৬)। সংক্ষেপে বলা চলে, লবনের কাজ ক্ষরণ পঁচন রোধ করা আর আলোর দায়িত্ব হলো অন্ধকার দূর করা। খোদা নিজেই আলো বা নূর, আর মসীহ হলেন উক্ত নূরের বাস্তব প্রকাশ; তেমনি মসীহ আশ্রিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে নূরের বাস্তবায়ন হবে, আর তা ছড়িয়ে পড়বে গোটা বিশ্বজুড়ে তেমন প্রত্যাশা কতইনা স্বাভাবিক! (ইব্রাণী ৮ : ৯-১৩)