শেরপুরের নালিতাবাড়ী এলাকায় হঠাৎ বেড়েছে বুনো হাতির আনাগোনা। সন্ধ্যা নামতেই গারো পাহাড় থেকে দলবেঁধে লোকালয়ে নেমে আসছে হাতি। এমনকি কখনও কখনও দিনের বেলাও সড়ক আটকে দিচ্ছে হাতির পাল। এ পরিস্থিতিতে ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি আধাপাকা ধান নষ্ট হওয়ার শঙ্কা জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। বন বিভাগ, কৃষক ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৩ সপ্তাহ ধরে শাবকসহ ৪০/৪৫ বন্যহাতি নালিতাবাড়ীর বুরুঙ্গা, কালাপানি, বাতকুঁচি ও মধুটিলা ইকোপার্কের আশেপাশে ঘুরাঘুরি করছে। দিনের বেলা গারো পাহাড়ে থাকলেও সন্ধ্যা নামতেই খাবারের সন্ধানে হাতির পাল হানা দিচ্ছে বিভিন্ন চাষের জমিতে। তাই কৃষকের রাত জেগে ধান পাহারায় বসছেন। হাতির তাণ্ডবে নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় অনেকেই আধাপাকা ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। সবশেষ গত মঙ্গলবার গারো পাহাড় সংলগ্ন মহাসড়কে নেমে আসে হাতির পাল। এসময় ডাক-চিৎকার, আগুন জ্বালানোসহ বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে হাতিগুলোকে সরানো যায়নি। পরে ওই এলাকায় প্রায় ৪ ঘণ্টা অবস্থানের পর রাত ৮টার দিকে গারো পাহাড়ের ভেতরে চলে যায় হাতিগুলো। এর আগে সোমবার বাতকুঁচি গ্রামে জমশেদুল ইসলাম ছোটন নামে (৩৬) নামে এক কৃষক হাতির আক্রমণে আহত হন। আহত ছোটন বাতকুঁচি গ্রামের মৃত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামের ছেলে। সেদিন সকালে এলাকাবাসীর সঙ্গে হাতির তাড়াতে গিয়ে আক্রমণের শিকার হয়ে জেলা সদর শেরপুর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তিনি।
বাতকুচি গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মহাবিপদে আছি। অনেকেই আধা পাকা ধান কাটছে। কিন্তু শ্রমিকের অভাবে আমি অহন ধান কাটবার পাইছি না। অহন রাইত জাইগা আত্তি পাহারা দেওয়া লাগে। যদি ফসল ঘরে তোলবার না পাই তাইলে সব শেষ অইয়া যাইবো।’ নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ ইত্তেফাককে বলেন, গারো পাহাড়ে এবার সাড়ে ৭শ’ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছে কৃষক। ওই এলাকার কৃষকদের আমরা পরামর্শ দিচ্ছি, বোরো ধান ৮০ ভাগ পাকলেই যেন কেটে ফেলেন। পরিপূর্ণভাবে ধান পাকার অপেক্ষা না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এদিকে বনবিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতি রাতে ধান খাওয়ার জন্য হাতির দল লোকালয়ে হানা দেওয়ার বিষয়টি এলাকাবাসী জানিয়েছেন। হাতি প্রতিরোধে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্য ও বন বিভাগের লোকজন কাজ করছেন। হাতির আক্রমণে যাদের ফসল নষ্ট হবে, তাদের বন বিভাগের কাছে ক্ষতিপূরণ পেতে আবেদন করতে বলা হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই বন্যহাতিকে মারা কিংবা হত্যার ব্যাপারে নিষেধ করা হয়েছে। ময়মনসিংহ বনবিভাগের ও মধুটিলা এলাকার রেঞ্জ কর্মকর্তা দেওয়ান আলী বলেন, হাতি এবং মানুষের সহঅবস্থানের জন্য আমরা কাজ করছি। কোনো অবস্থাতেই বন্যহাতি মারা বা তাদেরকে উত্যক্ত করা যাবে না। আমরা ফসলের ক্ষতিপূরণও দিচ্ছি।