চলার পথে পূর্বপরিচিত এক বন্ধুর সাথে দেখা হয়ে গেল, বন্ধুটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাটছে। উৎকণ্ঠা নিয়ে জানতে চাইলাম, ঘটনাটা আসলে কি হলো। দুঃখ ও ভারাক্রান্ত স্বরে বললো, তার একটা মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে গেছে, যার কারণে আজ তার এমন দশা। তবে শুকরীয়া জানালো, সে যাত্রায় বন্ধুটি বেঁচে গেছে। সকল সঙ্গী অনেকেই হইধাম ত্যাগ করেছে অমন মারাত্মক দুর্ঘটনায়। জন্মাবধি যদিও ছিল সম্পূর্ণ সুস্থ, চলার পথে দুর্ঘটনার ফলে আজ সে খোঁড়া। তাকে বছর কাল হাসপাতালে থাকতে হয়েছে সুচিকিৎসা পাবার জন্য। যতদিন হাসপাতালে ভর্তী ছিল ততদিন তাকে হাড়ভাঙ্গা রোগী বলে ডাকা হতো। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে মুক্তি পাবার পরে তাকে খোড়া মজিদ বলে ডাকা হয়। আসলে তার নাম হলো মজিদ।
একটি গান শুনেছি, “হে যীশু আমার মুছে পাপের আধার কোলে তুলে নাও পাপীরে” গানটি শুনে আমার মনে একটু খটকা লাগল কারণ, যীশু হলেন সম্পূর্ণ পূতপবিত্র। পাপের সংস্পর্শে তিনি আসেন না। যদিও তিনি জগতের গুনাহগারদের গুনাহ মুক্ত করার জন্য মানবরূপে ধরাপৃষ্ঠে হয়েছেন আবির্ভূত। আর যে সকল ব্যক্তি বিশ্বাসপূর্বক তাঁর কাছে আসে, নিজেদের জীবনের ভার তাঁর হাতে সর্ম্পণ করে, তাদের তিনি সম্পূর্ণ পাপমুক্ত করে পিতার সন্তান পিতার ঘরে ফিরিয়ে দিয়ে থাকেন। কালামপাকে যথার্থ বর্ণীত রয়েছে, “যারা হারিয়ে গেছে তাদের তালাশ করতে ও নাজাত করতেই ইবনে আদম এসেছেন”। লুক ১৯ : ১০ অন্যত্র এভাবে বর্ণীত রয়েছে, “যদি কেই মসীহের সাথে যুক্ত হয়ে থাকে তবে সে নতুনভাবে সৃষ্ট হল। তার পুরানো সবকিছু মুছে গিয়ে সব নতুন হয়ে উঠেছে। এইসব আল্লাহ থেকেই হয়। তিনি মসীহের মধ্য দিয়ে তাঁর নিজের সংগে আমাদের মিলিত করেছেন, আর তাঁর সংগে অন্যদের মিলন করিয়ে দেবার দায়িত্ব আমাদের উপর দিয়েছেন”। এর অর্থ হল, আল্লাহ মানুষের গুনাহ না ধরে মসীহের মধ্য দিয়ে নিজেদের সংগে মানুষকে মিলিত করছিলেন, আর সেই মিলনের খবর জানাবার ভার তিনি আমাদের দিয়েছেন। “যদি কেউ মসিহের সংগে যুক্ত হয়ে থাকে তবে সে নতুনভাবে সৃষ্ট হল। তার পুরানো সব কিছু মুছে গিয়ে নতুন হয়ে উঠেছে। এই সব আল্লাহ থেকেই হয়। তিনি মসিহের মধ্য দিয়ে তাঁর নিজের সংগে আমাদের মিলিত করেছেন, আর তাঁর সংগে অন্যদের মিলন করিয়ে দেবার দায়িত্ব আমাদের উপর দিয়েছেন। এর অর্থ হল, আল্লাহ মানুষের গুনাহ না ধরে মসিহের মধ্য দিয়ে নিজের সংগে মানষকে মিলিত করছিলেন, আর সেই মিলনের খবর জানাবার ভার তিনি আমাদের উপর দিয়েছেন। সেজন্যই আমরা মসিহের দূত হিসাবে তাঁর হয়ে কথা বলছি। আসলে আল্লাহ যেন নিজেই আমাদের মধ্য দিয়ে লোকদের কাছে অনুরোধ করছেন। তাই মসিহের হয়ে আমরা এই মিনতি করছি, “তোমরা আল্লাহর সংগে মিলিত হও।” ঈসা মসিহের মধ্যে কোন গুনাহ ছিল না; কিন্তু আল্লাহ আমাদের গুনাহ তাঁর উপর তুলে দিয়ে তাঁকেই গুনাহের জায়গায় দাঁড় করালেন, যেন মসিহের সংগে যুক্ত থাকবার দরুন আল্লাহর পবিত্রতা আমাদের পবিত্রতা হয়।” (দ্বিতীয় করিন্থীয় ৫ : ১৭–২১)।
খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসীহের সাথে যুক্ত হবার পূর্বে সকল মানুষ ছিলো গুনাহগার, পাপের সাগরে নিয়ত ঘুরে বেড়াচ্ছে ক্লেদাক্ত কর্দমাক্ত অবস্থায়। সার্বিক নষ্টামি কাজে থাকে তারা সদা ব্যস্ত। আর মসীহের সাথে যুক্ত, তাঁর পূতপবিত্র রক্তে স্নাত ব্যক্তিবর্গ হয়ে উঠলেন এক নতুন সৃষ্টি, যেমন মসীহ পূতপবিত্র; উপরন্ত তারা যুক্ত হয়ে গেল বেহেশতি পিতা খোদার সাথে। ছানি পড়া চোখে কিছুই ধরা পড়ে না। পাহাড়–পর্বত তার কাছে বরাবর মনে হয়ে থাকে। আর একজন চক্ষুষ্মান ব্যক্তি কেশাগ্র পর্যন্ত দেখতে পায়। যাদের ঈমানী চোখ অর্থাৎ রূহানী চোখ খুলে গেছে তারা বাতেনী বিষয়গুলো অতি সহজেই প্রতক্ষ করে থাকে। অবশ্য মানুষের বিশ্বাসের চোখ মাবুদ নিজেই খুলে দেন। “”(কলসীয় ১ : ২৭–২৯)
খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসীহের সাথে যুক্ত নতুন সৃষ্টি একটি নতুন নামে অভিহিত হবার যোগ্য। আপনি তাদের কোন নামে ডাকবেন? হয়তো বলতে পারেন সত্যানুরাগী, আলোর সন্তান, ঐশি পথের যাত্রী, বেগুনাহ ব্যক্তিবর্গ অথবা খোদার সান্নিধ্যপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ। তাদের যে একটি বিদেশি নামে ডাকতে হবে তেমন কোনো ফালতু দাবী, না আছে খোদার পক্ষ থেকে না আছে মসীহের পক্ষ থেকে। মসীহ ব্যক্তির দেহের পরিবর্তন দেখতে চান না, তিনি চাচ্ছেন বিশ^াসের পরিবর্তন। ধ্যান–ধারণা, চিন্তা–চেতনা, স্বাভাব–চরিত্র, আচার–আচরণ যেন তাঁরই মত হয়। খোদার এবাদত অবশ্যই সম্পাদিত হওয়া উচিত রূহে ও সত্যে। খোদা নিজেই এক রূহানী সত্ত্বা। “আল্লাহ রূহ; যারা তাঁর এবাদত করে, রূহে ও সত্যে তাদের সেই এবাদত করতে হবে ” (ইউহোন্না ৪ : ২৪)।
বস্তজগতের কোনোকিছু খোদার দরবারে নৈবেদ্য বা পূজার অর্ঘ হিসেবে বলি দেবার প্রয়োজন পড়ে না। ওগুলো কেবল ক্ষুধার্ত জনমানুষের জন্য নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে। খোদার সেবার অযুহাতে লুটতরাজ বা নরঘাতি যুদ্ধের কোনো প্রয়োজন নেই, যারাই লুটতরাজ ও মানব নিধন করে চলছে, আসলে তারাই হলো খোদার আসল দুষমন। প্রিয়জন ও দুষমনের মধ্যে দৈহিক কোনো পরিবর্তন বা বিশেষ কোনো চিহ্ন খুঁজে পাবে না, তাদের চিনে নিতে হবে তাদের কৃত আচরণবিধির মাধ্যমে। বিশ্বাসঘাতক যিহুদা বাহ্যিক চেহারা নিয়ে নিজেকে কুচক্রী হিসেবে প্রমাণ বহন করে নি, বরং সে যে ষড়যন্ত্র করে মসীহকে ধরিয়ে দিয়েছিল তাতেই লোকে তাকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে বুঝতে পেরেছিল।
বিশ্বাস হলো সহজ সরল আন্তরিক নির্ভরতা, মাবুদ হলেন সহজ সরল প্রেমের পরাকাষ্ঠা, আর ঈসা মসীহ হলেন পাকরূহের মানবরূপে আবির্ভাব; তদ্রুপ ভিতরে বাহিরে সে সহজ–সরল। মানুষকে ভালবেসে তাদের পাপ অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত পরিশোধ করেছেন নিজের প্রাণের মূল্যে। মসীহ এককভাবে শতভাগ বেগুনাহ, রূহানী অদৃশ্য খোদার হুবহু প্রকাশ। যে কেউ মসীহকে দেখেছে সে–ই বাতেনী খোদাকে দেখার ভাগ্যবান ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছে। কেননা বেহেশতি পিতা আর মানবরূপী মসীহ দুজনই পাকরূহ, মানুষের মঙ্গলজনক কাজে রয়েছেন সদা ব্যস্ত।
কেবল ঈমানহেতু ব্যক্তি হতে পারে মুক্তপাপ।