যে মুহুর্তটি আমার জীবন থেকে ইতোমধ্যে অতিক্রান্ত হয়ে গেলো, বলুন তা ফিরে পাবার কোনো উপায় আমার বাহুতে আছে কি? অসম্ভব! আমার স্বজন–প্রিয়জন মিলেও যদি তা ফিরাতে চায় তবুও তা ফিরাবার কোনো উপায় নেই। মানুষ এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিরুপায়। “জীবিত লোকদের আশা আছে; এমন কি, মরা সিংহের চেয়ে জীবিত কুকুরও ভাল। জীবিত লোকেরা জানে যে, তাদের মরতে হবে, কিন্তু মৃতেরা কিছুই জানে না। তাদের আর কোন পুরস্কার নেই, কারণ তাদের কথাও লোকে ভুলে যায়। তাদের ভালবাসা, ঘৃণা ও হিংসা আগেই শেষ হয়ে গেছে; সূর্যের নীচে যা কিছু ঘটবে তাতে তাদের আর কোন অংশ থাকবে না” (হেদায়েতকারী ৯:৪–৬), “কিন্তু আসলে তোমরা কিছুই না, আর তোমাদের কাজগুলোও কিছু না; যে তোমাদের বেছে নেয় সে ঘৃণার পাত্র। “পূর্ব দিকের একজন লোক আমার নাম ঘোষণা করবে; তাকে আমি উত্তর দিক থেকে আসবার জন্য উত্তেজিত করেছি, আর সে আসছে। যেমন করে চুন–সুরকি ও পানি মিশানো হয় আর কুমার মাটি দলাই–মলাই করে, তেমনি করে সে শাসনকর্তাদের পায়ে দলবে” (ইশাইয়া ৪১–২৪–২৫)।
এ গেল অতীতের বার্তা। তবে ভবিষ্যতের বিষয় কি বলা যাবে? পারবেন কি অনাগত ভবিষ্যতকে এগিয়ে আনতে আপনার জীবনে? তেমন ক্ষেত্রেও মানুষ চরম ব্যর্থ। মানুষের হাতে বা সাধ্যে সময়কে আগুপিছু করার কোনো এখতিয়ার নেই। মানুষের হাতে রয়েছে সময়ের সদ্ব্যবহার করা।
বর্তমান! একমাত্র বর্তমান সময়ে যা কিছু করার তা আপনি করে চলতে পারেন; অলসতা অবহেলা করে যদি বর্তমানকে নিষ্ফলা করে রাখেন আর তাতে যে ক্ষতি আপনার জীবনে নেমে আসবে, সে ক্ষতির জন্য আপনাকেই পস্তাতে হবে, সুতরাং সময় সুযোগের বিষয়ে ভেবে চিন্তে আপনাকে চলতে হবে, নতুবা যা কিছু হবার তা তো ইতোমধ্যে হয়েই গেছে! “এতক্ষণ যা বললাম, এখনকার সময় বুঝে সেইভাবেই চল। ঘুম থেকে জাগবার সময় হয়েছে, কারণ যখন আমরা ঈমান এনেছিলাম তখনকার চেয়ে বরং এখনই নাজাত পাবার সময় কাছে এসে গেছে। রাত প্রায় শেষ, ভোর হয়ে আসছে; এইজন্য এস, আমরা অন্ধকারের কাজ ছেড়ে দিয়ে নূরের অস্ত্রশস্ত্র তুলে নিই। হৈ–হল্লা করে মদ খাওয়া এবং মাতলামিতে নয়, জেনা ও বিশৃঙ্খল জীবনে নয়, ঝগড়াঝাঁটি ও হিংসাতে নয়, কিন্তু যারা দিনের আলোয় চলাফেরা করে, এস, আমরা তাদের মত উপযুক্ত ভাবে জীবন কাটাই। তোমরা কাপড়ের মত করে হযরত ঈসা মসীহকে দিয়ে নিজেদের ঢেকে ফেল; গুনাহ্–স্বভাবের ইচ্ছা পূর্ণ করবার দিকে মন দিয়ো না” (রোমীয় ১৩ : ১১–১৪)।
প্রশ্ন করি, যেমন নিজেরর কাছে, তেমনই আপনার কাছেও, আর প্রশ্ন করা সম্ভব হচ্ছে, যেহেতু আপনি আমি অদ্যাবধি বেঁচে আছি বলে। বর্তমান নিয়ে আমরা কি করতে পারি? নতুন কিছু বা নতুন কোনো কাজে হাত না দিয়ে বরং যে বিষয়ে রয়েছে আমাদের অভিজ্ঞতা, যাতে রয়েছি আমরা পারদর্শী, রয়েছে আমাদের অভিজ্ঞতা ও পরিমেয় সুযোগ, তেমন ক্ষেত্রে কিছু করে চলাই হবে আমাদের দায়িত্ব, কর্তব্য এবং অধিকার, সাফল্য আসবে নিশ্চয়ই! অতীতের ঘটে যাওয়া অপকর্মের ক্ষতিপূরণ আমাদের চাইতে হবে না, কেননা তা পুষিয়ে দেবার ক্ষমতা দুনিয়ার কোনো লোকের হাতে নেই, বিষয়টি সুনিশ্চিতভাবে জেনে রাখা প্রয়োজন। একটি বিষয় স্পষ্ট, ক্ষতিপূরণ চাইতে গিয়ে যে আরো ক্ষতি হয়ে যায়, বিগত ক্ষতির সাথে ক্ষতির পরিমাণ অধিক মাত্রায় বেড়ে যায়, বোধ করি তা আপনি টের পেয়েছেন। প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক, তা হলে আমরা কিইবা করতে পারি জীবন ক্ষেত্রে?
এবার আসুন, মিলেমিশে জীবন ক্ষেত্রে তাল লয় মিলিয়ে প্রাত্যহিক কাজকর্মে মনোযোগী হই। পৃথিবীটা হলো সমন্বয়ের প্লাটফর্ম। আপনার হাতে যে দায়িত্ব রয়েছে তা আপনি সুচারুরূপে পালন করে ছেড়ে দিন পরবর্তী ব্যক্তির হাতে, তিনি তার দায়িত্¦ পালন করে অপেক্ষমান ব্যক্তির হাতে ছেড়ে দিবেন, এমনি করে পর্যায়ক্রমে একটি পরিপূর্ণ দ্রব্য সৃষ্ট হয়ে থাকে। এক কথায় বলা চলে, পৃথিবীর যাবতীয় কর্মকান্ড সুসম্পন্ন হয়ে থাকে পারষ্পরিক সহযোগীতা, নির্ভরতা তথা সমন্বয়ের মাধ্যমে। কালামপাক থেকে সমার্থক একটি আয়াত তুলে ধরছি “আপল্লো কে? আর পৌলই বা কে? আমরা তো সেবাকারী মাত্র যাদের মধ্য দিয়ে তোমরা ঈমানের পথে এসেছ। প্রভুই আমাদের প্রত্যেককে যার যার কাজ দিয়েছেন। আমি বীজ লাগিয়েছিলাম, আপল্লো তাতে পানি দিয়েছিলেন, কিন্তু আল্লাহ্ তা বাড়িয়ে তুলেছিলেন। সেইজন্য যে বীজ লাগায় বা যে তাতে পানি দেয় সে কিছুই নয়; কিন্তু আল্লাহ্, যিনি বাড়িয়ে তোলেন, তিনিই সব। যে বীজ লাগায় আর যে পানি দেয় তাদের উদ্দেশ্য একই, কিন্তু প্রত্যেকে যার যার পরিশ্রম হিসাবে পুরস্কার পাবে, কারণ আমরা দু’জনই আল্লাহর সংগে কাজ করছি। তোমরা আল্লাহরই ক্ষেত, আল্লাহরই তৈরী দালান” (করিন্থীয় ৩ : ৫–৯), “সেইজন্য তোমাদের কথা বলে যখন আমরা গর্ব করি তখন সীমার বাইরে কিছু বলি না। যদি আমরা তোমাদের কাছে না যেতাম তবে আমাদের এই রকম গর্ব করা সীমার বাইরে হত। কিন্তু আমরা মসীহের বিষয়ে সুসংবাদ তবলিগ করতে করতে তোমাদের কাছেও গিয়েছিলাম। তা ছাড়া অন্যদের কাজ নিয়েও আমরা গর্ব করছি না– যদি করতাম তবে তা সীমার বাইরে হত। আমরা এই আশা করি যে, তোমাদের ঈমান বাড়বার সংগে সংগে আমরা তোমাদের মধ্যে আরও অনেক কাজ করতে পারব” (২করিন্থীয় ১০ : ১৪–১৫)।
প্রাকৃতিক বাগ–বাগিচায় যতপ্রকার বৃক্ষলতা–গুল্ম সৃষ্টি হয়ে আছে, ওগুলো সবটাই উপকারী, তবে কোনো ব্যক্তির পক্ষে সবগুলোর উপকারীতা জানা সম্ভব নাও হতে পারে। আমি চিনি না বলে তা অপ্রয়োজনীয় তা বলি কি করে? সমাজে যত লোক বসবাস করে চলছে, যে যে পেশায় রয়েছে যুক্ত, যদিও পেশা ও কর্মপদ্ধতি বাহ্যত আলাদা আলাদা, কিন্তু সব কর্মযজ্ঞ মানুষের প্রয়োজনেই হয়েছে আবিষ্কৃত। প্রত্যেক মানুষ প্রত্যেকের উপর নির্ভরশীল। একটি নবজাতক পৃথিবীতে আগমন করে পিতা–মাতার মাধ্যমে। তা সহজভাবে ভূমিষ্ট হোক বা হাসপাতালে সিজারিয়ান প্রসব করুক, সেক্ষেত্রে অনেকগুলো হাত সাহায্যের জন্য প্রস্তুত থাকে। সন্তান ভূমিষ্ঠ হবার পরে সেবিকার হাতে তুলে দেয়া হয় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার জন্য। সদ্যজাত সন্তানের জন্য যে পেলব তোয়ালের প্রয়োজন হয় তা কেউ না কেউ তৈরী করে রেখেছে। সদ্যজাত সন্তানটি ক্রমেক্রমে বৃদ্ধি লাভ করে চলে, এক সময় প্রয়োজন হয়ে পড়ে সুশিক্ষা প্রদান করার। তখন শিক্ষকের প্রয়োজন হয়, যাদের সাথে বজায় রাখতে হয় ভক্তি–শ্রদ্ধা সম্মানের মধুময় সম্পর্ক। শিক্ষানবিস যে সকল শিক্ষাসহায়ক উপকরন ব্যবহার করে থাকে তাও বিশাল কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে হয়ে থাকে প্রস্তুতকৃত। একটি শিক্ষানবিস ২০/২৫ বৎসর অধ্যয়ন করে চলে সমাজ স্বীকৃত উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করা পর্যন্ত। উক্ত সময়ে ছাত্রটির সহযোগীতা পেতে হয় বহু ব্যক্তির এবং তাদের সাথে রাখতে বাধ্য মিতালী শ্রদ্ধা ও সদ্ভাব।
আর একটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরছি, আপনাকে নরসুন্দরের সাথে ভাল সম্পর্ক রাখতে হবে স্বীয় আলু থালু কেশ পরিপাটি করে রাখার জন্য। কর্মকারের সাথে সম্পর্ক রাখতে হবে গৃহের প্রয়োজনীয় কাটারি পেতে হলে। কুম্ভকারের কাছে যেতে হবে মাটির তৈরি বাসন কোসন দিয়ে ঘর সাজাতে চাইলে। গৃহ নির্মাণের জন্য কথা বলতে হবে হয় কাঠমিস্ত্রি অথবা রাজমিস্ত্রির সাথে। সমাজের শিক্ষিত অশিক্ষিত নানা পেশাধারী মানুষের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলতে আপনি বাধ্য, যদি সুখে শান্তিতে জীবন যাপন করতে চান। আপনি যদি একজন সুপন্ডিত ব্যক্তি হয়ে থাকেন তবে আপনার অজানা থাকার কথা নয়, সমাজের সকলেই মূলত: মানুষ বই ভিন্ন কিছু নয়। আর খোদা নিজেই মানুষ সৃষ্টি করেছেন স্বীয় প্রতিনিধিত্ব করার নিমিত্তে।
খোদা হলেন এক রূহানী সত্ত্বা, যিনি হলেন সর্বশক্তিমান সর্বত্র বিরাজমান, প্রেম ও ক্ষমার অফুরান পারাবার। প্রসঙ্গক্রমে কালামের একটি উদ্ধৃতি তুলে দিলাম “এতে আমরা জানতে পারব যে, আমরা সত্যের। তা ছাড়া কোন ব্যাপারে যদি আমাদের অন্তর আমাদের দোষী করে তবে আল্লাহর সামনে আমাদের অন্তরকে আমরা সান্ত¡না দিতে পারব। আল্লাহ্ আমাদের অন্তর থেকে মহান এবং তিনি সব কিছুই জানেন” (১ইউহোন্না ৩:২০), “কেউ কি এমন গোপন জায়গায় লুকাতে পারে যেখানে আমি তাকে দেখতে পাব না? আমি কি আসমান ও জমীনের সব জায়গায় থাকি না?” (ইয়ারমিয়া ২৩:২৪), “তোমার পাক–রূহের কাছ থেকে আমি কোথায় যেতে পারি? তোমার সামনে থেকে আমি কোথায় পালাতে পারি? যদি আসমানে গিয়ে উঠি, সেখানে তুমি; যদি কবরে আমার বিছানা পাতি, সেখানেও তুমি; যদি ভোরের পাখায় ভর করে উঠে আসি, যদি ভূমধ্যসাগরের ওপারে গিয়ে বাস করি, সেখানেও তোমার হাত আমাকে পরিচালনা করবে, তোমার ডান হাত আমাকে শক্ত করে ধরে রাখবে” (জবুর শরীফ ১৩৯ : ৭–১০), “এইভাবে আল্লাহ্ সমুদ্রের বড় বড় প্রাণী এবং পানির মধ্যে ঝাঁক বেঁধে ঘুরে বেড়ানো বিভিন্ন জাতের প্রাণী সৃষ্টি করলেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন জাতের পাখীও সৃষ্টি করলেন। তাদের প্রত্যেকের নিজের নিজের জাতি অনুসারে বংশ বৃদ্ধি করবার ক্ষমতা রইল। আল্লাহ্ দেখলেন তা চমৎকার হয়েছে” (পয়দায়েশ ১ : ২১)। মানুষ হলো তাঁর বুকের ধন, নয়নের মণি “আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তাঁর গৌরব প্রকাশ করবার জন্য আমাকে সেই সব জাতির কাছে পাঠিয়েছেন যারা তোমাদের লুট করেছে। তিনি বলছেন, “যে কেউ তোমাদের ছোঁয় সে আমার চোখের মণি ছোঁয়” (জাকারিয়া ২:৮)। মানুষকে তিনি এতটাই মহব্বত করেন যার দৃষ্টান্ত খুঁজতে আপনি আমি ক্লান্ত হয়ে পড়বো “আল্লাহ্ মানুষকে এত মহব্বত করলেন যে, তাঁর একমাত্র পুুত্রকে তিনি দান করলেন, যেন যে কেউ সেই পুত্রের উপর ঈমান আনে সে বিনষ্ট না হয় কিন্তু অনন্ত জীবন পায়” (ইউহোন্না ৩:১৬)। বাতেনি খোদার দৃশ্যমান আবয়ব আমরা দেখতে পাব মানবরূপী খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসীহের মাধ্যমে “এই পুত্রই হলেন অদৃশ্য আল্লাহর হুবহু প্রকাশ। সমস্ত সৃষ্টির আগে তিনিই ছিলেন এবং সমস্ত সৃষ্টির উপরে তিনিই প্রধান, কারণ আসমান ও জমীনে, যা দেখা যায় আর যা দেখা যায় না, সব কিছু তাঁর দ্বারা সৃষ্ট হয়েছে। আসমানে যাদের হাতে রাজত্ব, কর্তৃত্ব, শাসন ও ক্ষমতা রয়েছে তাদের সবাইকে তাঁকে দিয়ে তাঁরই জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে” (কলসীয় ১:১৫)। মসীহ কোনো ব্যক্তিকে ঘৃণা করেন নি “প্রিয় সন্তানেরা, আমরা যেন একে অন্যকে মহব্বত করি, কারণ মহব্বত আল্লাহর কাছ থেকেই আসে। যাদের অন্তরে মহব্বত আছে, আল্লাহ্ থেকেই তাদের জন্ম হয়েছে এবং তারা আল্লাহকে জানে। যাদের অন্তরে মহব্বত নেই তারা আল্লাহকে জানে না, কারণ আল্লাহ্ নিজেই মহব্বত” (১ইউহোন্না ৪:৭–৮) বরং ভালবেসে তাদের পাপের কাফফারা পরিশোধ দেবার জন্য নিজের প্রাণ পর্যন্ত কোরবানি দিয়েছেন। “মনে রেখো, ইবনে–আদম সেবা পেতে আসেন নি বরং সেবা করতে এসেছেন এবং অনেক লোকের মুক্তির মূল্য হিসাবে তাদের প্রাণের পরিবর্তে নিজের প্রাণ দিতে এসেছেন” (মথি ২০:২৮), “ঠিক সেইভাবে অনেক লোকের গুনাহের বোঝা বইবার জন্য মসীহকেও একবারই কোরবানী দেওয়া হয়েছে। তিনি দ্বিতীয় বার আসবেন, কিন্তু তখন গুনাহের জন্য মরতে আসবেন না, বরং যারা তাঁর জন্য আগ্রহের সংগে অপেক্ষা করে আছে তাদের সম্পূর্ণ ভাবে নাজাত করবার জন্য আসবেন” ইব্রাণী ৯ : ২৮), “” (পিতর ৩:১৮), “কেবল নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থেকো না, বরং একে অন্যের জন্য চিন্তা কর। মসীহ্ ঈসার যে মনোভাব ছিল তা যেন তোমাদের দিলেও থাকে। আসলে তিনি আল্লাহ্ রইলেন, কিন্তু আল্লাহর সমান থাকা তিনি আঁকড়ে ধরে রাখবার মত এমন কিছু মনে করেন নি। তিনি বরং গোলাম হয়ে এবং মানুষ হিসাবে জন্মগ্রহণ করে নিজেকে সীমিত করে রাখলেন। এছাড়া চেহারায় মানুষ হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত, এমন কি, ক্রুশের উপরে মৃত্যু পর্যন্ত বাধ্য থেকে তিনি নিজেকে নীচু করলেন” (ফিলিপীয় ২:৪–৮), “আল্লাহর অশেষ রহমত অনুসারে মসীহের সংগে যুক্ত হয়ে তাঁর রক্তের দ্বারা আমরা মুক্ত হয়েছি, অর্থাৎ গুনাহের মাফ পেয়েছি” (ইফিষীয় ১:৭), “তিনি তাঁদের বললেন, “তোমরা কিছুই জান না, আর ভেবেও দেখ না যে, গোটা জাতিটা নষ্ট হওয়ার চেয়ে বরং সমস্ত লোকের বদলে একজন মানুষের মৃত্যু অনেক ভাল।” কাইয়াফা যে নিজে থেকে এই কথা বলেছিলেন তা নয় কিন্তু তিনি ছিলেন সেই বছরের মহা–ইমাম। সেইজন্য তিনি ভবিষ্যতের কথা বলেছিলেন যে, ইহুদী জাতির জন্য ঈসাই মরবেন। কেবল ইহুদী জাতির জন্যই নয়, কিন্তু আল্লাহর যে সন্তানেরা চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে তাদের জমায়েত করে এক করবার জন্যও তিনি মরবেন” ইউহোন্ন ১১: ৫০–৫২)।
ঘৃণাভরে আপনি কি ম্যথর সম্প্রদায়কে এড়িয়ে চলতে চান, তবে তো আপনার গৃহটি হবে দুগর্ন্ধে ভরা একটি ভাগাড় মাত্র। আপনার নিজের স্বার্থে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার জন্যই তাদের সাথে সুসংযোগ বজায় রাখতে হবে সমাজের নিচু পেশার লোকদের সাথে। তাছাড়া কর্ম বা পেশা কোনোটাই ছোট বা বড় হবার কথা নয়। কাজ তো কাাজ। যেকোনো ব্যক্তি নিজেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা ও সুস্বাস্থের স্বার্থে অনেকগুলো কাজ করতে বাধ্য, যেমন প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া তো আপনাকেই দিতে হবে; তা কাজের লোক, কিংকর কিংকরী যতজনই থাক না কেন, তাদের কারো কাছ থেকে সাহায্য পাবার উপায় থাকে না বহুক্ষেত্রে। নরসুন্দরকে দাড়ি চুল কাটাতে বলা যতই সহজ, এমনকি বগলের পশম/চুল পর্যন্ত তাকে দিয়ে পরিষ্কার করিয়ে নেয়া চলে, তবে শরীরের নিন্মাঙ্গের চুল তো বোধ করি নিজেকেই পরিষ্কার করে নিতে হয়। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজেকে পরিষ্কার রাখার জন্য অনেক ধরণের পেশাকারী সাজতে হয়; যেমন মল পরিষ্কার করার জন্য ম্যথর সাজতে হয়, নাভির নিজের লোম পরিষ্কার করার জন্য নাপিত সাজতে হয় এবং আরো অনেক কিছু রয়েছে যা তাকে একা একা করতে হয়। “একটি শরীরের যেমন অনেকগুলো অংশ থাকে আর সেই অংশগুলো অনেক হলেও যেমন সব মিলে একটিমাত্র শরীর হয়, মসীহও ঠিক সেই রকম। আমরা ইহুদী কি অ–ইহুদী, গোলাম কি স্বাধীন, সকলেরই একই পাক–রূহের দ্বারা একই শরীরের মধ্যে তরিকাবন্দী হয়েছে। আমরা সকলেই সেই একই পাক–রূহকে পেয়েছি” (১করিন্থীয় ১২:১২–১৩), “ইহুদী ও অ–ইহুদীর মধ্যে, গোলাম ও স্বাধীন লোকের মধ্যে, স্ত্রীলোক ও পুরুষের মধ্যে কোন তফাৎ নেই, কারণ মসীহ্ ঈসার সংগে যুক্ত হয়ে তোমরা সবাই এক হয়েছ” (গালাতীয় ৩ : ২৮)। মানুষ হলো খোদার এক অপরূপ সৃষ্টি, যাকে গঠন দেয়া হয়েছে খোদার দৃশ্যমান প্রতিভূ হিসেবে। খোদা বরাবর অদৃশ্য রূহানী সত্ত্বা। তাকে মানুষ চিনতে পারে তাঁর অপার দয়া ও ক্ষমার মাধ্যমে। অবশ্য তিনি যে সকল প্রেরণামূলক বাণী মানব কল্যাণের স্বার্থে প্রকাশ করেছেন তাঁর মাধ্যমেও তাঁর চরিত্র মনমানসিকতা জানা যায়। তিনি যে সকল প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়েছেন তাদের মাধ্যমে আমরা তাঁকে জানতে পেরেছি এবং পরিশেষে তাঁর একজাত পূত্র খোদাবন্দ হযরত ঈসা মসীহের মাধ্যমে তাঁর বিষয়ে সম্পূর্ণ ধারণা জানতে পেরেছি “আল্লাহর এবাদতের জন্য প্রথম ব্যবস্থাটিতে কতগুলো নিয়ম দেওয়া হয়েছিল এবং এই দুনিয়াতে এবাদতের জন্য বিশেষ একটা জায়গার কথাও তাতে ছিল। আর সেই অনুসারে একটা তাম্বু তৈরী করা হয়েছিল। সেই তাম্বুর প্রথম অংশে থাকত বাতিদান, টেবিল এবং পবিত্র–রুটি। এই প্রথম অংশটির নাম ছিল পবিত্র স্থান। দ্বিতীয় পর্দার পিছনে তাম্বুটির আর একটা অংশ ছিল; তার নাম ছিল মহাপবিত্র স্থান। এই অংশে ধূপ জ্বালাবার জন্য সোনার ধূপগাহ্ ও সাক্ষ্য–সিন্দুক ছিল। তার চারদিক সোনা দিয়ে মুড়ানো ছিল। তার মধ্যে ছিল সোনার পাত্রে রাখা মান্না, হারুনের যে লাঠিতে ফুল ফুটেছিল সেই লাঠিটা, আর ব্যবস্থা–লেখা দু’টা পাথরের ফলক” (ইব্রাণী ৯ : ১–৪)। তিনি হলেন ক্ষমা, প্রেম ও পবিত্রতার মূর্তমান প্রকাশ। খোদা হলেন প্রেমের নির্যাশ। প্রেমের তাগিদে তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। মানুষকে সৃষ্টির স্রেষ্ঠ জীব হিসেবে অভিহীত করেছেন, সম্মান, নিজের সমান মর্যাদা ও অধিকার দিয়েছেন। ফেরেশতাকুলকে আজ্ঞা দিয়েছেন, আদম (আঃ) কে সেজদা দেবার জন্য। আর এমন মর্যাদার মাধ্যমে বোধগম্য হতে পারে মানুষের উচ্চ সম্মানের বিষয়। অবশ্য সম্মান, পদমর্যদা ও অধিকার আসে ব্যক্তির কর্মক্ষমতা প্রদর্শনের উপর ভিত্তি করে। যতই অন্ধকার হোক না কেন, যতই আহাজারী করুন না কেন, কেবল পথচারির জন্যই একটি টর্চলাইটের প্রয়োজন রয়েছে। যেমন লেখকের প্রয়োজন থাকে একটি কলমের; অবশ্য বহু গন্ডমুর্খের পকেটে মূল্যবান ঝড়না কলম সাজিয়ে রাখতে দেখেছি, অবশ্য ওটা ঝুলিয়ে মুর্খ ব্যক্তিটি কেবল নিজেকে সুশিক্ষিত দেখাবার ভান হিসেবে; আদতে ভিতরে বিদ্যাবুদ্ধির আঁচড়টুকু তার মধ্যে থাকে না।
গোটা বিশ্ব অন্ধকারে ডুবন্ত ছিল। মহান নূরের খোদা বললেন আলো দানকারী এক জ্যোতি সৃষ্টি হোক, অমনি বিশাল এক সূর্যের সৃষ্টি হলো। যে গোলার্ধে যখন সূর্যের দর্শন মিলে গোলার্ধের উক্ত অংশ তখন আলোকিত থাকে। আসলে আলো হলো অন্ধকার দূর করার একক উপায়। দিবালোকে সকলেই স্বাচ্ছন্ধে মাঠে ময়দানে ঘুরে বেড়ায়, তবে রাতের আধারে চলার জন্য চাই একটি আলোর উৎস। চলমান পথিকদের বহরে প্রত্যেকের হাতে যদি এক একটি টর্চলাইট থাকে তবে তারা সহজেই চলাফেরা করতে পারে; যেমন দিবালোকে তারা সহজেই চলাচল করতো।
গোটা বিশ্ব আজ নীতি নৈতিকতার দিক দিয়ে পরিপূর্ণ অন্ধকার অমানিশায় দিশেহারা “যারা ভাল কাজ করে শাসনকর্তাদের ভয় করবার কোন কারণ তাদের থাকে না, কিন্তু যারা অন্যায় করে তারাই প্রশাসন ভয় করে। শাসনকর্তাকে ভয় না করে কি তোমরা চলতে চাও? তাহলে যা ভাল তা–ই করতে থাক। তাতে তোমরা তাঁর কাছ থেকে প্রশংসা পাবে” (রোমীয় ১৩ : ৩)। যদিও মাবুদ মাওলা মানুষের আচার–আচরণের জন্য কতকগুলো বিধিকলাপ শিখিয়ে দিয়েছেন, কিন্তু পাগলপ্রায় মানুষগুলো হয়ে আছে হীনস্বার্থে অন্ধ। কার সাথে কেমন আচরণ করতে হয় তা তারা বেমালুম ভুলে গেছে। খোদাকে সন্তুষ্ট করার অযুহাতে খোদাদ্রোহী কাজ করে আসছে তাদের যাত্রারম্ভ থেকে। কথায় বলে লোভে পাপ, আর পাপ জন্ম দেয় মৃত্যুর। তারা আজ রূহানীভাবে মৃত।। কেবল দৈহিকভাবে আর দশটি প্রাণীর মত হাবভাব করছে; যদিও খোদার মৌলিক পরিকল্পনা হলো, একমাত্র মানুষই হবে অদৃশ্য খোদার দৃশ্যমান প্রতিনিধি, কিন্তু তারা তেমন অধিকার ও মর্যাদা খুইয়ে ফেলেছে। প্রত্যেকটি মানুষ যেন পটে আঁকা ছবি, যার রয়েছে আকৃতি বটে, তবে বিবেক বিবর্জিত মূর্তি মাত্র। যে উদ্দেশ্য নিয়ে খোদা তাদের সৃষ্টি করেছেন সে উদ্দেশ্য আজ চরমভাবে সুদূর পরাহত। মানুষ নিজে নিজেকে আর সংশোধন করতে পারলো না। যে অপরাধগুলো সে ইতোমধ্যে করে বসেছে, ভ্রাতৃ হননের মাধ্যমে নিজের হস্ত রঞ্জিত করে ফেলেছে, নেমে গেছে পূতপবিত্র খোদার স্তর থেকে অভিশপ্ত ইবলিসের কাতারে, কি করে সে নিজে নিজেকে অতল গহ্বর থেকে তুলে আনবে বলুন। মানুষ আজ নিয়ত জ্বলেপুড়ে হাপিত্যেশ করে কালাতিপাত করছে।
মানুষের জন্য অত্যাবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে এমন এক সাহায্যকারী ব্যক্তির যিনি আদমের কলুষিত বীর্যের দ্বারা জাত হবেন না; যিনি খোদার কুদরতে খোদার পক্ষে, স্বার্থক প্রতিনিধিত্ব করার জন্য মানুষের কাতারে হলেন আবির্ভূত। যিনি হলেন সম্পূর্ণ নিষ্পাপ, যার হাতে তুলে দেয়া হয়েছে পৃথিবীর যাবতীয় এখতিয়ার “সত্যি, তিনিই আমাদের সব রোগ তুলে নিয়েছেন আর আমাদের যন্ত্রণা বহন করেছেন; কিন্তু আমরা ভেবেছি আল্লাহ্ তাঁকে আঘাত করেছেন, তাঁকে মেরেছেন ও কষ্ট দিয়েছেন। আমাদের গুনাহের জন্যই তাঁকে বিদ্ধ করা হয়েছে; আমাদের অন্যায়ের জন্য তাঁকে চুরমার করা হয়েছে। যে শাস্তির ফলে আমাদের শান্তি এসেছে সেই শাস্তি তাঁকেই দেওয়া হয়েছে; তিনি যে আঘাত পেয়েছেন তার দ্বারাই আমরা সুস্থ হয়েছি। আমরা সবাই ভেড়ার মত করে বিপথে গিয়েছি; আমরা প্রত্যেকে নিজের নিজের পথের দিকে ফিরেছি। মাবুদ আমাদের সকলের অন্যায় তাঁর উপর চাপিয়েছেন” (ইশাইয়া ৫৩: ৪–৬)। মানুষকে পুনরায় পিতার হাতে ফিরিয়ে দেবার অধিকার রয়েছে যার হাতে যিনি নিজের পূতপবিত্র রক্তের মূল্যে বিশে^র পাপের কাফফারা করেছেন পরিশোধ, কেবল তিনিই পতীত হারানো মানুষদের খুঁজে নেবার জন্য বিশ্¦ের অলিগলিতে, প্রতিটি লোকালয়ে নিয়ত খুঁজে ফিরছেন “যারা হারিয়ে গেছে তাদের তালাশ করতে ও নাজাত করতেই ইবনে–আদম এসেছেন” (লুক ১৯:১০)। যদিও প্রত্যেকটি মানুষ স্বীয় পাপের জ্বালায় নিয়ত হাপিত্যেশ, আপসোস, অনুশোচনা করে ক্লান্ত অবশন্ন, তথাপি তাদের প্রত্যেকের হৃদয়ে সদাজাগ্রত রয়েছে বাঁচার অন্তহীন আশা। পেতে চায় সকলেই পুনর্বার আর একটি সুযোগ, যেন নিজেকে মুক্ত–পাপ করে পিতার সাথে হতে পারে অনন্তকালের জন্য সংযুক্ত। মেহেরবান মাবুদ অনন্তপ্রেমের অফুরাণ ফল্গুধারা, ক্ষমাধনে সীমাহীন পারাবার, যার কাছ থেকে অনুতপ্ত গুনাহগার পেয়ে যায় মাগফেরাত।
আসলে তিনি সকল মানুষ সৃষ্টি করেছেন বিধায় তাঁর অগাধ প্রেম রয়েছে আপামর জনগণের উপর। তিনি হলেন অন্তর্যামী, যেক্ষেত্রে তিনি বলেছেন, আইস আমরা উত্তর প্রতুত্তর করি, তোমাদের পাপ যতই গাড় হোক না কেন তা বরফের মত সাদা হবে “তিনি এটা করেছিলেন যেন তিনি তাঁর প্রিয় পুত্রের মধ্য দিয়ে বিনামূল্যে যে মহিমাপূর্ণ রহমত আমাদের দান করেছেন তাঁর প্রশংসা হয়। আল্লাহর অশেষ রহমত অনুসারে মসীহের সংগে যুক্ত হয়ে তাঁর রক্তের দ্বারা আমরা মুক্ত হয়েছি, অর্থাৎ গুনাহের মাফ পেয়েছি। এই রহমত আল্লাহ্ তাঁর মহা জ্ঞান ও বুদ্ধির সংগে খোলা হাতে আমাদের দান করেছেন” (ইফিষীয় ১ : ৬–৮)। তিনি মানুষের কলুষিত হৃদয় অপসারণ করে তাঁর পূতপবিত্র কোমল ¯স্নেহমাখা হৃদয় প্রতিস্থাপন করে দিবেন “আমি তোমাদের ভিতরে নতুন দিল ও নতুন মন দেব; আমি তোমাদের কঠিন দিল দূর করে নরম দিল দেব ” (ইহিষ্কেল ৩৬ : ২৬)। আর তিনি একবার যে ওয়াদা করে থাকেন তা অন্যথা করার অপশক্তি কেউ আছে কি? সমস্যা হলো, আমরা এমন একটা বিশে^ বর্তমানে বসবাস করে আসছি যেক্ষেত্রে সকলেই পাপ করেছে এবং তেমন কর্মে সদা থাকে ব্যস্ত। যদিও মুখে থাকে তাদের ন্যায় ও সত্যের ফুলঝুড়ি, বাস্তবে অন্তর থাকে তাদের মাংসিক কামনা বাসনা ঘিরে। নিজের অন্ত্রের চিকিৎসা যেমন কোনো ব্যক্তি নিজে নিজে করতে পারে না, মানুষের কৃত পাপ অপরাধের জঞ্জাল থেকেও কেউ নিজেকে দায়মুক্ত করার ক্ষমতা রাখে না। বিষয়টি অতি সহজেই প্রকাশ করা চলে, যেমন বিগত মাত্র একটি মুহুর্ত কেউ জীবনে ফিরিয়ে আনার ক্ষমতা রাখে না, তদ্রƒপ ভূমিষ্ঠ সন্তানকেও কেউ পুনর্বার মায়ের গর্ভে ফিরিয়ে দেবার ক্ষমতা রাখে না। মানুষ অতীতকে ফেরাতে না পারলেও পেয়ে যাচ্ছি তেমন সুযোগ, আমরা মাবুদের সাথে উত্তর–প্রতুত্তর করে জেনে নিতে পারি আমাদের অনাগত ভবিষ্যতের বিষয়।
ঘোর অমানিশায় পথ চলার জন্য একটি টর্চ যেমন সহায়ক, একইভাবে বর্তমান বিশে^ বাঁচার তাগিদে আমাদের আবশ্যক সদা জাগ্রত পাকরূহ যাকে উপঢৌকন হিসেবে প্রত্যেক ইমানদার ব্যক্তিকে দান করা হয়। তিনি আপনার আমার হৃদয়ে নিয়ত বসবাস করে পথ চলার নির্দেশন দিয়ে থাকেন। হতে পারে পার্থীব মদমোহের দাপটে পাকরূহকে অগ্রাহ্য করে বসি, তবে আমাদের একগুয়েমির শাস্তি যে পাচ্ছি না তা নয়। আর শাস্তি পাবার ফলেই আমাদের চেতনা জাগ্রত হয়, অনুতাপানলে জ্¦লেপুড়ে তাঁর কাছে ফিরে আসার জন্য আকুতি জানাই। সুতরাং বর্তমান সময়টুকু হেেলা আমাদের পাপ–অপরাধের কবল থেকে অবমুক্ত হবার সুযোগ, যা মাবুদ আমাদের প্রতিত দয়াপরবস হয়ে ব্যবস্থা করে রেখেছেন। যেমন তিনি আমাদের হৃদয় দুয়ারে নিয়ত করাঘাত করে চলছেন। একটি মোম ঠিক তখনই আলো ছড়াতে পারে যখন কেউ ওটিকে জ্বালিয়ে দেয়। মাবুদ আমাদের জ্বালিয়ে দিয়েছেন পাকরূহের অভিষেক দিয়ে। ঈমানদার ব্যক্তির জন্য প্রথম উপহার পাকরূহের অভিষেক! অভিষিক্ত ব্যক্তি রূপান্তরিত হয়ে গেল জগতের নূরে। তিনি যখন যে পথে চলেন, তার মধ্য থেকে নিয়ত জ্যোতি বিচ্ছুরিত হতে থাকে। অভিশপ্ত ইবলিস যেমন খোদাকে ভয় পায়, ভয় পায় মসীহকে, একইভাবে ইবলিস পাকরূহে অভিষিক্ত ব্যক্তিকেও ভয় পায়। আলোর পরশ বা উপস্থিতিতে অমানিশা যেমন উবে যায়, মসীহের উপস্থিতিতে ইবলিস পালাবার জন্য অস্থির হয়ে ওঠে।
খোদা সদাসর্বদা প্রেরণা, প্রেশণা ও অনুপ্রেরণা দিয়ে চলছেন, তিনি আমাদের অনন্তকালীন প্রেম দিয়ে আমাদের আগলে রেখেছেন অভিশপ্ত ইবলিসের কালো হাত থেকে। বান্দা যখন আন্তরিকভাবে মাবুদের কাছে আশ্রয় কামনা করেন, অমনি তিনি যেকোনো উপায়ে ভক্তের প্রাণ রক্ষা করে থাকেন “তারা ডাকবার আগেই আমি সাড়া দেব, তারা কথা বলতে না বলতেই আমি শুনব ” (ইশাইয়া ৬৫ : ২৪)। বিপন্ন ব্যক্তি অবশ্যই সে বিষয়ে সাখ্য প্রদান করতে পারেন। আপনি অদ্যাবধি বেঁচে আছেন, যার অর্থ হলো, পূতপবিত্র প্রেম–পারাবার মাবুদের সাথে পুনর্মিলনের অপূর্ব সুযোগ আপনার জন্য রয়েছে উম্মুক্ত যে দরজা বন্ধ করার ক্ষমতা কারো হাতে নেই এবং থাকার কথাও নয়। “তোমার মত আল্লাহ্ আর কেউ নেই যিনি তাঁর বেঁচে থাকা লোকদের গুনাহ্ ও অন্যায় মাফ করে দেন। তুমি চিরকাল রাগ পুষে রাখ না বরং তোমার অটল মহব্বত দেখাতে আনন্দ পাও। তুমি আবার আমাদের উপর মমতা করবে; তুমি আমাদের সব গুনাহ্ পায়ের তলায় মাড়াবে এবং আমাদের সব অন্যায় সাগরের গভীর পানিতে ফেলে দেবে। অনেক অনেক দিন আগে তুমি আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে যেমন কসম খেয়েছিলে তেমনিভাবেই তুমি ইব্রাহিম ও ইয়াকুবের বংশের কাছে বিশ্বস্ত থাকবে এবং তোমার অটল মহব্বত দেখাবে।” (মিকাহ ৭ : ১৮–২০)।