বিগত আড়াই দশকে বাংলাদেশের মাতৃমৃত্যুহার অনেক কমে এলেও, এখন উন্নয়ন অংশীদাররা পর্যাপ্ত তহবিলের জোগান না দিলে মাতৃস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও শিশুদের নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘের সংস্থা ইউনিসেফ।
বাংলাদেশে ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মাতৃমৃত্যু বছরে গড়ে ৭ শতাংশ কমার তথ্য দিয়ে সংস্থা দুটি এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, এই অগ্রগতি মানুষের অপরিহার্য স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি বৃদ্ধির জন্য অব্যাহত প্রচেষ্টার প্রমাণ তুলে ধরে। কিন্তু জাতিসংঘের প্রতিবেদনে যে বৈশ্বিক উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের এসব অর্জন এখন হুমকির মুখে পড়েছে। এতে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী নজিরবিহীনভাবে সহায়তা কমানোর কারণে বিভিন্ন দেশ এখন অতি গুরুত্বপূর্ণ মাতৃ, নবজাতক ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে। মাতৃমৃত্যুর মূল কারণ প্রসূতির রক্তপাত, উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যা, অনিরাপদ গর্ভপাত ও অন্যান্য পরোক্ষ জটিলতা। এসব মোকাবিলায় উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, দক্ষ স্বাস্থ্য সেবাকর্মী এবং প্রয়োজনের সময় জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর প্রয়োজন। তহবিলে কাটছাঁট হলে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর সেবাদানের সক্ষমতা ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা কমবে এবং অত্যাবশ্যক সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হবে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে মাতৃস্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ ও মানের ওপর। নিজ খরচে চিকিৎসা চালানো অসহায় ও ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে। বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা খাতে নিজ পকেট থেকে ব্যয় উদ্বেগজনক হারে বেশি। এই বাড়তি বোঝা প্রতি বছর ৫০ লাখ মানুষকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেয়। মাতৃত্বকালীন চাহিদা মেটাতে সম্পদহীন মায়েদের ঝুঁকির মুখে ফেলে। চলতি বছর বিদেশে প্রায় সব ধরনের সহায়তা সাময়িকভাবে স্থগিতের ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাতে বিভিন্ন বৈশ্বিক কর্মসূচির কোটি কোটি ডলারের তহবিল পড়েছে হুমকির মুখে। এসব অর্থ ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টসহ (ইউএসএআইডি) বিভিন্ন বৈশ্বিক কর্মসূচি থেকে দিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের ঘোষণার পর সেসব প্রকল্পের কাজ থমকে গেছে। অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের ওআইসি প্রতিনিধি স্ট্যানলি গোয়াভুয়া বলেন, সহায়তা কমানো হলে মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অভীষ্ট অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতা ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি আহমেদ জামশিদ মোহামেদ বলেন, ২০০০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী মাতৃমৃত্যু ৪০ শতাংশ কমেছে। বিশ্বব্যাপী তহবিল হ্রাস ও ক্রমবর্ধমান সংখ্যক দেশে মানবিক সংকটের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অগ্রগতির যে উদ্বেগজনক ধীরগতি, সেটা আমাদের উপেক্ষা করা উচিত নয়।