হে ইয়াকুব, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, হে ইসরাইল, যিনি তোমাকে তৈরী করেছেন, সেই মাবুদ এখন এই কথা বলছেন, “তুমি ভয় কোরো না, কারণ আমি তোমাকে মুক্ত করেছি। আমি তোমার নাম ধরে ডেকেছি, তুমি আমার। তুমি যখন পানির মধ্য দিয়ে যাবে তখন আমি তোমার সংগে সংগে থাকব। যখন তুমি নদীর মধ্য দিয়ে যাবে, তখন সেগুলো তোমাকে ডুবিয়ে দেবে না; তুমি যখন আগুনের মধ্য দিয়ে যাবে, তখন তুমি পুড়বে না; আগুনের শিখা তোমার গায়ে লাগবে না; কারণ আমিই তোমার মাবুদ আল্লাহ্, তোমার উদ্ধারকর্তা, ইসরাইলের আল্লাহ্ পাক। আমি তোমার মুক্তির মূল্য হিসাবে মিসর দেশ দেব, আর তোমার বদলে ইথিওপিয়া ও সবা দেশ দেব। আমি তোমার বদলে অন্য লোকদের দেব আর তোমার প্রাণের বদলে অন্য জাতিদের দেব, কারণ তুমি আমার চোখে মূল্যবান ও সম্মানিত, আর আমি তোমাকে মহব্বত করি” (ইশাইয়া ৪৩ : ১–৪)
ভয় করো না কেননা আমিই (আল্লাহ) তোমাকে মুক্ত করেছি, পানি তোমাকে ডুবাতে পারবে না, কেননা সদা সর্বদা আমি তোমার সাথে রয়েছি, আমি তোমার নাম ধরে ডেকেছি, আমি তোমাকে চিনি, জানি, আগে পিছে সব খবর রেখেছি আমার নখদর্পনে, প্রত্যেকটি ব্যক্তিকে আমি গঠন দিয়েছি, সৃষ্টি করেছি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে। সকলেই আমার যোগ্য প্রতিনিধি। সকলেই যেন মুক্তামালা। সকল মুক্তগুলো একত্র না করা পর্যন্ত, একই সুতোয় না গাঁথা পর্যন্ত মালা হবে কি করে! সর্বত্র ছড়িয়ে পড়তে হবে হারিয়ে যাওয়া সবগুলো চয়ন করার জন্য। তুমি ঘরের বাহির হও, পাড়া মহল্লায়, অলিতে গলিতে, নগর জনপদে, বনবাদারে, পাহাড়ে–পর্বতে প্রত্যেকটি লোকালয়ে তন্ন তন্ন করে খুঁজে ফেরো, তুমি অবশ্যই পেয়ে যাবে। তোমার আওয়াজ শুনে তারা চেতনাদৃপ্ত হবে, সাড়া দিবে, কেননা পৃথিবীর কোথাও নেই নিরষ্কুষ শান্তি, শান্তি নেই ঘরে, নেই তা বাইরে, নেই শান্তি পথে ঘাটে, হাটে বাজারে, নেই শান্তি রাজ দরবারে, নেই প্রেক্ষাগৃহে, নেই পতীতালয়ে; পার্থীব শান্তি, ক্ষণকালের যে শান্তির বিনিময়ে গোটা জীবন চরমভাবে পস্তাতে হয়। ইনজেকশন পট্টি কোনো কিছু জ¦ালা নিভাতে পারে না। আমৃত্যু জ¦ালা, তা কখনো মৃদু, সহনীয় আবার কখনো মারাত্মক অসহ্য, কোমায় পাঠিয়ে দেয়। তবে তুমি যে অবস্থানেই থাক না কেন, আমি সর্বদা রয়েছি তোমার সাথে, তুমি বিপন্ন হবে তবে নিষ্পন্ন বা নিঃশেসিত হবে না। তোমাকে দিয়ে আমার যে বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে তা তুমি চালিয়ে যাবে আমার সাখ্যাতে; আর আমি তা সানন্দে অবলোক করে চলবো, যা আমার মনোবাসনা।
তুমি আমার কাছে অতীব পবিত্র, তোমাকে সম্মান দেখাতে বলেছি ফেরেশতাকুলকে। সকলেই তোমাকে সম্মান করেছে, কেবল অহংকারী আজাজিল বা ইবলিস আমাকে মান্য করেনি, তোমাকে সেজদা দেয় নিন, তাই সে আজীবনের জন্য হয়ে গেল অভিশপ্ত, রাগে, অভিমানে উক্ত ইবলিস জনমের দুষমন হয়ে দাড়াল মানুষের বিরুদ্ধে। মানুষের ক্ষতিসাধন করাই হলো ইবলিসের ব্রত।
ইবলিস দল পাকালো, জন মানুষকে বিভ্রান্ত করলো, মানুষের ক্ষতি সাধন করার নিমিত্তে মন্ত্রণা রচনা করলো, সত্য সুন্দরের অযুহাতে লোভাতুরা ফাঁদ পাতলো মানুষ বধ করার জন্য। যেমন সুঘ্রাণ যুক্ত টোপ দিয়ে জলে বড়শি পাতা হয় মাছ ধরার জন্য। লোভাতুরা টোপ দেখে মাছ আকৃষ্ট হয়ে উক্ত টোপ যখনই গিলে ফেলে, অমনই হয়ে গেল মাছের মৃত্যু। অবশ্য বড়শিতে গাঁথা মাছ ক্ষাণিকক্ষণ শেষ শক্তি দিয়ে বহু আষ্ফালন, ছুটভাগ করতে থাকে, তবে তেমন প্রচেষ্টা ক্রমেই মৃত্যুর কাছে টেনে নিয়ে যায়।
মাবুদ তাই আমাদের সাবধান হতে বলছেন, কিন্তু পৃথিবীর মানুষ সাবধান হয়ে আর কি করবে? বড়শিতে ফেঁসে যাওয়া মাছের মত মৃত্যু ছাড়া আর এমন কি পরিণতি অবশিষ্ট রয়েছে? তবে মানুষ যেহেতু খোদার আদর ও সম্মানে সৃষ্টি, তাঁর স্বীয় প্রতিনিধি, তাই সার্বিক অপশক্তির কবল থেকে তিনি তাকে রক্ষা করবেন, তেমন প্রতিজ্ঞা তিনি করেছেন। মানব জাতির ইতিহাস পাঠ করলে আমরা বহু ঘটনা দেখতে পাব; মহা বিপদ থেকে তিনি তাঁর মনোনীত ব্যক্তিদের আশ্চর্যভাবে রক্ষা করেছেন। যে কোনো ব্যক্তি যদি নিজের জীবনটা নিয়ে পর্যালোচনা করে তবে সে নিজেও খোদার কুদরতে, তাঁর অশেষ রহমতে বেঁচে আছে, পাবে সে খুঁজে অগণীত দৃষ্টান্ত! জগত যেক্ষেত্রে তাকে সম্পূর্ণ অকেজো মূল্যহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে, মাবুদ অমনি সাদরে বরণ করে নিয়েছেন, সর্বোত্তম দায়িত্ব তার হাতে তুলেদিয়েছেন যা দেখে জগতের লোকজন আশ্চর্য হতে বাধ্য। আর ব্যক্তি নিজেও বুঝতে পেরেছেন, তার নিজের দ্বারা কোনো কিছু সাধিত হবার নয়, সবকিছু মাবুদের দান, তাকে দিয়ে করানো হচ্ছে। মাবুদকে ব্যাতিত ব্যক্তির সার্বিক আষ্ফালন মিথ্যা আর মিথ্যা। মানুষ নিজে নিজে যা কিছু করে চলে তা আপনার আমার অজানা নয়। কোনো মোমদন্ড নিজে নিজে জ্বলতে পারে না, কোনো কলম নিজে নিজে লিখতে পারে না, মোমটাকে জ্বালাতে হয়, কেউ না কেউ ওটাকে জ্বালিয়ে দেয়, তাই তা জ্বলতে থাকে, আর কলম কোনো লেখকের হাতে নীত হয়, লিখতে থাকে, আর তা লেখকের ইচ্ছানুযায়ী; তবে মজার বিষয় হলো, লেখক গল্প, প্রবন্ধ, কবিতা পরিপূর্ণতা না দিয়ে লেখা খতম করেন না, তাকে অর্থবহ লেখা লিখতে হয়। তাই মাবুদ যে কাজ করার দায়িত্ব আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন তা শেষ না করা অবধি তিনি আমাদের দায়মুক্তি দিবেন না। “আমার এই বিশ্বাস আছে, তোমাদের দিলে যিনি ভাল কাজ করতে শুরু করেছেন তিনি মসীহ্ ঈসার আসবার দিন পর্যন্ত তা চালিয়ে নিয়ে শেষ করবেন”(ফিলিপীয় ১:৬), “এর দু’দিন পরে গালীলের কান্না গ্রামে একটা বিয়ে হয়েছিল। ঈসার মা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সেই বিয়েতে ঈসা এবং তাঁর সাহাবীরাও দাওয়াত পেয়েছিলেন। পরে যখন সমস্ত আংগুর–রস ফুরিয়ে গেল তখন ঈসার মা ঈসাকে বললেন, “এদের আংগুর–রস নেই।” ঈসা তাঁর মাকে বললেন, “এই ব্যাপারে তোমার সংগে আমার কি সম্বন্ধ? আমার সময় এখনও হয় নি।” তাঁর মা তখন চাকরদের বললেন, “ইনি তোমাদের যা করতে বলেন তা–ই কর।” ইহুদী শরীয়ত মত পাক–সাফ হবার জন্য সেই জায়গায় পাথরের ছয়টা জালা বসানো ছিল। সেগুলোর প্রত্যেকটাতে কমবেশ পঁয়তাল্লিশ লিটার করে পানি ধরত। ঈসা সেই চাকরদের বললেন, “এই জালাগুলোতে পানি ভরে দাও। চাকরেরা তখন জালাগুলো কানায় কানায় পানি ভরে দিল। তারপর ঈসা তাদের বললেন, “এবার ওখান থেকে অল্প তুলে মেজবানীর কর্তার কাছে নিয়ে যাও।” চাকরেরা তা–ই করল। সেই আংগুর–রস, যা পানি থেকে হয়েছিল, মেজবানীর কর্তা তা খেয়ে দেখলেন। কিন্তু সেই রস কোথা থেকে আসল তা তিনি জানতেন না; তবে যে চাকরেরা পানি তুলেছিল তারা জানত। তাই মেজবানীর কর্তা বরকে ডেকে বললেন, “প্রথমে সকলে ভাল আংগুর–রস খেতে দেয়। তারপর যখন লোকের ইচ্ছামত খাওয়া শেষ হয় তখন যে রস দেয় তা আগের চেয়ে কিছু খারাপ। কিন্তু তুমি ভাল আংগুর–রস এখনও পর্যন্ত রেখেছ।” ঈসা গালীল প্রদেশের কান্না গ্রামে চিহ্ন হিসাবে এই প্রথম অলৌকিক কাজ করে নিজের মহিমা প্রকাশ করলেন। এতে তাঁর সাহাবীরা তাঁর উপর ঈমান আনলেন।”(ইউহোন্না ২: ১–১১)
বিয়ের ভোজ, আংগুর রস ফুরিয়ে যাওয়া, পরিবেশনকারী ভোক্তাবৃন্দ পাক–সাফ হবার জন্য ৬টি পাথরের পানি রাখার জালা, মসীহের হুকুম মোতাবেক পদক্ষেপ অর্থাৎ তাঁর বাধ্য থাকা, জালা জলে পূর্ণ করণ, মসীহের আজ্ঞা। জালা থেকে তুলে পরিবেশন করা, রহস্য কেবল পরিবেশক দলের জানা ছিল, ভোক্তাগণ কিছুই জানতেন না, জল কেমন করে আংগুর রসে রূপান্তরিত হলো? ভোক্তাদের পরিবর্তন ঘটলো না, পরিবেশকদের বাহ্যিক কোনো পরিবর্তন ঘটলো না, ৬টি পাথরের জালা যেমন ছিল তেমনই থেকে গেল কেবল জলটুকুই রূপান্তরিত হলো আংগুর রসে আর তা পুর্বের আংগুর রসের চেয়ে অধিক উত্তম ছিল। মানব সমাজে মসীহ যে পরিবর্তন বয়ে আনেন তা কোনো বাহ্যিক পরিবর্তন নয়; সম্পূর্ণ বিশ্বাসের পরিবর্তন, ধ্যান ধারণার পরিবর্তন, মন–মানসিকতার পরিবর্তন, চিন্তা–চেতনার পরিবর্তন, আচরণবিধির পরিবর্তন, সম্পর্কের পরিবর্তন। মাবুদের সৃষ্ট মানুষ অবয়বে থাকবে পূর্বের মত; পূর্বে তারা ধ্বংসাত্মক ইবলিসের কব্জাবন্দী ছিল, মাবুদ তাদের মুক্ত করলেন, স্বাধীন করলেন, উপহার দিলেন অনন্ত সহায় পাকরূহকে, ফলে আজ তারা রূপান্তরিত হলো খোদার মনোনীত আদুরে ও সম্মানের দূতে, যাদের হাতে তিনি দায়িত্ব তুলে দিলেন অমানিশায় ডুবে থাকা লোকদের আলোর রাজ্যে হাজির করার জন্য; তাদের মধ্যে স্থাপিত বদ্ধমূল ভ্রান্ত কুসংস্কারচ্ছন্ন ধারণার ঘটলো পরিবর্তন, যার ফলে পরিবর্তীত ব্যক্তির জানাশোনা মহল আশ্চর্য হয়ে বলতে শুরু করে কিশের পুত্রের কি হলো (১ম শমুয়েল ১০ : ১১)। একইভাবে ব্যক্তির রূহানী পরিবর্তনের সাথে সাথে তার পুরানো চেনাজানা লোকজন আশ্চর্য হয়ে পরষ্পর বলাবলি করতে থাকবে। উক্ত ব্যক্তির জীবনে এমন কি ঘটেছে যার ফলে তার আচরণমালা এমন পরিবর্তিন হয়ে গেল? ব্যক্তিকে সকলেই প্রশ্ন করে চলবে এমন পরিবর্তনের উপায় বা রহস্য কি? পরিবর্তিত ব্যক্তি তখন প্রকৃত জবাব গুছালোভাবে দিতে পারবে। ফলে জবাব শুনে সকলেই মোহীত হবে, এবং নিজেদের নোংরা জীবনের পরিবর্তন ঘটাতে আগ্রহী হবে (১পিতর ৩:১৫) উৎসাহ পাবে, মনে সাহস জাগবে, কর্মে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিতে পারবে “আমি তোমাকে হুকুম দিয়েছি, কাজেই তুমি শক্তিশালী হও ও মনে সাহস আন। ভয় কোরো না কিংবা নিরাশ হোয়ো না, কারণ তুমি যেখানেই যাও না কেন তোমার মাবুদ আল্লাহ্ তোমার সংগে থাকবেন।”(ইউসা ১:৯), “যারা তালুতকে আগে থেকেই চিনত তারা তাঁকে নবীদের সংগে আল্লাহর দেওয়া কথা বলতে দেখে একে অন্যকে বলতে লাগল, “কীশের ছেলের এ কি হল? তালুতও কি তবে নবীদের মধ্যে একজন”(১শমুয়েল ১০:১১)
প্রিয় পাঠক, আপনি যখন আপনার নিজের জীবনে এমন কিছু অত্যাচার্য অপ্রকৃতিক ঘটনা ঘটতে দেখেন, তখন মনে মনে প্রশ্ন জাগে কিনা বলুন। মাবুদ যিনি আপনাকে অতি আশ্চর্যরূপে সৃষ্টি করেছেন, তাঁর কি অধিকার নেই আপনাকে দিয়ে তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার? যে মোমটি আপনি ক্রয় করেছেন, রাতের আঁধারে ওটিকে জ্বালিয়ে আলো পাবার অধিকার রয়েছে সংরক্ষিত। অবশ্য দিবালোকে কেউ মোম জ্বালায় না। যে কলমটি ক্রয় করেছেন, ওটি দিয়ে প্রেমপত্র লিখতে ঠেকাবার কেউ আছে কি? মাবুদ সত্য–সুন্দর, পূতপবিত্র, তাঁর সংগ লাভ করার জন্য আপনাকেও পূতপবিত্র হতে হবে। কর্মক্লান্ত শরীরে আপনার পক্ষে উচিত হবে না সাধুজনের সাথে সংগ লাভ করার। তাই আপনি যদি অবগাহন নিতে চান, বাহ্যিকভাবে পরিষ্কার হবার জন্য, তবে তাতে কোনো বাধা থাকার কথা নয়। একইভাবে পবিত্র প্রভুর কাছে আসতে চাইলে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করতে চান, অনুতপ্ত হতে বাসনা করেছেন, তাতে সাধুবাদ না জানিয়ে পারি কি করে?
অতীতে নবীদের জীবনে যে সকল অলৌকিক ঘটনা ঘটতে দেখা যায়, আপনার জীবনে কি তেমন কোনো ঘটনা ঘটতে দেখেছেন? একটু মনে করুন, প্রচুর খুঁজে পাবেন। কয়েক হাজার উগ্র জনতা মারমুখী স্লোগান দিয়ে আপনার উপর হামলে পড়েছে, আপনাকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে ছাড়বে, তাদের এলাকা থেকে খ্রীষ্টের নাম সম্পূর্ণ মুছে ফেলবে, বাস্তবে আপনার কর্মস্থল ভেঙ্গে চুড়ে তথা লুটপাট করে এক বিরাণভূমে পরিণত করে দিল। তারপরও আপনার মত একটি ক্ষুদে প্রদীপ নিয়ত জ্বলে আছে, সাধ্যমত আলো ছড়াচ্ছে, অন্ধকার দূর করে ফিরছে, এমন ঘটনা কি কম আশ্চর্যের বিষয়? চর্তুদিক দিয়ে ঘিরে ধরল আপনাকে, পারাপারের ফেরি থেকে নদীবক্ষে ফেলে দিবে, অপরাধ, আপনি নাজাতের অমীয় বাণী প্রচার করে চলছেন। ক্ষুদে মানুষ আপনি, অবশ্যই ভয় পাবার কথা, কিন্তু কোথা থেকে এক বীরবাহু পালোয়ান এসে হাজিরর, মুহুর্তে মারমূখী জনতা ছড়িয়ে দিলেন আর আপনাকে নিরাপদ স্থানে বসিয়ে দিলেন। তেমন পরাক্রমী ব্যক্তিকে সাহায্যের জন্য নিজে ডেকে এনেছিলেন না যার নাম প্রচার করে ফিরছেন, অদৃশ্য শক্তিধর হস্ত দিয়ে তিনি আপনাকে সুরক্ষা দিয়েছিলেন? ভয় পাবেন না, কেবল বিশ্বাস রাখুন। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী কোনো শক্তি আপনাকে বিনাশ করার অধিকার রাখে না। মাবুদের সমান শক্তি প্রজ্ঞা ধার্মিকতা আর কার বা হাতে আছে? তিনি ওয়াদা করে অন্যথা করেন না। তিনিই দানিয়েলকে মহাশ্চার্যভাবে রক্ষা করেছেন।
মাবুদের উপর থাকতে হবে আমাদের নির্জল বিশ্বাস। তিনি সর্বদর্শী, সর্বশক্তিমান ও সর্বত্র বিরাজমান প্রেমের এক অফুরাণ পারাবার, নির্দ্বিধায় তা সকলেই স্বীকার করে থাকে। মোমদন্ড তৈরি করাই হয় প্রধানত জ্বালিয়ে আলো পাবার জন্য; আর আলো জ্বালার বোনাস হলো অন্ধকার দূরীভুত হওয়া। মূলত: অন্ধকার মানে আলোর অনুপস্থিতি। যেস্থানে আলো থাকে না তা অবশ্যই হবে অন্ধকারেপূর্ণ, আলো জ্বালানোর সাথে সাথে উক্ত স্থানটি হয়ে গেল অন্ধকার মুক্ত। মসীহে বিশ্বাসী প্রত্যেকটি ব্যক্তিকে আলোর সাথে তুলনা করা হয়েছে “তোমরা দুনিয়ার আলো। পাহাড়ের উপরের শহর লুকানো থাকতে পারে না”(মথি ৫:১৪)। আসলেও যাদের মধ্যে মসীহ বাস করেন তারা অন্ধকারে তো থাকেই না, উপরন্তু চারপাশের অমানিশা দূর করে দেয়। মসীহে বিশ্বাস স্থাপনকারী ব্যক্তি হয়ে গেল খোদার সন্তান, নতুন সৃষ্টি, যাকে অভিষিক্ত পাকরূহ নিয়ত পরিচালনা দান করে চলছেন। “প্রিয় বন্ধুরা, তোমাদের যে এখন অগ্নি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে তাতে আশ্চর্য হয়ে মনে কোরো না যে, তোমাদের উপর অদ্ভুত কিছু একটা হচ্ছে। তার চেয়ে বরং তোমরা যে মসীহের দুঃখভোগের ভাগ নিচ্ছ তাতে আনন্দিত হও, যেন তাঁর মহিমা যখন প্রকাশিত হবে তখন তোমরা আনন্দে পূর্ণ হও।”(১ম পিতর ৪ :১২–১৩), “কিন্তু সেই সত্যের রূহ্ যখন আসবেন তখন তিনি তোমাদের পথ দেখিয়ে পূর্ণ সত্যে নিয়ে যাবেন। তিনি নিজ থেকে কথা বলবেন না, কিন্তু যা কিছু শোনেন তা–ই বলবেন, আর যা কিছু ঘটবে তাও তিনি তোমাদের জানাবেন।”(ইউহোন্না ১৬:১৩)