এবাদত হতে পারে এক প্রকার ভক্তিশ্রদ্ধা প্রকাশ; যিনি আপনার কাছে মহান, যাকে আপনি সম্মান প্রদর্শন করে থাকেন, যার বিষয় আপনি এক বিশেষ ধারণা রাখেন, আপনি তাঁর বিষয়ে জানতে পেরেছেন, কেবল আপনার কল্যানের জন্যই তিনি সদা থাকেন ব্যস্ত, আপনাকে প্রকৃত মানুষরূপে গড়ে তুলতে নিরলস শ্রম সাধনা করে চলছেন, এবং রয়েছে আপনার সাথে তাঁর হার্দিক মধুময় সম্পর্ক, তাঁকে অবশ্যই আপনি ভালবাসবেন, তাঁর উপর নির্ভর করবেন, প্রয়োজনের মুহুর্তে তাঁকে স্মরণ করবেন এবং বিপন্ন অবস্থায় তাঁর শরণ নিবেন, যা হলো উভয়ের মধ্যে প্রেমপূর্ণ মৌলিক সম্পর্ক! অজানা অচেনা ব্যক্তির ক্ষেত্রে তেমন প্রেমাপ্লুত সুহৃদ সম্পর্ক কষ্মিনকালেও গড়ে ওঠে না, এবং তা কামনা করাও যৌক্তিক হবার নয়।
কেবল আন্দাজ অনুমানের উপর ভিত্তি করে দূরের কোনো অজানা অচেনা ব্যক্তির সাথে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে না। সম্পর্ক স্থাপনকল্পে থাকা চাই উভয়ের মধ্যে নিখাাদ নিখুঁত জানা শোনা; অবশ্যই তা হতে হবে সুদীর্ঘকালের পরিচিতি, যা হবে বিপদে আপদে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা।
তাছাড়া, আপনার সেই প্রেম–পাত্র হতে হবে আপনার মত এক হৃদয়বান ব্যক্তি, যার কাছে আপনি আদর ও সম্মানের যোগ্য, তিনি যদি রক্তমাংসের কোনো সত্ত¡াধিককারী হয়ে থাকেন তবে আপনাদের মধ্যে গড়ে ওঠা সম্পর্কের সেতু কখনোাই চিরস্থায়ী হবে না, যা নেহাায়েত ক্ষণকালের আয়ুষ্কালের উপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য। আর আপনার প্রেম পাত্র যদি অনন্তকাল স্থায়ী কোনো রূহানী সত্ত¡া হয়ে থাকেন, তবে আপনার দেহ ত্যাগ করার পরেও আত্মার সাথে আত্মার মধুময় সম্পর্ক চিরকাল অটুট থাকবে। আপনার স্বজন–প্রিয়জন যে মনোভাব পোষণ করে তেমন মন–মানষিকতা যখন আপনাকে প্রীত করে, তেমন ক্ষেত্রে উভয়ের মধ্যে প্রেম সেতু প্রতিষ্ঠা পেতে এবং তা স্থায়ী হতে কোনো বেগ পাবার কথা নয়। কিন্তু বিপরীতক্রমে, উভয়ের চরিত্র যদি দ্ইু মেরুর মত অবস্থানরত থাকে, তবে তারা কখনোই এক কাতারে এক আসরে অবস্থান করার সুযোগ পাবে না।
মনে করুন, বিশ^মানবের প্রতি আপনার হৃদয়ে রয়েছে অফুরাণ দরদ ও প্রেম, আর আপনার সহযোগী ব্যক্তিটি হলো মানবতা বিধ্বংসী এক অপশক্তি, তেমন ক্ষেত্রে আপনাদের সহযাত্রা কতদিন বা কতদূর পর্যন্ত টিকে থাকবে? আমি মনে করি পরষ্পরের চরিত্র প্রকাশ হবার সাথে সাথে তেমন সম্পর্ক সম্পূর্ণ ভেঙ্গে যাবে। যার ফল দাঁড়াবে পূর্বের অবস্থান থেকে বর্তমান অবস্থান বদতরীন হতে বাধ্য। আপনাদের শুভ পরিণয় যখন অশুভ লঙ্কাকান্ডে পরিণত হতে দেখবে, তখন প্রত্যক্ষদর্শীরা বলতে বাধ্য হবে, “আগের আবস্থ্ইা ভালো ছিল। ধোয়ার চেয়ে আধোয়া ছিল ভালো, ধুইতে ধুইতে সব গেল”।
এবার কোনো কিছু করার পূর্বে আমাদের অবশ্যই পূর্ব পরিচিতি পেতে হবে। আমাদের জানতে হবে, কার সাথে আমরা সংগ স্থাপন করব। সাধারণ প্রবণতা হলো, মানুষ নিজে যে পর্যায়েরই থাক না কেন সঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সদা থাকে হুশিয়ার, পেতে চায় সর্বাঙ্গীন সুন্দর একজন সহযোগী। কথায় বলে ‘দাল মে কুছ কালা হায়’ অর্থাৎ সাধুর বেশে প্রতারকের আবির্ভাব। তেমন ক্ষেত্রে তাদের মোনাফেক বা ধোকাবাজ বলে সকলে ঘৃণাভবে পরিত্যাগ করে। প্রেম, শ্রদ্ধাভক্তি বা সমাদর তেমন ক্ষেত্রে থেকে গেল সুদূর পরাহত।
আমি ইতোপূর্বে বলেছি, সাধুর বেশে দুরাচরের ভুমিকা যা পার্থিব সহায় সম্পদের স্বার্থে করে থাকে। যেমন কাবিল ভ্রাতা হাবিলকে হত্যা করল কেবল ইহজাগতিক লোলুপতা চরিতার্থ করার জন্য। অবশ্য তাদের পিতা মাতা (আদম–হাওয়া) খোদার অবাধ্য হয়ে খোদাদ্রোহী পাপাচারে লিপ্ত হয়ে পড়লো ইতোমধ্যে। খোদার সাথে স্থাপিত হার্দিক সম্পর্ক বিনাশপ্রাপ্ত হয়ে গেল, বিপরীতক্রমে সখ্যতা স্থাপিত হলো অভিশপ্ত ইবলিসের সাথে যে কিনা একদিকে খোদার দুষমন আর অন্যদিকে মানবতার শত্রæ, মানুষের ক্ষতিসাধন করা হলো যার চিরস্থায়ী ব্রত। বর্তমান বিশ^, স্বীকার করুন আর নইবা করুন, অবিকল একটা নরকপুরী। বিশৃঙ্খল হতদরিদ্র দেশটি মোটামুটি শান্তি শৃঙ্খলা ও সমৃদ্ধির মুখ দেখতে শুরু করেছিল, কিন্তু কোথাকার কোন বৃদ্ধ গৃর্ধ এসে হাজির; বিষাক্ত নখর ও চঞ্চু দিয়ে দেশটাকে ছারখার করে দিল। শিক্ষাঙ্গনে প্রজন্ম ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল, ভক্তি–শ্রদ্ধা, গুরুজনের প্রতি মান–সম্মান হারিয়ে হলো আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত, নিয়মিত পাঠদান হলো ব্যহত; এ যেন জীবন সংহারকারী মারাত্মক বিষ শরীরের সর্বত্র নিমিশেই ছড়িয়ে পড়লো, আর আক্রান্ত ব্যক্তি দ্রæত ঢলে পড়লো অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর কোলে। অভিশপ্ত ইবলিস কারো ভালো চায় না, তা আমাদের জানা থাকতে হবে। কতিপয় মন্ত্রবেত্তাগণ নিজেদের ক্ষণকালীন হীনস্বার্থ আদায়ের জন্য ইবলিসের সুরে সুর মিলাতে দেখেছি, কিন্তু তাতে যে পুরো সমাজ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছে এবং বিষবাস্পে নিজেরাও যেভাবে হচ্ছে আক্রান্ত, সম্ভবত তা তাদের বিবেক বিবেচনায় ধরা পড়ার কথা নয়। কথায় বলে, মোহান্ধ অবশ্যই নিজের অজান্তে আপন ক্ষতি করে বসে।
আমাদের মৌলিক বিষয় হলো আরাধ্য দেবতা খুঁজে নেয়া। আমরা সকলেই ক্ষণজন্মা পুরুষ, ক্ষণভঙ্গুর আমাদের জীবন। অথচ আমরা জানতে পেরেছি, আমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে অবিনশ^র সর্বদর্শী সর্বসুন্দর মাবুদের প্রতিরূপে, তারই প্রতিনিধিত্ব করার জন্য। মাবুদ হলেন অদৃশ্য সত্ত¡া, যিনি প্রেম, ক্ষমা ও সহমর্মীতার অফুরান ফল্গুধারা, আছেন অবস্থানরত অনন্তকাল জুড়ে যিনি হলেন এক মহাশক্তিধর নির্মাতা। তাঁর মূল সত্ত¡া বা চরিত্র হলো প্রেম। কেবল প্রেমের তাগিদে এবং নিজেকে জনসমক্ষে বিকাশ করার নিমিত্তে দৃশ্যমান মানুষ সৃষ্টি করেছেন। দিয়েছেন তাদের প্রজ্ঞা, ধার্মিকতা, প্রেম ও সহমর্মীতা। দুঃখের বিষয় হলো, কবি নজরুল যেমন আক্ষেপ করে বলেছেন, “অন্নদা সূত ভিক্ষা চায়”। মাবুদের সুরতে গড়া ঐশি প্রতিনিধি আজ পুরোটা ইবলিসাশ্রিত, যাদের মাথায় গুঁজে দেয়া হয়েছে বিনাশের মন্ত্রনা, কে কাকে কিভাবে বিনাশ করবে, নিরন্তর চলছে তেমন সাধনা। বিভিন্ন দেশের গবেষণালব্ধ মারণা¯্রগুলো আদিশকৃত ও সৃষ্ট হচ্ছে কেবল সভ্যতা মানবতা নিধন করার জন্যই! যদি এমন হতো, আমরা কাওকে আক্রমন করবোনা আর কারো দ্বারা আক্রান্তও হবোনা, তবে সমাজটা অবশ্যই বদলে যেত।
মানুষ মানুষকে আন্তরিকভাবে বিশ^াস করতে না পারার কারণে বর্তমানকার রেষারিষি দৃষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া আত্মকেন্দ্রিকতা, স্বার্থপরতা তথা অন্যকে তুচ্ছজ্ঞান করার কারণেও স্বাভাবিক সহমর্মীতা সমাজ দেহ থেকে কর্পূরের উবে গেছে। যদিও একই আদমের ঔরষ থেকে সকল মানুষের জন্ম হয়েছে, সকল মানুষের ক্ষুৎপিপাসা মৌলিক দিক দিয়ে একই পর্যায়ে পড়ে, তারপরেও একই প্লাটফর্মে তারা বসবাস করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করছে না। খোদার নজরে সকলে সমান, যেমন তিনি স্বীয় কালামে প্রকাশ করেছেন। “পরে আল্লাহ্ তাঁর মত করেই মানুষ সৃষ্টি করলেন। হ্যাঁ, তিনি তাঁর মত করেই মানুষ সৃষ্টি করলেন, সৃষ্টি করলেন পুরুষ ও স্ত্রীলোক করে।” (পয়াদায়েশ ১:২৭), “ইহুদী ও অ–ইহুদীর মধ্যে, গোলাম ও স্বাধীন লোকের মধ্যে, স্ত্রীলোক ও পুরুষের মধ্যে কোন তফাৎ নেই, কারণ মসীহ্ ঈসার সংগে যুক্ত হয়ে তোমরা সবাই এক হয়েছ (গালাতীয় ৩:২৮)”। সতীর্থ, সহকর্মী, সহযোগী প্রভৃতি যাদের সাথে নিত্যদিন ওঠাবসা চলাফেরা করা প্রয়োজন, তেমন সঙ্গী পেতে আমাদের কোনো দস্যু, চোর তষ্কর, নরঘাতক, ডাকাত বাছাই করা ঠিক হবে না। তবে সমাজ দেহে তেমন লোকদের শিক্ষাদিক্ষা দিয়ে নীতিগতভাবে প্রকৃত মানুষ হিসেবে মানুষের কাতারে ফিরিয়ে আনার জন্য নৈতিক শিক্ষা দান করে যেতে হবে। কথায় আছে, পাপ ঘৃণা করো পাপীকে নয়। আর হেদায়েত কখনোই মুন্ডুপাত হতে পারে না। কে কাকে হেদায়েত করার অধিকার রাখে? যিনি নিজে অপরাধী তার পক্ষে আর এক অপরাধীকে অপরাধ প্রবণতা থেকে ফিরাবে কি করে? হেদায়েত করাতো তাকেই মানায় যিনি তাঁর গোটা জীবন সম্পূর্ণ নিষ্পাপ হিসেবে কাটিয়ে দিতে পেরেছেন। যিনি মানুষকে আঘাত করার জন্য আবির্ভুত নন, বরং আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সুস্থ্য করার জন্য নিজের জীবন দিয়ে মাসুল দিয়েছেন। সতীর্থ খুঁজতে হবে তেমন ব্যক্তিকে। অবশ্য যিনি মানুষের কল্যাণ সাধনে থাকেন সদাব্যস্ত, তিনি ব্যস্ত রয়েছেন বিপন্ন মানুষ খুঁজে পেতে। উদাত্ত কণ্ঠে তিনি ডাক দিয়ে ফিরছেন, “তোমরা যারা ক্লান্ত ও বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছ, তোমরা সবাই আমার কাছে এস; আমি তোমাদের বিশ্রাম দেব” (মথি ১১ : ২৮), “যারা হারিয়ে গেছে তাদের তালাশ করতে ও নাজাত করতেই ইবনে–আদম এসেছেন” (লুক ১৯:১০)।
গোটা বিশ^বাসির মধ্যে মাত্র একজনই মানুষ রয়েছেন যিনি হলেন সম্পূর্ণ বেগুনাহ, যার মধ্যে কোনো অপরাধ প্রবণতা স্থান পায় নি, যিনি মানুষের কল্যাণের জন্য রয়েছেন শতত: ব্যস্ত। তিনি যতদিন মানবদেহে আমাদের মধ্যে বিচরণ করেছেন ততদিন দেখেছি মানব ¯্রষ্টা খোদার আজ্ঞামাফিক মানব সেবা করে জীবন কাটিয়েছেন। তিনি জন্মান্ধের চোখ খুলে দিয়েছেন, মৃতকে জীবন দান করেছেন, পীড়িতকে মুখের কথায় সুস্থ্য করে তুলেছেন, অপরিমেয় রুজী দান করেছেন, ভ্রান্ত শিক্ষকদের ন্যায়, সত্য ও সুন্দরের প্রকৃত পথ দেখিয়ে দিয়েছেন, মানুষের মধ্যে সার্বিক বিভক্তি দূর করার পথ দেখিয়ে দিয়েছেন। তাঁকে বিশ^াস ও অনুসরণ করে মানুষ প্রকৃত জীবন ফিরে পেয়েছে। আর তিনি নিজেও মরণ জয় করে পুনরায় জীবিত হয়ে বর্তমান বিশে^ সকল মানুষের হৃদয়দ্বারে দাঁড়িয়ে আহŸান করে ফিরছেন। যদি কেউ আওয়াজ শুনতে পায় এবং তাঁর ডাকে সাড়া দেয় তবে তার সাথে তিনি বসবাস করবেন এবং তাকে দান করবেন অনন্তজীবন, অর্থাৎ পরিপূর্ণ জীবন, পিতার সাথে পুনমির্লিত সাস্বত জীবন। “দেখ, আমি দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আঘাত করছি। কেউ যদি আমার গলার আওয়াজ শুনে দরজা খুলে দেয় তবে আমি ভিতরে তার কাছে যাব এবং তার সংগে খাওয়া–দাওয়া করব, আর সে–ও আমার সংগে খাওয়া–দাওয়া করবে।”(প্রকাশিত কালাম ৩:২০)
তিনি হলেন ঐশি মানব, পাকরূহের মানবরূপ প্রকাশ, যার হাতে রয়েছে গোটা বিশে^র উপর একচ্ছত্র আধিপত্য, যিনি হলেন শেষ বিচার দিনের প্রধান বিচারক। যেমন কিতাবে বর্ণীত রয়েছে; “ইবনে–আদম সমস্ত ফেরেশতাদের সংগে নিয়ে যখন নিজের মহিমায় আসবেন তখন তিনি বাদশাহ্ হিসাবে তাঁর সিংহাসনে মহিমার সংগে বসবেন। সেই সময় সমস্ত জাতির লোকদের তাঁর সামনে একসংগে জমায়েত করা হবে। রাখাল যেমন ভেড়া আর ছাগল আলাদা করে তেমনি তিনি সব লোকদের দু’ভাগে আলাদা করবেন। তিনি নিজের ডান দিকে ভেড়াদের আর বাঁ দিকে ছাগলদের রাখবেন। “এর পরে বাদশাহ্ তাঁর ডান দিকের লোকদের বলবেন, ‘তোমরা যারা আমার পিতার দোয়া পেয়েছ, এস, দুনিয়ার শুরুতে যে রাজ্য তোমাদের জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে তার অধিকারী হও। যখন আমার খিদে পেয়েছিল তখন তোমরা আমাকে খেতে দিয়েছিলে; যখন পিপাসা পেয়েছিল তখন পানি দিয়েছিলে; যখন মেহমান হয়েছিলাম তখন আশ্রয় দিয়েছিলে; যখন খালি গায়ে ছিলাম তখন কাপড় পরিয়েছিলে; যখন অসুস্থ হয়েছিলাম তখন আমার দেখাশোনা করেছিলে; আর যখন আমি জেলখানায় বন্দী অবস্থায় ছিলাম তখন আমাকে দেখতে গিয়েছিলে।’ “তখন সেই আল্লাহ্ভক্ত লোকেরা জবাবে তাঁকে বলবে, ‘প্রভু, আপনার খিদে পেয়েছে দেখে কখন আপনাকে খেতে দিয়েছিলাম বা পিপাসা পেয়েছে দেখে পানি দিয়েছিলাম? কখনই বা আপনাকে মেহমান হিসাবে আশ্রয় দিয়েছিলাম, কিংবা খালি গায়ে দেখে কাপড় পরিয়েছিলাম? আর কখনই বা আপনাকে অসুস্থ বা জেলখানায় আছেন জেনে আপনার কাছে গিয়েছিলাম?’ “এর জবাবে বাদশাহ্ তখন তাদের বলবেন, ‘আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, আমার এই ভাইদের মধ্যে সামান্য কোন একজনের জন্য যখন তা করেছিলে তখন আমারই জন্য তা করেছিলে।’ “পরে তিনি তাঁর বাঁ দিকের লোকদের বলবেন, ‘ওহে বদদোয়াপ্রাপ্ত লোকেরা, আমার কাছ থেকে তোমরা দূর হও। ইবলিস এবং তার ফেরেশতাদের জন্য যে চিরকালের আগুন প্রস্তুত করা হয়েছে তার মধ্যে যাও। যখন আমার খিদে পেয়েছিল তখন তোমরা আমাকে খেতে দাও নি; যখন পিপাসা পেয়েছিল তখন পানি দাও নি; যখন মেহমান হয়েছিলাম তখন আশ্রয় দাও নি; যখন খালি গায়ে ছিলাম তখন আমাকে কাপড় পরাও নি; যখন অসুস্থ হয়েছিলাম এবং জেলখানায় বন্দী অবস্থায় ছিলাম তখন আমাকে দেখতে যাও নি।’ “তখন তারা তাঁকে বলবে, ‘প্রভু, কখন আপনার খিদে বা পিপাসা পেয়েছে দেখে, কিংবা মেহমান হয়েছেন দেখে, কিংবা খালি গায়ে দেখে, কিংবা অসুস্থ বা জেলখানায় আছেন জেনে সাহায্য করি নি?’ “জবাবে তিনি তাদের বলবেন, ‘আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, তোমরা যখন এই সামান্য লোকদের মধ্যে কোন একজনের জন্য তা কর নি তখন তা আমার জন্যই কর নি।’” তারপর ঈসা বললেন, “এই লোকেরা অনন্ত শাস্তি পেতে যাবে, কিন্তু ঐ আল্লাহ্ভক্ত লোকেরা অনন্ত জীবন ভোগ করতে যাবে।”(মথি ২৫:৩১–৪৬) “যে আমাকে অগ্রাহ্য করে এবং আমার কথা না শোনে তার জন্য বিচারকর্তা আছে। যে কথা আমি বলেছি সেই কথাই শেষ দিনে তাকে দোষী বলে প্রমাণ করবে; ”(ইউহোন্না ১২:৪৮) “কারণ তিনি এমন একটা দিন ঠিক করেছেন যে দিনে তাঁর নিযুক্ত লোকের দ্বারা তিনি ন্যায়ভাবে মানুষের বিচার করবেন। তিনি সেই লোককে মৃত্যু থেকে জীবিত করে তুলে সব মানুষের কাছে এর প্রমাণ দিয়েছেন।”(প্রেরিত ১৭:৩১)